শেখ হাসিনায় ‘উজ্জীবিত’ আওয়ামী লীগ

প্রকাশিতঃ 12:22 pm | December 12, 2022

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

দিন চারেক আগের কথা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির প্রেসিডিয়ামে নেতাদের সঙ্গে সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথ সভা। সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু সভা শুরুর আগে হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করেন এবং সভায় যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হয়ে গতানুগতিক ধারার বাইরে সাহসী ও কঠোর বক্তব্য রাখেন। বিএনপির সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের আক্রমণাত্মক ও কঠোর বার্তা দেন। 

দেশের জনগণকে সুরক্ষায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। সবাই প্রস্তুত থাকুন। মেহনতি মানুষের ওপর আঘাত করলে তাদের ক্ষমা নেই।’ মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি নির্দেশ দেন, যে হাত দিয়ে আগুন দেওয়া হবে সেই হাত ওই আগুনে পোড়ানোর নির্দেশ দেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাল্টা আঘাত দেওয়ার এই নির্দেশনা সূচক বক্তব্যটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে কেন্দ্র থেকে প্রান্ত সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। এরপর থেকেই বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কোমর বেঁধে মাঠে নামে আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারায় থাকেন। দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলাতেও মাথা তুলে দাঁড়ায় দলটির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী।

শুধু তাই নয়, যেসব ব্যবসায়ী গোপনে খোয়াব ভবনের কর্ণধার তারেক জিয়ার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছিল এবং তারেক জিয়াকে অর্থ সহায়তা করছিলেন তাদেরকেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে কতিপয় গণমাধ্যম যারা সুযোগ বুঝে পল্টির মাধ্যমে জামাত-বিএনপিকে তৈলমর্দন করছিলেন তাদেরও সতর্ক করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন দৃঢ়তা সব পরিমণ্ডলেই প্রশংসিত ও আলোচনার মূল বিষয়বস্তুতে রূপ নেয়। অত:পর কতিপয় গণমাধ্যম ষডযন্ত্রকারীদের সঙ্গে গভীর হৃদ্যতার প্রণয় থেকে বেরিয়ে বস্তুনিষ্ঠতার নীতিতে ফিরে এসেছে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন রক্ষার অভিযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের বিচক্ষণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে পর্দার আড়ালের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী ও শত্রুদের বুঝিয়ে দিয়েছেন পেছন থেকে আঘাত নয় সম্মুখ সমরে লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত। এই তেজোদীপ্ততার জন্যই সাধারণে অসাধারণ বঙ্গবন্ধুকন্যা। প্রাজ্ঞতা ও দূরদর্শীতার জন্যই সমকালীন রাজনীতিতে তাঁর সমকক্ষ রাজনীতিক দ্বিতীয় নেই। দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার প্রশ্নে তিনি বিকল্পহীন, নব উচ্চতায় আসীন। গত বৃহস্পতিবারের (০৮ ডিসেম্বর) বক্তব্যে আরও একবার এসব বিষয়াদি খোলাসা করেছেন সরকারপ্রধান। 

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বিষয়েই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্বিধা-সংশয়ে ছিলেন। সামনে রাজনীতিতে কী ঘটতে চলেছে, অর্থনীতিতেও কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বারবার দেশবাসীকে অভয় দিয়েছিলেন বাংলাদেশ কখনও শ্রীলঙ্কা হবে না, ঘুরে দাঁড়াবেই। ঠিকই বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের পালে হাওয়া লেগেছে। গত নভেম্বরে রেকর্ড রপ্তানি হয়েছে। শক্তপোক্ত হতে চলেছে অর্থনীতি। বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে আইএমএফ। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বাংলাদেশকে আর স্যাংশন দেয়নি। এখানেও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা পর্যদুস্ত হয়েছেন শেখ হাসিনা ম্যাজিকে। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, ১০ ডিসেম্বরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে বাধ্য হয়েছে বিএনপি।ততারা নয়াপল্টন ছেড়ে গোলাপবাগে গণসমাবেশ করেছে। অথচ এই গণসমাবেশের আগে বিএনপির যেমন লম্ফঝম্ফ ছিল সমাবেশ শেষে ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেছে। মূলত গত বৃহস্পতিবারের (০৮ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বক্তব্যে বদলে গেছে পরিস্থিতি। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে দ্বিগুণ প্রাণশক্তির সঞ্চার হয়। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা উৎসাহিত হয়ে উঠেন। প্রধানমন্ত্রী সেদিন স্মরণ করিয়ে দেন, আওয়ামী লীগ ভেসে আসেনি,  আওয়ামী লীগের শক্তির শেকড় অনেক গভীর এবং জনগণের শক্তিই আওয়ামী লীগের প্রেরণাশক্তি। 

আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড পর্যায়ের একাধিক নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের আশার বাতিঘর ও সোনালী সাহসের নাম শেখ হাসিনা। তিনি যেভাবে সামনে থেকে দলকে ও দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সঙ্কট মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে চলেছেন সেটিই আওয়ামী লীগের কর্মীদেরকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করছে। 

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য হলো নির্দেশনামূলক। অর্থাৎ তিনি একদিকে যেমন সরকারের শত্রুদেরকে চিহ্নিত করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষদেরকে চিহ্নিত করেছেন, তাদের যারা মদদ দিচ্ছেন তাদেরকে চিহ্নিত করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সেই সম্পর্কেও সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। এসবের ফলেই ফলেই আওয়ামী লীগ বীরের মতোই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত চারদিনে রাজপথে আওয়ামী লীগের সরব উপস্থিতি, নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রূপ দলটিকে যেন নতুন প্রাণশক্তি দিয়েছে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার শক্তি কারও নয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ভোটে আরও একবার সেটি প্রমাণিত হবে। 

কালের আলো/এমএএএমকে 

Print Friendly, PDF & Email