চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আস্থায় জননিরাপত্তা বিভাগের নতুন জ্যেষ্ঠ সচিব আমিনুল ইসলাম

প্রকাশিতঃ 10:25 pm | October 28, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একজন সচিব হিসেবে যখন যেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই সফল হয়েছেন জননিরাপত্তা বিভাগের নতুন জ্যেষ্ঠ সচিব আমিনুল ইসলাম খান। বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে স্বাতন্ত্র্যে উজ্জ্বল করেছেন নিজেকে। উন্নয়ন অগ্রগতির ধারাপাতে কন্ঠ মিলিয়েছেন। অর্জন, অগ্রগতি আর সাফল্যের ফানুস উড়িয়েছেন।

তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেই এবার তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিটি কর্মস্থলেই গভীর দেশপ্রেম আর মুক্তিযুদ্ধের অনির্বাণ চেতনায় হৃদয়ার্ঘ্যেই পালন করেছেন দায়িত্ব। ক্লিন ইমেজের এই জ্যেষ্ঠ সচিব প্রজ্ঞা, মেধা ও আত্মার মননকে বিকশিত করার প্রাণবন্তকর প্রয়াসে জননিরাপত্তা বিভাগকেও আরও দুর্বার গতিধারায় এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব রকমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারঙ্গম এই আমলা বেশ গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্টে নিয়োগের পর থেকেই সিক্ত হচ্ছেন ভালোবাসার পুষ্পধারায়, রঙিন আভায়। জননিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারাও হয়ে উঠেছেন উদ্দীপ্ত। ফুলেল ভালোবাসায় বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে নতুন অভিভাবককেও। তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মিশেলে নতুন মাত্রা পাবে জননিরাপত্তা বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া মো. আমিনুল ইসলাম খানকে। তিনি বিদায়ী জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আখতার হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রজ্ঞাময়তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে সফলতার সঙ্গেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রধানমন্ত্রীকে নিজের কাজের অনুপ্রেরণা ভেবে পথচলা এই মন্ত্রীর কার্যকর নেতৃত্বে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্বে উদাহরণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। এই মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের দায়িত্ব বেশ চ্যালেঞ্জিং। দেশের আভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সফলতা নির্ভর করে একটি গতিময় টিম ওয়ার্কের ওপর। মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া জ্যেষ্ঠ সচিবরা যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। এক্ষেত্রে নতুন জ্যেষ্ঠ সচিব আমিনুল ইসলাম খানও স্বপ্ন, সংগ্রাম, সংকল্পে অদম্য গতিতে কাজ করার স্বাক্ষর রেখে নিজেকে অতীতে উত্তীর্ণ করেছেন। যোগ্য হিসেবেই সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার গুডবুকে ঠাঁই করে নিয়েছেন।

অধিক গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) র‌্যাব ও পুলিশের শাখা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকালে এই বিভাগ মূলত নির্বাচনের শান্তি শৃঙ্খলা ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধানের মূল দায়িত্ব পালন করে থাকে। এ জন্য এই বিভাগে একজন জ্যেষ্ঠ সচিবকে পদে বসাতে সরকার একজন দক্ষ ও আস্থাভাজন কর্মকর্তাকে খোঁজা হচ্ছিল। সেই মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছেন আমিনুল ইসলাম খান।

এক নজরে নতুন জ্যেষ্ঠ সচিব আমিনুল ইসলাম খান
বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম খান ১৯৮৯ সালে চাকুরি জীবন শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে যোগদান করেন। এর আগে তিনি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আমিনুল ইসলাম গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রথম সচিব (শ্রম) হিসেবে বাংলাদেশ দূতাবাস, কাতার এবং কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট-এর এশিয়া আঞ্চলিক যুব কেন্দ্র -এর প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আমিনুল ইসলাম খান ওআইসি সম্মেলন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন, কমনওয়েলথ হেডস অব গভর্ণমেন্টস এন্ড ইয়ুথ মিনিস্টার্স মিটিং-এ অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি কৌশলগত পেপার উপস্থাপন ও কী নোট স্পীকার হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং স্পীকার হিসেবে তিনি বক্তৃতা করেছেন।

এই জ্যেষ্ঠ সচিব বাংলাদেশের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিএস (প্রশাসন) একাডেমি, নায়েম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি, বিয়ামসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি-র সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগ এলামনাই সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

আমিনুল ইসলাম খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’র ইংরেজি বিভাগ থেকে বি,এ অনার্স ও এম,এ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার জীবনসঙ্গী বেগম রায়হানা তাসনীম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পারিবারিক জীবনে তাঁরা দুই পুত্র সন্তানের বাবা-মা।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email