বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মেসির আর্জেন্টিনা

প্রকাশিতঃ 12:02 am | December 19, 2022

স্পোর্টস ডেস্ক, কালের আলো:

অবশেষে অপেক্ষার শেষ। ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৪-২ গোলে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। দুর্দান্ত ফাইনালে অবসান টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে জিতে বিশ্বকাপ নিয়ে গেল ফ্রান্স। বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও ট্র্যাজিক হিরো থাকতে হল কিলিয়ান এমবাপেকে।

লুইসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল মহারণে লড়াইয়ের আগে ফেভারিটের তকমা ছিল ফ্রান্সের গায়ে। সেটা হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ ৪ বছর আগেই বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল তারা। কিন্তু মূল লড়াইয়ে বিশ্ব দেখল আর্জেন্টিনার দাপট। কি বল দখল, কি আক্রমণ—আর্জেন্টিনার দাপট ছিল সর্বত্র।

পুরো ম্যাচে ৫৪ ভাগ সময় বল দখলে রেখে ২০বার আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। যার মধ্যে অনটার্গেট শট ছিল ১০টি। অন্যদিকে ম্যাচের প্রথমার্ধে একবারও আক্রমণে যেতে না পারা ফ্রান্স বাকি সময়ে ১০ বার আক্রমণে যায়। তাতেই বাজিমাত হয়ে যায়।

পুরো ম্যাচে —- ভাগ সময় বল দখলে রেখে –বার আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। যার মধ্যে অনটার্গেট শট ছিল –টি। অন্যদিকে ম্যাচের প্রথমার্ধে একবারও আক্রমণে যেতে না পারা ফ্রান্স দ্বিতীয়ার্ধে –বার আক্রমণে যায়।

৪-৪-২ ফরমেশনে মাঠে নামা আর্জেন্টিনা ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। আক্রমণে উঠে পঞ্চম মিনিটে নেয় প্রথম শট। তবে অ্যালিস্টারের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দিতে ভুল করেননি হুগো লরিস। ১৭তম মিনিটে সুযোগ হাতছাড়া করেন ডি মারিয়া। প্রতিপক্ষের ডি বক্সে বল পেয়ে তিনি মারলেন ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে।

তবে গোলের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়নি আর্জেন্টিনার। ম্যাচের বয়স তখন ২১ মিনিট। প্রতিপক্ষের ডি বক্সে বল নিয়ে ঢুকে যান ডি মারিয়া। কিন্তু ওই মুহূর্তে ডি মারিয়াকে পেছন থেকে ফাউল করে বসেন উসমান দেম্বেলে। পেনাল্টির সুযোগ পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

পেনাল্টির সুযোগ হাতছাড়া করেননি লিওনেল মেসি। সফল স্পট কিকে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন অধিনায়ক। এবারের বিশ্বকাপে এটি মেসির ১২তম গোল। স্পর্শ করলেন ফুটবল কিংবদন্তি পেলেকে। গোল করায় তাঁদের চেয়ে এগিয়ে কেবল আর চারজন।

এগিয়ে যাওয়ার আমেজ শেষ না হতেই ফের গোল উৎসব। এবার পেনাল্টি নয়, নায়ক বনে যান কোপা আমেরিকা জেতানো ডি মারিয়া। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ডি মারিয়ার পা থেকে আসে পরের গোলটি। এখানেও আছেন মেসি। মাঝমাঠে থেকে বল এগিয়ে দেন তিনি। পাস পেয়ে আলভারেজ বাড়ান ম্যাক অ্যালিস্টারকে। তাঁর পাস বক্সে বাঁ দিক থেকে চোখ ধাঁধানো শট নেন ডি মারিয়া। ফ্রান্স গোলকিপার হুগো লরিসের ফ্রান্স গোলকিপার হুগো লরিসের কিছুই করার ছিল না।

২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণে দাপট ছিল তাদের। কিন্তু শেষ ১০ মিনিটে খেলা ঘুরিয়ে দিলেন এমবাপ্পে। ৮০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে করলেন প্রথম গোল, পরের মিনিটেই দিলেন দ্বিতীয় গোল। তাতেই এলোমেলো হয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়বার জালে বল পাঠিয়ে টুর্নামেন্টে সপ্তম গোল স্পর্শ করেন এমবাপ্পে। মেসিকে ছাপিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যান তিনি। ফ্রান্স সমতায় ফিরলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত্র ত্রাতা হলেন সেই মেসিই। লুইসাল স্টেডিয়াম দেখল তাঁর বা পায়ের জাদু। ১০৮তম মিনিটে জয় সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ উপহার দিলেন রেকর্ডবারের বর্ষসেরা ফুটবলার।

কালের আলো/ডিএস/এনএল

Print Friendly, PDF & Email