বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সশস্ত্র বাহিনী এখন ‘মহীরুহ’

প্রকাশিতঃ 12:02 am | November 21, 2022

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠ আহ্বানে স্বাধীনতাকামী প্রতিটি বাঙালির মন-মননে রোপিত হয় নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের বীজ। শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ; মৃত্যুপণ লড়াই আর রক্তসমুদ্র পাড়ি দেওয়ার অনবদ্য সংগ্রাম। ‘জাগো বাঙালি জাগো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা-পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে প্রকম্পিত গ্রাম-শহর, জনপদ, গোটা দেশ। মূলত ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দিকনির্দেশনায় প্রবল প্রদীপ্ত আন্দোলনের জোয়ারে সেই সময় দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনীর হৃদয়েও আঁকা হয় একটি লাল-সবুজ পতাকা। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের ছবি।

আবেগ, সংগ্রাম আর মুক্তির আকাক্সক্ষাকে বুকে নিয়ে ঘোরতর অমানিশা ভেদ করে দেশের আকাশে স্বাধীনতার চিরভাস্বর সূর্য উদয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালেই ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যৌথভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করেন। আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় পাকিরা।

হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বীরের জাতি বাঙালির হৃদয়ে বৈজয়ন্তী উড়িয়ে আসে সেই সোনাঝরা গৌরবের দিন। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতা প্রাপ্তি। ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হয় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান। সেই থেকে ২১ নভেম্বর, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ গৌরবময় দিন।

মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অসামান্য আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা বাঙালি জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গেই স্মরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায় প্রতিবছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এবারও যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হবে। বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করা হবে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী সশস্ত্র বাহিনীর বীর সন্তানদের।

ভূ-রাজনৈতিক প্রয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালেই একটি প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে জন্ম নেওয়া, ধন্য সেই পুরুষের হাতে গড়া সশস্ত্র বাহিনী আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞাময় দূরদর্শী নেতৃত্বে ‘মহীরুহ’ বিশাল এক বাহিনীতে রূপ নিয়েছে। প্রণয়ন করেছেন ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’।

বাঙালি জাতির চির আরাধ্য পুরুষের প্রণীত জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী পেশাদারিত্ব ও দক্ষতায় দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। কুড়িয়েছে সুনাম-মর্যাদা। উন্নয়নের মহাসড়কে আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী হয়ে উঠেছে আরও দুর্বার এবং অপ্রতিরোধ্য। সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতায় বলীয়ান হয়ে দেশের প্রতিরক্ষা ও দেশ গড়ার কাজে পালন করে চলেছে অগ্রণী ভূমিকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বঙ্গবন্ধুর সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে দৃঢ় ও অবিচল।

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে বঙ্গবন্ধুকন্যার ঐকান্তিক প্রয়াস
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিজের পরিবারের সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধনের কথা বারবার নিজের কন্ঠে তুলে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দুই ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং দু’জনই সেনাসদস্য ছিলেন। ছোট ভাই শেখ রাসেলের ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকেরা সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

ফলত বাঙালি জাতির গর্ব ও আস্থার প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে নিরলসভাবেই কাজ করে চলেছেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের গত ১৪ বছরে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন। প্রায় সময়েই নিজের কন্ঠে তিনি উচ্চারণ করেছেন পিতা মুজিবের সেই অমর বাণী-‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হবে জনগণের বাহিনী তথা পিপলস আর্মি।’ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সীমিত সম্পদ নিয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালেই গড়ে তোলেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আর্মস স্কুল এবং সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোরের জন্য স্বতন্ত্র ট্রেনিং সেন্টার।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক সমরাস্ত্র সমৃদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সেনাবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, বিমান, হেলিকপ্টারসহ মর্ডান ইনফ্যান্ট্রি গেজেট, বিভিন্ন আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং সরঞ্জাম, আকাশ বিধ্বংসী স্বয়ংক্রিয় শোরাড, ভিশোরাড, সর্বাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইত্যাদি সংযোজন করেছেন।

একটি অত্যাধুনিক নৌবাহিনী গড়ার প্রত্যয়ে জাতির পিতা একই সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তিনটি ঘাঁটি উদ্বোধন করেন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভারত ও যুগোস্লাভিয়া থেকে যুদ্ধজাহাজও সংগ্রহ করেন। সেই গতিধারায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌবাহিনীতে অত্যাধুনিক করভেট, ফ্রিগেট, সাবমেরিন ও মেরিটাইম হেলিকপ্টার সংযোজন এবং বিশেষায়িত ফোর্স হিসেবে ‘সোয়াডস’ গঠন করেন।

