যেকোনো প্রয়োজনে নিজেদের বিলিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বিমান বাহিনী : বিমান বাহিনী প্রধান

প্রকাশিতঃ 12:25 am | November 21, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান বলেছেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দেশের আকাশসীমা রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। বিমান বাহিনীকে গৌরবের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং জাতীয় যেকোনো প্রয়োজনে নিজেদের বিলিয়ে দিতে বিমান বাহিনীর প্রতিটি সদস্য আজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

সোমবার (২১ নভেম্বর) ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২২’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণীতে এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান বলেন, বাঙালির বীরত্ব, সাহস এবং উৎসর্গের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। এই বিশেষ দিনে আমি ও বিমান বাহিনীর সদস্যগণ সশস্ত্র বাহিনীর ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে পুনরুদ্দীপ্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি এবং সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। মাতৃভূমির জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের নিঃস্বার্থ অবদানের অনুস্মরণ আমাদেরকে আবেগপ্রবণ করার পাশাপাশি গর্বিত করে। নিরন্তর আত্মত্যাগের মাধ্যমে বীর শহিদরা আমাদের শিখিয়ে গেছেন যে, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গের চেয়ে বড় গৌরবের আর কিছু নেই।

তিনি বলেন, আমি বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করছি, যিনি প্রতিটি বিমানসেনার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এমন একটি বাহিনী যা যুদ্ধের ময়দানে জন্ম লাভ করেছে। আমি কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যারা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছেন।

বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য গর্বিত, যিনি আমাদের এনে দিয়েছিলেন স্বাধীনতা ও লাল সবুজের পতাকা। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের দ্বারা তিনি একটি সুসংগঠিত ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গঠন করেছিলেন। অতঃপর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তিনটি পুরাতন যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমানের স্থলে অত্যাধুনিক মিগ-২১, এমআই-৮, এএন-২৪, এএন-২৬ ও র‍্যাডার দ্বারা সজ্জিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে চতুর্থ প্রজন্মের বিভিন্ন সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে একটি কার্যকরী বিমান বাহিনী গঠনে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা আমাদের প্রায়োগিক অপারেশনাল সক্ষমতা উন্নত করার প্রতিশ্রুতিকে পুনরুজ্জীবিত করে। বিগত চার দশকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে সহায়তা প্রদানের জন্য ৫০,০০০ ঘন্টারও অধিক উড্ডয়ন করেছে । জাতীয় পতাকা বহন করে দেশের সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক উড্ডয়নে বিশ্বস্ত অবদানকারী হিসেবে প্রভূত প্রশংসা বয়ে এনেছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তার প্রতিশ্রুতিতে নিবদ্ধ এবং একবিংশ শতাব্দীর সশস্ত্র বাহিনীকে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি দিয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরার জন্য আমি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই । আমি নিশ্চিত, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মাঝে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা সঞ্চার করবে। এটি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার দৃঢ় বন্ধনকেও অনুরণিত করবে। আমি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করছি।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email