প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ফায়ার সার্ভিস ডিজি

প্রকাশিতঃ 9:11 pm | November 15, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ভালোবাসার কোটি কোটি প্রদীপের দীপ্তশিখা আর সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীতিতে রূপ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। নিজের পেশাগত সততা ও দক্ষতার আলোয় ফায়ার সার্ভিসকে নতুন উদ্যমে ঢেলে সাজিয়েছেন অধিদপ্তরটির মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.মাইন উদ্দিন।

একটি স্বপ্ন, চেতনা ও পরিচ্ছন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে শ্রেষ্ঠতম অবস্থায় নিয়ে যেতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এ মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালি জাতির চির আরাধ্য পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফায়ার সার্ভিসকে আরও যুগোপযোগী করতে চান প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং কমপ্লেক্সের প্যারেড গ্রাউন্ডে চলতি বছরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি নিজ অধিদপ্তরের এই দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা উচ্চারণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন নিজের বক্তব্যের শুরুতে বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা উঁচু করে স্থান করে নিয়েছে। আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের।

আরও পড়ুন: দু:সময়ের বন্ধু ফায়ার সার্ভিস

এছাড়া মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্নোৎসর্গকারী ৩০ লক্ষ শহীদ ও দু’লক্ষ মা-বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকের এই সোনালী দিন পেয়েছি। আমি আরও স্মরণ করতে চাই আমাদের ৩০ জন ফায়ার ফাইটার সদস্যদেরকে, যারা ইতোমধ্যে জনসেবায় নিজেদের জীবন উৎস্বর্গ করেছেন। সর্বশেষ বিএম কনটেইনার ডিপোর অগ্নিকান্ডে নিহত ১৩ জন ফায়ার ফাইটার, যাদেরকে ইতোমধ্যে সরকার ‘অগ্নিবীর’ খেতাবে ভূষিত করেছে। এজন্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আরও গতিশীল হবে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম : সচিব

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির দ্বারপ্রান্তে ফায়ার সার্ভিস
ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আপনি ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রতি উপজেলায় একটি করে ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করা হবে। আজ আমরা আপনার সেই প্রতিশ্রুতির দ্বারপ্রান্তে। ২০০৮ সালে চালুকৃত স্টেশনের সংখ্যা ছিল ২০৪ টি। আজকে তাঁর সংখ্যা ৪৯১ টি। পরিকল্পিত সকল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্টেশনের সংখ্যা হবে ৭৩৫ টি। আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত বিশ্বে পদার্পণ করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এই অধিদপ্তরও অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় অধিকতর সক্ষম ও আধুনিকতর হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জেনে খুশি হবেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এই অধিদপ্তর নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী জনকল্যাণে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের গাড়িবহরে সংযোজিত হয়েছে বিশ্বের সর্বাধিক উচ্চতার টিটিএল গাড়ি যা ৬৮ মিটার উচ্চতাসম্পন্ন। এই অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের গৃহীত সকল কার্যক্রমের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অতি আনন্দের সঙ্গে আপনাকে জানাতে চাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান এই অধিদপ্তরে আছে, যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফায়ার একাডেমি নামে পরিচিত। এই একাডেমি বাস্তবায়নের কাজও দ্রুততার সঙ্গে চলমান আছে।’

উজ্জীবিত মনোবল, বেড়েছে কর্মস্পৃহা
ফায়ার সপ্তাহ উপলক্ষে সাহসিকতা ও গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও প্রশাসনিক কাজের স্বীকৃতিসরূপ যে পদক প্রদান করা হচ্ছে তা আমাদের কর্মস্পৃহা ও পেশাগত দক্ষতাকে আরও বহুগুণে বৃদ্ধি করবে বলেও মনে করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি এবারের ফায়ার সপ্তাহের প্রতিপাদ্য-‘দুর্ঘটনা-দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ি’-এই মূলমন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার নেতৃত্বে জনগণের সেবায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবো। পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার পরেও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আজকের ফায়ার সপ্তাহ উদ্বোধন করে আমাদের মনোবলকে উজ্জীবিত করেছেন এবং কর্মস্পৃহাকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এজন্য আপনাকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email