মহান জাতির পিতার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে ১৯৭৩ সালে সে সময়ের অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিগ-২১ যুদ্ধবিমানসহ হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান, এয়ার ডিফেন্স রাডার ইত্যাদি বিমান বাহিনীতে সংযোজন করা হয় এবং এরই মাধ্যমে এ দেশে একটি আধুনিক বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ই প্রত্যাশা করেন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রেখে দেশের গৌরব সমুন্নত রাখবে। দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগে সদা প্রস্তুত থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের মাথায় ‘সেরার মুকুট’
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে ১২২ টি দেশের মধ্যে আবারও এক নম্বরে উঠে এসেছে ব্লু হেলমেটধারীরা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য তথা বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের এই প্রশংসনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নির্দেশনা ও সুদৃঢ় নেতৃত্বকে বরাবরই উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

চলতি বছর আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসের বাণীতে তিনি বলেন, ‘মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশিত পথেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অদ্যাবধি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং আজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অগ্রদূত হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।’

একই দিবসের বাণীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন পদবীর পুরুষ ও নারী কর্মকর্তা এবং নাবিকগণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে স্টাফ অফিসার, মিলিটারি অবজারভার ও কন্টিনজেন্ট সদস্য হিসেবে উচ্চ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলাবোধ, আনুগত্য এবং একনিষ্ঠতার সাথে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসের বাণীতে বলেন, ‘জাতিসংঘের চলমান শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যগণ স্টাফ অফিসার এবং মিলিটারি অবজারভার হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পেশাগত অবদান ছাড়াও সিভিল-মিলিটারি কো-অপারেশন কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর শান্তিরক্ষীগণ সংঘাতময় অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ, দুস্থ জনগণকে কারিগরি দক্ষতা অর্জনে সহায়তা এবং চিকিৎসা ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে শুধুমাত্র বিভিন্ন দেশের জনগণের আস্থাই অর্জন করেন নি, মানবসেবায় বাঙালি জাতির আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বব্যাপী।’

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একই দিবসের বাণীতে বলেন, ‘শান্তির অনন্য দূত বাংলাদেশ। বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের নাম আজ সর্বজনবিদিত। জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বিশ্ব বরেণ্য নেতৃবৃন্দের বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে দিয়েছে।’

পাহাড়ে শান্তির নবধারা, দেশের উন্নয়নে কার্যকর অবদান সেনাবাহিনীর
অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সূচিত হয়েছে শান্তির নবধারা। পাহাড়ে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির অংশীদার হয়েছে সেনাবাহিনী। নির্মাণ করেছে চিম্বুক থানচি আলীকদম রুমা বগালেক কেওক্রাডংসহ পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ৫৪২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প। চেঙ্গি নদীর উপর নির্মাণ করেছে ৫০০ মিটার দীর্ঘ নানিয়াচর সেতু। নির্মাণাধীন রয়েছে সীমান্ত সড়কের প্রথম ধাপে ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক।পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষা স্বাস্থ্য তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। পর্যটন শিল্পের নান্দনিক বিকাশ ঘটেছে পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে।

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিকশিত হয়েছে টেকসই শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়ন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নে নির্ভরযোগ্য অংশীদার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দেশব্যাপী রাস্তাঘাট ফ্লাইওভার ও সেতু নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সাফল্যের সাথে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক, মাওয়া-শিমুলিয়া সংযোগ সড়ক, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক, যাত্রাবাড়ি-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে মোট ৭৬২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও মেরামত করেছে।

বাস্তবায়ন করেছে রাজশাহী ও চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ, ডিএমডি বাঁধ ও গোমতি বাঁধ ও খোয়াই নদী বাঁধ। হাতিরঝিল প্রকল্প, মহিপাল ফ্লাইওভার, ওদুয়া ওভারপাস, বনানী ওভারপাস, কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের উন্নয়ন কার্যক্রমসহ অন্যান্য দৃষ্টিনন্দন টেকসই প্রকল্প। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধু সেতু ও পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য এক অনন্য মাইলফলক।

এছাড়াও বাংলাদেশ গেমস, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, সাফ গেমস ইত্যাদি জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োাজন ও নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সর্বসাধারণের গভীর আস্থা অর্জন করেছে।

বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর কর্মযজ্ঞের সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড, নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড ও চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও বেসামরিক নৌযান নির্মাণ ও মেরামতের মাধ্যমে দেশের নৌখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত এক লক্ষ মায়ানমার নাগরিকদের নিরাপদ বসবাসের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী ভাসানচরে এক সুবিশাল আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার এর সাহায্যে দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় সীডবল নিক্ষেপের মাধ্যমে বীজ ছিটানো কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মহাকাশ গবেষণা বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমানকে দ্রুত এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে অতিসম্প্রতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email