বঙ্গবন্ধুর চিরজীবন্ত সেই ছবির সামনে প্রধানমন্ত্রী, আজও অমলিন অগ্নিপুরুষ

প্রকাশিতঃ 9:10 am | November 23, 2022

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

চিরজীবন্ত এক ছবি। হাত নাড়ছেন বাঙালি জাতির মুক্তির দূত। সারা বাংলায় মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ানোর দিন। প্রতিরোধ দিবস, উত্তাল রাজপথ। স্বাধীনতার সূতিকাগার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরকে ঘিরে জনতার ভিড়। এই বাড়ি থেকেই উদ্দীপ্ত জনতার অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছেন স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পেছনে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের রাজকন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পিতা মুজিবের সংগ্রামী চেতনায় বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর নিরন্তর প্রেরণা যেন সেই সময়েই পেয়েছিলেন তিনি। সময়টি একাত্তরের ২৩ মার্চ।

বাঙালির মহান নেতার এই হাতের শক্তিতে যেন সেদিনও বিচ্ছুরিত হয়েছিল আলোকচ্ছটা। যে আলোয় হাজার বছরের ঘুমন্ত বাঙালি চোখ মেলে তাকিয়েছিল। স্বাধীনতামন্ত্রের সঞ্জীবনী শক্তিতে তিনিই জাগিয়ে তুলেছিলেন সুপ্ত-নিদ্রিত মানুষকে। গোটা জাতিকে এনে দিয়েছিলেন চির আকাঙ্ক্ষিত মুক্তির স্বাদ। ১৯৭১’র ৭ মার্চ যিনি তাঁর তর্জনীর ইশারায়ই এঁকে দিয়েছিলেন এই বাংলার মানচিত্র।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চলতি বছরের সশস্ত্র বাহিনী দিবসে শিল্পীর রঙ তুলিতে আঁকা সাহসী অগ্নিপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চির অমলিন কালজয়ী সেই ছবিটি সোমবার (২১ নভেম্বর) উপহার দিয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। জাতির ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ পুরুষ, জ্যোতির্ময় বঙ্গবন্ধুর সহজ সরল দৃষ্টিভঙ্গী এবং বিরল নেতৃত্বগুণ আন্দোলিত করে এই উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে।

শিল্পীর তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা ঐতিহাসিক এই ছবির মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ মূলত হিমালয়ের মতোন লক্ষে অবিচল বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরেছেন নিজেদের অনুভবের অন্য আলোয়। সে আলোয় আলোকিত হয়েছে শিল্পের ভুবন, প্রদীপ্ত হয়েছে স্বাধীনতার চেতনার বহ্নি শিখা।

বাংলার হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা কীর্তিমান মহাপুরুষের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে সাহসসঞ্চারী ও প্রেরণাদায়ী প্রধানমন্ত্রী তখন তাকিয়ে অপলক। প্রজ্বলিত সূর্যের আলোকচ্ছটায় আলোকিত মুহুর্ত। রীতিমতো মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী। বাঙালির চির আরাধ্য পুরুষ পিতার মতোই যিনি মানবপ্রেম, সাহস, সততা ও অন্তহীন ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর। জীবনভর চেয়েছেন মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তির বিকাশ।

নানা চড়াই-উতরাই ও অন্ধকারের যুগ পেরিয়ে আঁধার ফুঁড়েই এগিয়ে গেছে দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উন্নয়ন-সমৃদ্ধির মহাসোপানে। ১৭ কোটি মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসায় অভিষিক্ত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ ও যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল।

সম্ভবত আলোকময় সেই ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যার মানসপটে ভেসে উঠে জাতির পিতার নেতৃত্বে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের চিত্র। যুদ্ধবিধ্বস্ত পাকিস্তানের একটি প্রদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিনির্মাণে জাতির পিতার ক্লান্তিহীন চেষ্টা, বিশ্বের সব দেশের স্বীকৃতি আদায়, বঙ্গবন্ধুর মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে উন্নীত করা আরও কত কী!

হয়তো বা স্মৃতি জাগানিয়া ছবিটির সামনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের প্রতিধ্বনি তাঁর কন্ঠে গুঞ্জরিত হচ্ছিল ‘…দাবায়ে রাখতে পারবা না’। শাশ্বত আলোকাভাসে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ক্যারিশমায় সামনে আরও সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email