দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশ্বে ‘অনুকরণীয়’ বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীর ‘কৃতিত্ব’ দেখছেন প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান

প্রকাশিতঃ 10:36 pm | October 12, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমনে বিশ্বে ‘রোল মডেল’ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। আগাম প্রস্তুতি ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটিয়ে দুর্যোগে প্রাণহানি এক ডিজিটে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে দেশটি। দুর্যোগ সহনশীলতাকে আরও টেকসই ও সমন্বিত করার মাধ্যমে মানব ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবেই কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশটির সক্ষমতার কথা উচ্চারিত হচ্ছে বৈশ্বিক পরিমন্ডলেও। সরকারের নীতি-পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জনগণের জন্য দুর্যোগপূর্ব পূর্বাভাস ও দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কৌশল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মো. এনামুর রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশটির এই অর্জন ও সাফল্য সারা বিশ্বে ‘অনুকরণীয়’ বলেও একাধিকবার মন্তব্য করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সংক্রান্ত সংস্থার দায়িত্বশীলরাও।

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সামনের সারিতে থেকে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সচেতন থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে তিনি যেমন আহ্বান জানিয়েছেন তেমনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বনেতাদের।

‘নিয়মানুবর্তিতা ও কঠোর পরিশ্রমের ‘রোল মডেল’ শেখ হাসিনাই সেই সরকারপ্রধান যিনি প্রতি বছর জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে নিজেদের জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন। জলবায়ুর পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবেলা করে দারিদ্র্য জয়ের লড়াইয়ে শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্বনেতারাও।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মো. এনামুর রহমান সব সময়ই দুর্যোগে-সঙ্কটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যকর ও দূরদর্শী নেতৃত্বগুণের সারি সারি চিত্রপট উপস্থাপন করেন। দারিদ্র্য বিমোচনসহ সামাজিক নিরাপত্তা অর্জনে নিজ দেশের সফল কর্মপ্রয়াসও সুনিপুণ দক্ষতায় তুলে ধরেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবেলায় নিজ মন্ত্রণালয়ের নানামুখী উদ্যোগের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফল কর্মপ্রয়াস গোটা বিশ্বেই প্রশংসা কুড়িয়েছে বলেও মনে করেন।

তিনি দুর্যোগ সহনীয় টেকসই নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পিতভাবে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তথ্য-উপাত্ত ও চমৎকারিত্বের মধ্যে দিয়ে জানান দিয়েছেন বারবার। দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বে সুখ্যাতি অর্জনকারী বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) পালন করছে ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস’।

দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে- ‘আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড আর্লি অ্যাকশন ফর অল’। যার ভাবানুবাদ করা হয়েছে ‘দুর্যোগে আগাম সতর্কবার্তা, সবার জন্য কার্যব্যবস্থা।

এদিন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল ১১টায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশ্বে ‘উদাহরণ’ বাংলাদেশ
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০১৯ সালে দু’টি বড় সাইক্লোন হয়েছিল বাংলাদেশে। ওই সময় ১৮ লাখ এবং ২৩ লাখ মানুষকে নিরাপদে সাইক্লোন সেন্টারে নিয়ে আসতে সক্ষমতা দেখিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। সাইক্লোন সেন্টারে তাদের খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হয়। দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষকে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহযোগিতা দেওয়া এবং তাদের জন্য দুর্যোগ সহনশীল ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার বিষয়টিও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, নদী ভাঙন, খরার মত দুর্যোগ মোকাবেলা করেই বাংলাদেশ টিকে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্যোগ মোকাবোয় শক্তিশালী প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এসবের ফলেই যেকোন দুর্যোগ মোবেলায় সারা বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

৪৮টি দেশ নিয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ফোরাম সিভিএফ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় কাজ করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর জোট ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম-সিভিএফ এবং ‘ভালনারেবল টোয়েন্টি’ বা ভি-২০ গ্রুপের সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

দুর্যোগ মোকাবেলায় তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে কৃত্রিম উপায়ে ম্যানগ্রোভ বন এবং সবুজ বেষ্টনী তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা করেছে। এসবের মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাস থেকে দেশকে রক্ষার পাশাপাশি রক্ষা পাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্যও।

গত এক দশকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৭০ কোটি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই চক্র ভাঙতে দক্ষিণ এশিয়াকে দুর্যোগে টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৯ সালের বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেইঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে নানা পদক্ষেপ এবং অভিযোজন কর্মসূচি নিয়েছে সরকার।

দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সরকারের সাফল্য
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে বুধবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মো. এনামুর রহমান দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সরকারের সাফল্যের বিস্তারিত উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে দুর্যোগসহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় এই পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৩৩৮টি বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে আরও ৪৪ হাজার ৯০৯টি দুর্যোগসহনীয় বাসগৃহ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।’

উপকূলীয় অঞ্চলে ৩২৭টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বন্যাপ্রবণ ও নদীভাঙন এলাকায় ২৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৪২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে আরও ১ হাজারটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

পাশাপাশি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সংগ্রহের জন্য প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে জানিয়ে সরকারের অন্যতম সফল এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমিকম্পসহ বড় ধরণের দুর্যোগপরবর্তী অনুসন্ধান, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্মিলিতভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে ওয়ান স্টপ সেন্টার হিসেবে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (এনইওসি) প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এছাড়া বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগকবলিত মানুষকে উদ্ধার করার জন্য ৬০টি বিশেষ মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট তৈরি ও হস্তান্তর কার্যক্রম চলমান রয়েছে’-যোগ করেন তিনি।

