জাতিসংঘে রাশিয়া ইস্যুতে বিচক্ষণতার সঙ্গে ভোট দিবে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 3:24 pm | October 11, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘে রাশিয়ার নিন্দা জানিয়ে একটি রেজুলেশনে ভোট হতে পারে। এই ভোটে বাংলাদেশ বিচক্ষণতার সঙ্গে ভোট দিবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা পক্ষে, বিপক্ষে বা ভোটে বিরত থাকবো কিনা সেটি আমি বলবো না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমরা ভোটগুলো অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে দিয়েছি। যদি ভোট হয় তাহলে আমরা বিচক্ষণতার সঙ্গে দেবো।

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) ব্রুনাইয়ের সুলতানের সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. মোমেন বলেন, আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা চাই এই যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং একটি সমঝোতার মাধ্যমে এর সমাধান হয়। যুদ্ধের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাপ্লাই চেনে সংকট তৈরি হয়েছে। এজন্য আমাদের বক্তব্য হচ্ছে আমরা যুদ্ধ চাই না।

তিনি বলেন, যে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হোক, সেগুলোতে যদি যুদ্ধ বন্ধ করার ঈঙ্গিত দিতে পারে, আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে, তাহলে আমরা খুব খুশি হবো। কারণ, যুদ্ধটা অনেক দিন চলমান থাকলে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের নিজস্ব নীতি আছে এবং আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো। আমরা জাতিসংঘ সনদে বিশ্বাস করি এবং জাতিসংঘের সমর্থক। আমাদের দেশের স্বার্থের জন্য মঙ্গলকর, আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।

ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়ার বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান এটি ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের প্রথম সফর হবে। সুলতানের এ রাষ্ট্রীয় সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকসমূহ স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-দ্বি-পাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তি, বাংলাদেশি জনশক্তি নিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক, দুই দেশ কর্তৃক নাবিকদের সার্টিফিকেটেরে স্বীকৃতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।

ব্রুনাইয়ের সুলতানের প্রথম বাংলাদেশ সফর সফল ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মোমেন। তিনি বলেন, বিগত এক দশকে ব্রুনাইয়ের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নানাবিধ ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্রুনাইয়ের ভিশন-২০৩৫ এর আওতায় গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, স্বাস্থ্য সেবা ও জ্বালানি ইত্যাদি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী।

ব্রুনাইয়ের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে মোমেন বলেন, ব্রুনাইয়ের সঙ্গেও জ্বালানি নিয়ে আলোচনা করছি। আমাদের ভালো আলোচনা হচ্ছে।

হালাল খাবার নিয়ে ব্রুনাই আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক গরু ও ছাগল রয়েছে। বিশেষ করে ব্রুনাইয়ের সুলতান আমাদের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস খুব পছন্দ করেন। হালাল মাংস রপ্তানি করা যায় কি না, তারা (ব্রুনাই) সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন। এটি নিয়ে আলোচনা করছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ উচ্চ আয়ের দেশ ব্রুনাইয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা স্থাপনের মধ্যে দিয়ে দু’দেশই লাভবান হতে পারে। সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা, মাদক ও মানব পাচার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশ এবং ব্রুনাই এক ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে থাকে। জাতিসংঘ, ওআইসি, এআরএফ, কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে।

সুলতানের সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনার সুযোগ হবে উল্লেখ করে ড.মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী এবং সুলতানের মধ্যে অধিকতর মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়াও এ সফর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সংগঠন আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়লগ পার্টনার হওয়ার বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব সহকারে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আগামী ১৫ অক্টোবর ব্রুনাইয়ের সুলতানকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। পরে তাকে ২১ বার তোপধ্বনিসহ গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। এরপর সুলতান সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। একই দিন ব্রুনাইয়ের সূলতান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে তার সম্মানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন সুলতান।

সফরের দ্বিতীয় দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রুনাইয়ের সুলতান দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। ১৭ অক্টোবর দেশে ফিরে যাবেন ব্রুনাইয়ের সুলতান।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email