৮৪ মানব পাচারকারী লাপাত্তা

প্রকাশিতঃ 6:17 pm | October 22, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

লিবিয়ায় পাচার হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন ২৬ বাংলাদেশি। প্রায় দুই বছর আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় রাজধানীর ৪ থানায় ৭টি মামলা দায়ের হয়। মামলার তদন্তভার ন্যস্ত হয় সিআইডির ওপর। পুলিশের এই ইউনিট তদন্ত শেষে ১৯৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করে। তবে অবাক করা ব্যাপার মামলার শুরু থেকেই এখন অবধি মানব পাচারকারী চক্রের হোতাসহ ৮৪ আসামি লাপাত্তা। আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত ছয় আসামির মধ্যে চারজনেরও কোন হদিস নেই।

জানা যায়, মানবপাচারকারী ৮৪ আসামির বিরুদ্ধে ঢাকার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দিলেই মামলাগুলোর বিচার শুরু হবে। মানব পাচার মামলায় অভিযুক্ত ১০৯ দালাল ও মূল হোতাদের অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারামুক্ত। আবার অনেকে আত্মসমর্পণের পর জামিনও পেয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কে এম সাজ্জাদুল হক শিহাব বলেন, ‘লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় করা সাতটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে এসেছে। এসব মামলায় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতকে সহযোগিতা করা হবে।’

২০২০ সালের ৬ নভেম্বর মানব পাচারকারী হিসেবে ইন্টারপোলের লাল তালিকায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মিন্টু মিয়ার নাম আসে। এরপর একই বছরের ২৫ নভেম্বর আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়। তারা হলো তানজিলুর, জাফর ইকবাল, স্বপন মিয়া, নজরুল মোল্লা ও শাহাদাত হোসেন। তাদের মধ্যে ঢাকা থেকে শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। বর্তমানে সে জামিনে। এছাড়া ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ইতালিতে আসামি জাফর গ্রেপ্তার হয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ১৬ মে লিবিয়ায় পাচার হওয়া ২৯ বাংলাদেশিকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। ১৯ মে তাদের মাফিয়াদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অপহৃতদের নির্যাতন করে জনপ্রতি ৮-১০ লাখ মুক্তিপণ চায় মাফিয়ারা। ২৭ মে ক্যাম্পে এক সংঘর্ষের ঘটনায় মাফিয়া সদস্যদের হাতে মামুন, সাকিব, জুয়েল, মানিক, আসাদুল, আয়নাল, জুয়েল, মনির, সজীব, ফিরোজ, শামীম, আরফান, রহিম, রাজন, শাকিল, আকাশ, সোহাগ, সুজন, কামরুল, রাকিবুল, লালচান্দ, জাকির হোসেনসহ ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করে।

ওই হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই ভুক্তভোগীর পরিবার দুটি মামলা করে। এ ছাড়া সিআইডি অন্য পাঁচটি মামলা করে। মানব পাচারকারীদের মধ্যে আসামি মুন্না মাল, রহিম বেঙ্গলী, আব্দুর রহিম, আল আমিন, রুবেল শেখ, সাইফুল ও আসাদুল জামান লিবিয়ায় আছে। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদনের জন্য ৪ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

পলাতকদের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কে এম সাজ্জাদুল হক শিহাব বলেন, ‘পলাতকরা কোথায় আছে, তা বলতে পারব না। যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে, এ বিষয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দিলে বোঝা যাবে। সেক্ষেত্রে পলাতক আসামিদের ছাড়াই এ মামলাগুলোর বিচার শুরু হবে।’

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ দাবি করেছেন প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি বলেন, যারা নির্দোষ, তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নিয়মিত তাদের আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এতে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

কালের আলো/ডিএসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email