শেষ ওভারের নাটকীয়তায় হারলো পাকিস্তান

প্রকাশিতঃ 12:03 am | October 28, 2022

স্পোর্টস ডেস্ক, কালের আলো:

জয়ের মঞ্চটা প্রায় তৈরি ছিল জিম্বাবুয়ের। শেষটায় কিছুটা শঙ্কা জাগে যদিও। কিন্তু অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ তারা জিতেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছে মাত্র ১ রানে। প্রথম রাউন্ডের বাইরে মূল পর্বে এটাই জিম্বাবুয়ের প্রথম কোনও জয়।

১৩১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা পাকিস্তান ৮ উইকেটে থেমেছে ১২৯ রানে। তাতে টানা দুই ম্যাচ হেরে বাবর আজমদের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা এখন সুতোর ওপর ঝুলে রইলো। এখন বাকি সব ম্যাচে পাকিস্তানের শুধু জিতলেই হবে না। প্রার্থনায় থাকতে হবে বাকি ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে আসার! গ্রুপ দুইয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ভারত। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। তিনে থাকা জিম্বাবুয়েরও ৩ পয়েন্ট। বাংলাদেশ ২ পয়েন্ট নিয়ে চারে অবস্থান করছে। পাঁচে থাকা পাকিস্তান এখনও পয়েন্টশূন্য। তলানীতে থাকা নেদারল্যান্ডেরও অবস্থা একই।

শেষ ওভারে পেন্ডুলামের মতো দুলছিল ম্যাচ। জিম্বাবুয়ে যেমন মঞ্চ তৈরি করে রেখেছিল; পাকিস্তানও হাল ছেড়ে দেয়নি তখন। শেষ ৬ বলে ১১ রান প্রয়োজন ছিল। মোহাম্মদ নওয়াজ ক্রিজে থাকায় শেষটা দেখার অপেক্ষায় ছিল পাকিস্তান। প্রথম বলে ৩ ও পরের বলে ৪ রান আসায় তাদের জয়টা তখন অসম্ভবও ছিল না। জিম্বাবুয়ে শিবিরে শঙ্কা জাগলে তৃতীয় ও চতুর্থ বলে রান চেক দেন এভান্স। পঞ্চম বলে তো চাপে পড়ে নওয়াজ ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরেছেন। শেষ বলে ৩ রান দরকার পড়লে শাহীন আফ্রিদি এক রান নিয়ে কাটা পড়েন রান আউটে। তার পর তো বাকিটা জিম্বাবুয়ের ইতিহাস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অবিশ্বাস্য এক জয়ে আনন্দ উৎসবে মাতে সিকান্দার রাজারা।

ভারতের বিপক্ষেও প্রায় জয়ের সামনে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু শেষ তিন ওভারে ৪৮ রানও রক্ষা করতে পারেনি বাবর আজমরা। শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ এবং মোহাম্মদ নওয়াজের কাছ থেকে এই রান নিয়ে নেয় বিরাট কোহলিরা। শেষ বলে ভারতকে জয় এনে দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং কোহলি।

এবারও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষের খলনায়ক মোহাম্মদ নওয়াজ। প্রথম ম্যাচে বল হাতে, দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়ে হারালেন দলকে। অথচ শেষ ওভারের কঠিন মুহূর্তে সেট ব্যাটার বলতে তিনিই ছিলেন উইকেটে। জিম্বাবুয়ে বোলারদের কাছ থেকে তবুও তিনি ১১ রান নিতে পারলেন না। উল্টো ক্যাচ তুলে দিয়ে দলকে মহা বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে আউট হয়ে যান। যার ফলে শেষ বলে ৩ রান নেয়া সম্ভব হয়নি।

১৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার পর শুরু থেকেই চাপে থাকে পাকিস্তান। পার্থ স্টেডিয়ামের উইকেটটা নিঃসন্দেহে স্লো পিচ। রান তোলা কষ্টকর। তাই বলে পাকিস্তান দলটির ব্যাটিং যাদের ওপর নির্ভরশীল, সেই বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ান প্রথম ম্যাচের মত এই ম্যাচেও ব্যর্থ।

বাবর আউট হয়ে গেলেন মাত্র ৪ রান করে। মোহাম্মদ রিজওয়ান আউট হয়ে গেলেন ১৪ রান করে। ইফতিখার আহমেদ করলেন কেবল ৫ রান। ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন শান মাসুদ আর শাদাব খান। ৮৮ রানের মাথায় বিাদয় নেন শাদাব। ১৪ বলে তিনি করেন ১৭ রান।

এরপর মাঠে নেমে রানের দেখাই পেলেন না হায়দার আলি। গোল্ডেন ডাক মারলেন তিনি সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। দলীয় ৯৪ রানের মাথায় শান মাসুদ আউট হয়ে গেলে পাকিস্তান শিবিরে মোটামুটি শঙ্কা ঝেঁকে বসে। শান মাসুদ ৩৮ বলে করেন ৪৪ রান।

এরপর মোহাম্মদ নওয়াজ উইকেটে থাকলেও শেষের ভিলেন হওয়ার জন্যই সম্ভবত টিকে ছিলেন এবং শেষ বলের আগের বলে আউট হয়ে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেন তিনি।

জিম্বাবুয়ের হয়ে সিকান্দার রাজাই ভোগালেন বেশি পাকিস্তানকে। শান মাসুদ, শাদাব খান এবং হায়দার আলির উইকেট নেন তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে। তেন্দাই চাতারার পরিবর্তে খেলতে নেমে ব্রাড ইভান্স নেন ২ উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন মুজারাবানি এবং লুক জংউই।

এই পরাজয়ের ফলে পাকিস্তানের সেমিতে খেলার সম্ভাবনা একেবারেই কমে গেলো। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে ৪ উইকেটে। আজ হারলো ১ রানে। দুই ম্যাচ শেষে এখনও পয়েন্টের খাতা শূন্য তাদের।

নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয় করে আসার পর বাবর আজমদের এই পারফরম্যান্স সত্যিই হতাশাজনক। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট নিয়ে আজ আরও ২ পয়েন্ট যোগ করলো জিম্বাবুয়ে। তবে, রানরেটের ব্যবধানে থারা পয়েন্ট টেবিলে থাকলো ৩ নম্বরে। চার নম্বরে বাংলাদেশ। দুই নম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারত রয়েছে টেবিলের শীর্ষে।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email