পল্টনে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না, করলে ব্যবস্থা : ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশিতঃ 6:30 pm | December 07, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপিকে গণসমাবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।

তিনি বলেছেন, পল্টনের সামনে ১০ লাখ লোকের জায়গা হবে না। সর্বোচ্চ এক লাখ লোক দাঁড়াতে পারবে। বাকি ৯ লাখ লোক ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে। যাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না বিএনপির। এতে করে জনদুর্ভোগ ও জননিরাপত্তা বিবেচনায় তাদের পল্টনে সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, আমরা গোয়েন্দা সংস্থা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, বিএনপি ঢাকা শহরে ১০ লাখ লোক জমায়েতের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কাজেই পার্টি অফিসের সামনে জনদুর্ভোগ করে এবং ঢাকার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করে তাদেরকে সেখানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, আপনারা যেকোনো খোলা মাঠে যেতে পারেন বা অন্যকোনো প্রস্তাব দিতে পারেন। অন্য প্রস্তাব হিসেবে তাদেরকে বলা হয় ইজতেমা মাঠ আছে, সেখানে আপনারা ১০ লাখ লোক জমায়াত করতে পারবেন। পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার মাঠ আছে, সেখানে যেতে পারেন।

দুটি কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রথম কারণ পল্টনে এত লোকের জায়গা হবে না। যদি তারপরেও তারা সেখানে সমাবেশ করে তবে বাকি ৯ লাখ লোক ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবে। যার উপর বিএনপির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না এবং পুলিশেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। দ্বিতীয়ত এই ১০ লাখ লোক ঢাকার সব রাস্তা দখল করলে ঢাকাবাসীর জন্য একটা চরম দুর্ভোগের বিষয় হবে।

তিনি আরও বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে আগ্রহী না। তারা পল্টন বা তার আশেপাশে কোনো রাস্তায় করতে আগ্রহী। এ প্রসঙ্গে আমাদের ডিএমপির সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা এর মতো কোনো খোলা মাঠে সমাবেশ করতে হবে। আমরা জনদুর্ভোগ এবং জননিরাপত্তা বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ঢাকার পরিস্থিতি আজ কতটুকু খারাপ বলে মনে করেন? আজকে দেখা গেছে, পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াটকে রাইফেল হাতে রাস্তায় নামতে, বোম ডিসপোজাল ইউনিট নেমেছে। সাধারণত, বিশেষ কোনো অভিযানে বিশেষ পরিস্থিতিতে তাদের নামানো হয়। এমন কি হলো? পরিস্থিতি কি খুবই খারাপ? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার ফারুক বলেন, আমরা শুনেছি ওইখানে (বিএনপি কার্যালয়ে) অনেক ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। বিএনপি অফিস থেকে ককটের বিস্ফোরণ হয়েছে। ওইখানে খাবার-দাবার, চাল-ডাল, লাঠিসোঁটা বিভিন্ন কিছু জমা করা হয়েছে এমন খবর পেয়েছি। আমাদের পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের শক্তি বাড়িয়েছে। আজ একটা অফিসিয়াল ডে। কোনো পূর্বানুমতি নেই, ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ। পল্টনে তারা রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করবে এটা তো কাম্য নয়।

আজ তবে কি ককটেলের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে এম-১৬ ব্যবহার, এম-১৬ এর শোডাউন করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ককটেল শুধু নয়, সামগ্রিক নাশকতার বিরুদ্ধে এম-১৬ ব্যবহার করা হয়েছে।

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেকার সংঘর্ষে কেউ নিহত হয়েছে কিনা? জানতে চাইলে খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, এরকম তথ্য আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। আমি একটা মিটিং এ ছিলাম। খোঁজ নিতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে ডিএমপি ১৪৪ ধারা জারি করেনি কেন? সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এখনও সময় আছে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। যদি তারা সিদ্ধান্ত বদল করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে যায়। তবে তারা যদি বলে আমরা সমাবেশ করতে যাবো না। তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।

ভিডিও ফুটেছে দেখা যাচ্ছে যে পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় গিয়ে আক্রমণ করেছে এ জিনিসটা কেন করা হলো? জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আপনি ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন আমি এখনো ভিডিও ফুটেজ দেখিনি। তাহলে আমি যতটুকু জানি উনাদের সমাবেশ ১০ ডিসেম্বর। আজ অফিসিয়াল ডে এই দিনে তারা নয়া পল্টনের রাস্তা দখল করে সমাবেশ করছেন। গাড়ি-ঘোরা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে তারা ওইখানে আজকে জমায়েত হবেন, তারা সেখানে সমাবেশ করবেন এটা ঠিক নয়, আমি মনে করি তারা আইন অনুযায়ী কোনো কাজ করেনি।

রাজধানীর প্রবেশ পথ গাবতলী, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ যাত্রাবাড়ী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। তল্লাশির নামে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। যাদের অনেককে আটক করা হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মী হলেই এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এরকম কোনো তথ্য নেই। নিয়মিত চেকপোস্ট বসছে। এর কারণ হলো আমাদের ১-১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চলছে। ১৪, ১৬ ডিসেম্বর ও ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন। এর আগে যাতে কোনো ধরনের নাশকতার ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে চেকপোস্ট বসিয়েছি। আমরা কোনো যাত্রীকে আটক বা ঢাকা আসা বন্ধ করিনি।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email