ভরসা-নির্ভরতার ছায়া হয়েই অগ্নিবীরদের পাশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর

প্রকাশিতঃ 10:44 pm | October 27, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

অন্যান্য দিনের মতো সেই রাতেও আগুন নেভাতে গিয়েছিলেন তাঁরা। অন্যের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবন দিয়েছেন। সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোর অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া রানা, মনিরুজ্জামান বা আলাউদ্দিনরা মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরতে পারেননি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আলিঙ্গণ করেছেন মৃত্যুকে। ১৩ ফায়ার সার্ভিস কর্মীর একসঙ্গে আত্মত্যাগ ৪১ বছরের ইতিহাসে বিরল।

অন্তিম শয়ানের পর ফায়ার ফাইটারদের স্মৃতিপুঞ্জে চির জাগরুক রাখতে তাদের ‘অগ্নিবীর’ খেতাবে ভূষিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন। অত:পর চার মাসের মাথায় নিহত সাকিল-মিঠুদের চলতি বছরের রোববার (১৬ অক্টোবর) ঘটা করে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘অগ্নিবীর’ খেতাবে ভূষিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল। সরকারিভাবেই প্রদান করা হয়েছে এই খেতাব।

পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে অকূল পাথারে পড়েন স্বজনেরা। উবে গেছে ‘শান্তি’ শব্দটি। জীবন-যাপনের কষ্টের দিনলিপিতে নীরব অশ্রুপাত। কিন্তু অসহায় পরিবারগুলোর কষ্ট দুর্দশা লাঘবে ঠিকই এগিয়ে এসেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। ভরসা ও নির্ভরতার ছায়া হয়ে থাকতেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ধারাবাহিকভাবে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সকালে অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৮ ‘অগ্নি বীর’-এর পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহযোগিতা বাবদ ৩ লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকার চেক তুলে দেন ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন। চেক প্রাপ্তরা হলেন- লিডার নিপন চাকমা, লিডার মিঠু দেওয়ান, লিডার মোঃ এমরান হোসেন মজুমদার, ফায়ারফাইটার মোঃ রানা মিয়া, ফায়ারফাইটার মোঃ আলাউদ্দিন, ফায়ারফাইটার মোঃ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ফায়ারফাইটার মোঃ গাউসুল আজম ও নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট মোঃ মনিরুজ্জামান’র পরিবার।

পর্যায়ক্রমে বাদ বাকী ৫ ‘অগ্নিবীর’-এর পরিবারকেও একই রকম সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মহাপরিচালক। নিজ অধিদপ্তরের ১৩ সদস্যকে চিরদিনের মতো হারিয়ে তাদের পরিবারের মতোই অধিদপ্তরের ‘অভিভাবক’ হিসেবে স্বভাবতই শোকাচ্ছন্ন ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিনও।

নিজের চেতনমঞ্চে গাঢ় অনুভূতির ঢেউ তুলে নিজেদের একই পরিবারের সদস্য ঘোষণা করে দু:খ-সুখে পাশে থাকার মানবিকতার বিস্তৃত বিভায় উচ্চারণ করেন- ‘সারা বিশ্বে একই সঙ্গে ১৩ জন ফায়ারফাইটারের মৃত্যু একটি নজিরবিহীন ঘটনা। আমরা অগ্নিবীরদের বীরোচিত মৃত্যুকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ও এই চেক প্রদানের মাধ্যমে তাদের পরিবারকে জানাতে চাই যে, আমরা সকলেই একই পরিবারের সদস্য এবং আমরা সকল সময় তাঁদের পাশে আছি।’

অগ্নিবীরদের পরিবারের পাশে শাশ্বত সংগ্রামশীলতার শক্তিতে সঙ্কট মোচনের লড়াইয়ে সমব্যথী হয়ে তাদের কল্যাণে পাশে এসে দাঁড়ানোর ডিজির এই উদ্যোগ অর্জন করেছে পরিবারগুলোর আস্থা-বিশ্বাস। প্রতিটি পরিবারের সদস্য ডিজির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

কালের আলো/ডিএস/এম

Print Friendly, PDF & Email