তাজরীন ট্র্যাজেডির ১০ বছর, এখনও মেলেনি ন্যায়বিচার

প্রকাশিতঃ 10:21 am | November 24, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ঢাকা জেলাধীন আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বিচার।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে মারা যায় ১১২ শ্রমিক। আরও অনেকেই আহত হয়। ওই অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারানো ব্যক্তিদের কান্না যেন থামছেই না।

তবে এই দীর্ঘ সময়েও ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। এরই মধ্যে অনেক শ্রমিক পরিবার আশুলিয়া ছেড়েছেন। যদিও রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, সাক্ষ্য দিতে শ্রমিকরা আদালতে না আসায় মামলার বিচারকাজ এগোচ্ছে না। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, দীর্ঘদিনেও মামলা শেষ না হওয়ায় আসামিরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আদালতে গেলে তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করছে, শ্রমিকরা সাক্ষ্য দিতে না আসায় মামলার বিচারেও অগ্রগতিও হচ্ছে না। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শাহ নেওয়াজ বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছি। রাষ্ট্রপক্ষ প্রতি ধার্য তারিখে সাক্ষীদের মোবাইল ফোনে এবং সমনের মাধ্যমে সাক্ষ্যর বিষয়ে তাদের জানায়। কিন্তু সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ার কারণে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আদালত থেকেও সাক্ষীদের হাজিরে বিভিন্ন ধরনের প্রসেস ইস্যু করেছে। ইতোমধ্যে ২৬ জন সাক্ষীর প্রতি জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তারপরও সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না। সাক্ষীরা মুখে বলে বিচার চাই, কিন্তু তারা আন্তরিক নন। বিচারের জন্য সাক্ষী দিতে আদালতে আসেন না। শ্রমিকরা আন্তরিক হলে তারা দলদ্ধভাবে আদালতে আসতো। প্রসিকিউশন সর্বত্রই সাক্ষীদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

এমতাবস্থায় মামলাটি নিষ্পত্তির বিষয়ে কত সময় লাগবে তা বলতে পারছেন না রাষ্ট্রপক্ষের ওই আইনজীবী।

তিনি বলেন, সাক্ষীরা দ্রুত আসলে ইচ্ছা করলে দুই মাসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা সম্ভব। সাক্ষ্যগ্রহণে যত বিলম্ব হবে, মামলা শেষ করতে ততোই সময় লাগবে।

অপরদিকে সাক্ষী হাজিরে রাষ্ট্রপক্ষের ব্যর্থতায় আসামিরা হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে দাবি আসামিপক্ষের আইনজীবীদের। বিচার বিলম্বিত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। তাজরিনের মালিক দেলোয়ার হোসেন ও মাহমুদার আইনজীবী হেলেনা পারভীন বলেন, সাক্ষী না আসায় বিচার শেষ হতে বিলম্ব হচ্ছে। সাক্ষীরা অধিকাংশ গার্মেন্টস কর্মী। এজন্য ঠিকমত সাক্ষীদের খুঁজে পাচ্ছে না রাষ্ট্রপক্ষ। আবার অনেকেই আগের জায়গা ছেড়ে অন্যত্রে চলে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি চলমান থাকায় আসামিদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়েছে। আসামিরাও বিচারপ্রার্থী। এ মামলার জন্য তাদের প্রতি মাসেই আদালতে আসতে হয়। এর ফলে পারিবারিক, মানসিক, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। আমরাও ন্যায়বিচার চাই। আশা করছি, সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আসামিরা এই মামলা থেকে খালাস পেতে পারেন।

কালের আলো/বিএএ/এমএম

Print Friendly, PDF & Email