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ও পূর্বাভাস দিতে ‘হাওরঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ এবং ‘বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে দেশব্যাপী বজ্রনিরোধক কাঠামো স্থাপন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। ৯০০ কোটি টাকার প্রকল্পে তিনটি ধাপ থাকছে। প্রথম ধাপে জনগণকে বজ্রপাতের বিষয়ে সচেতন করার জন্য প্রচার চালানো হবে। আগাম সতর্কবার্তা চালু করা হল দ্বিতীয় ধাপ। ইতোমধ্যে কয়েকটি জায়গায় ‘ওয়ার্নিং সিস্টেম’ বসানো হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সতর্কবার্তা পাওয়ার পর মানুষের প্রয়োজন হবে নিরাপদ আশ্রয়। সেজন্য দেশব্যাপী বজ্র নিরোধক কাঠামো তৈরি করা হবে তৃতীয় ধাপে। এসব কাজে বিশেষজ্ঞের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে ডা: এনামুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ৪০ মিনিট আগে বজ্রপাতের সম্ভাবনার পূর্বাভাস দিতে পারেন। বাংলাদেশে ৪০ মিনিট আগে সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব হলে মানুষ কাছাকাছি কোনো আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই প্রকল্প সফল হলে ঘূর্ণিঝড়ের মতো বজ্রপাতে মৃত্যুর হারও শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। প্রকল্পের আওতায় দেশে ৬ হাজার ৫০০টি বজ্রপাত নিরোধক আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা আছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

মন্ত্রণালয়ের সাফল্যের পালকে মুকুট ‘আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি’
দুর্যোগ মোকাবেলায় ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তাদের সাফল্যের পালকে যুক্ত হয়েছে নতুন মুকুট। মিলেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) নারী ক্ষমতায়ন উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ‘এসডিজি অর্জনে জেন্ডার-রেসপন্সিভ সেবা’ ক্যাটাগরিতে তারা পেয়েছে আন্তর্জাতিক পদক। শ্রেষ্ঠত্বের এই পদকের মাধ্যমে বিশ্ব পরিমন্ডলে নতুনভাবে উচ্চারিত হয়েছে হ্যাটট্রিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নাম।

মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাইডলাইনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা: মো.এনামুর রহমান এমপির দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে গত বছরের সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে জাতিসংঘ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পদক হস্তান্তর করা হয়। অবারিত আনন্দের ফল্গুধারায় দেশের জন্য বিশাল এক সম্মান বয়ে আনা প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান নিজেই এই পদকটি গ্রহণ করেন।

বৈশ্বিক পরিমন্ডলেও প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে উচ্চকন্ঠ প্রতিমন্ত্রী
দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেওয়া নানামুখী কার্যক্রম এবং স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি গোটা বিশ্বে দেশটিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দুর্যোগ ঝুঁকি বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।’

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগজনিত কারণে জনগণের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিরোধে ব্যাপক সাফল্য মিলেছে। হালনাগাদ করা হয়েছে দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী। দুর্যোগে প্রাণহানি নেমে এসেছে এক ডিজিটে। দুর্যোগকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ গ্রহণ করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো.এনামুর রহমান এমপি’র নেতৃত্বে বিভিন্ন কার্যক্রম ও কর্মসূচিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন দেশের মানুষ। শুধু তাই নয়, দুর্যোগে নিজেদের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সচেষ্ট এবং প্রস্তুত থাকার মনোবলও অর্জন করেছে তাঁরা।

চলতি বছরের মে মাসে ইন্দোনেশিয়ার বালির নুসা দুয়াতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের সপ্তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান এমপি। ওই সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি (পিজিএ) আব্দুল্লাহ শাহিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তিনি দুর্যোগের নতুন ঝুঁকি প্রতিরোধ ও বিদ্যমান ঝুঁকি হ্রাস করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অক্লান্তকর্মা, বহুদর্শী মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিখাঁদ দেশপ্রেম, ধৈর্য্যশীলতা, দুর্যোগ কবলিত মানুষের জন্য ঐকান্তিক ভাবনা, সহানুভূতি-সহমর্মিতার গল্প তুলে ধরেন।

জবাবে আব্দুল্লাহ শাহিদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা একজন কাইন্ড হার্টেট প্রধানমন্ত্রী’। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্র্রাসে অর্জনের সোপানে সতত অগ্রসরমান বাংলাদেশের জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ, তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ও ফলপ্রসু নেতৃত্বেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি।

এই বছরের সেপ্টেম্বরে অষ্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে ৪০ টি দেশের মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে এশিয়া-প্যাসিফিক মন্ত্রী পর্যায়ের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের সম্মেলনে (এপিএমসিডিআরআর) ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুরর রহমান। তিনি দুর্যোগ সহনশীল সুন্দর কল্যাণময়ী দেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বকে অন্তরঙ্গ অনুভবের শাব্দিক প্রকাশে দ্যুতিময় করে তুলেন।

‘করোনা মহামারির ভেতর বাংলাদেশ ২০২০ সালে পাঁচবার বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের মতো দুর্যোগ দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে’ জানিয়ে আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে প্রায ২.৪ মিলিয়ন মানুষকে ১৪ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের মে এবং জুনে দেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জে ১২২ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে বন্যার্তদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করি।’

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email