ফসল উৎপাদন করলেই হবে না, গুণগতমান ঠিক রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 2:32 pm | November 22, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু ফসল উৎপাদন করলেই হবে না। পাশাপাশি খাদ্যশস্যের গুণগতমান ঠিক রাখতে হবে। এমনভাবে মজুত করতে হবে যাতে খাদ্যশস্যের পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে।

এছাড়া প্রয়োজনে বিদেশি প্রযুক্তিও ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে পরিবেশের ক্ষতি করে যেকোনো কাজ না করতেও নির্দেশনা দেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যেন খালগুলো ভরাট না হয়ে যায়। যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ঢাকার খালগুলো ঠিক রাখতে হবে। এছাড়া প্রকল্পে অহেতুক ভূমি অধিগ্রহণ না করতেও নির্দেশনা দিয়েছেন। এর বাইরে প্রকল্পের বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টিতে নজর রাখতে হবে।

আদালত থেকে জঙ্গি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী নিজের মতামত তুলে ধরে বলেন, যেটা হয়েছে, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার ফলে মানুষজন বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় আছে। এজন্য কারাগারে প্রকল্পগুলো নিয়ে আমাদের আরও কাজ করতে হবে। একটি গোষ্ঠীই আছে তারা তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে নাছোড়বান্দা। তারা আরও অনেক দূর যাবে, এজন্য আমাদেরও অনেক দূর যেতে হবে।

তিনি বলেন, একনেক সভায় আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ৪ হাজার ৮২৬ কোটি ২১ লাখ ব্যয় হবে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ২ হাজার ২০৭ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ২৭৮ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।

এদিকে কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় হাওর ও চর এলাকায় নজর দিচ্ছে সরকার। পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্বা বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

জানুয়ারি ২০২২ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৭ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো, পুষ্টিমান ও খাদ্য নিরাপত্তা বিবেচনায় সুনির্দিষ্ট ফসলের উৎপাদনশীলতা ৮ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা। নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল গ্রাম সৃজনের মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে অবদান রাখা।

৪৯ জেলার ১৫৫টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প এলাকার গড় শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি করা হবে। প্রকল্প এলাকায় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যে বায়ো-ফর্টিফাইড ফসল আবাদ সম্প্রসারণ, উচ্চমূল্যের ফসল আবাদ সম্প্রসারণ, উন্নত কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভাবিত জাত/প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, নিরাপদ ফসল উৎপাদন বাড়বে।

কালের আলো/পিএম/এনএল

Print Friendly, PDF & Email