বন্ধুর লেবাসে প্রবাসীদের অজ্ঞান করে সব লুট করতেন তারা

প্রকাশিতঃ 4:24 pm | October 02, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রবাসীদের অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নিত একটি চক্র। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) চক্রের মুলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। র‌্যাবের দাবি, গ্রেফতাররা প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসীকে কৌশলে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করেছে। মুলহোতা মো. আমির হোসেন ১৫টির অধিক মামলার আসামি। এ সময় লুট হওয়া সোনা, মোবাইল এবং অজ্ঞান করতে ব্যবহৃত উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২ অক্টোবর) দুপুরে কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এর আগে, গতকাল শনিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর বিমানবন্দর ও কদমতলী থানা এলাকা থেকে এই চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার হওয়া বাকিরা হলেন- লিটন মিয়া ওরফে মিল্টন (৪৮), আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে পারভেজ (৩৫) এবং জাকির হোসেন (৪০)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মোবাইল, অজ্ঞান করার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, যাত্রীর ছদ্মবেশ ধারণে ব্যবহৃত লাগেজ ও চোরাই স্বর্ণ।

র‍্যাব জানায়, বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ কোনো স্বজন বা গাড়ি নেই এমন বিদেশ ফেরতদের চক্রটি টার্গেট করত। তারা কৌশলে বিদেশ ফেরত ব্যক্তির সঙ্গে কুশল বিনিময় করে চক্রের অন্য সদস্যদের নিকট আত্মীয় বলে পরিচয় করিয়ে দিত। পরে একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত হয়ে তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য রাজি করাত। তারা একসঙ্গে বাসের টিকিট কেটে যাত্রা শুরু করত। ভ্রমণের সময় চক্রের সদস্যরা কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ মিশ্রিত বিস্কুট খাইয়ে ভুক্তভোগীদের অচেতন করতেন।

অজ্ঞান হওয়ার প্রবাসীর সঙ্গে থাকা লাগেজের টোকেনের মাধ্যমে বাস থেকে মালামাল নিয়ে চক্রটি পরবর্তী স্টেশনে নেমে যেতো।

জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ভোরে ভুক্তভোগী কুয়েত ফেরত প্রবাসী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাকে শুরু থেকেই চক্রের একজন সদস্য অনুসরণ করে বাইরে আসেন। বগুড়া যাওয়ার উদ্দেশে প্রাইভেটকারে উঠে আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাসের টিকিট কাটতে গেলে প্রবাসী যাত্রীর ছদ্মবেশে অবস্থান নেন চক্রের মূলহোতা আমির হোসেন।

ভুক্তভোগীকে তিনি জানান, তার কাছে বাসের একটি অতিরিক্ত টিকেট আছে। আগে থেকে সাজিয়ে রাখা একটি লাগেজ ও কিছু কুয়েতি দিনার দেখিয়ে আশ্বস্ত করেন যে, তিনিও একজন প্রবাসী। আমির হোসেনের কাছ থেকে টিকিট কিনে পাশের সিটে বসে বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।

কিছুক্ষণ পরই চক্রের মূলহোতা আমির হোসেন চেতনানাশক ওষুধ মেশানো বিস্কুট খেতে দেন। ভিকটিম বিস্কুট খাওয়ার কিছুক্ষণ পরে অজ্ঞান হয়ে যান। তার সব মালামাল ও সম্পদ লুট করে সিরাজগঞ্জ নেমে যায় চক্রটি। পরে বাসের সুপারভাইজার বুঝতে পেরে ভিকটিমকে উদ্ধার করে ও পরিবারকে খবর দেন।

চক্রটির মূলহোতা আমির হোসেন আগেও দুইবার ধরা পড়েছেন। তবে জেল থেকে ফিরে ফের জড়িয়েছেন অপকর্মে। বিমানবন্দরকেন্দ্রীক বাহিনীগুলো তার ব্যাপারে কি ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছিল প্রশ্ন ছিল কমান্ডার মঈনের কাছে।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, ‘চক্রের মূল হোতা আমির হোসেনবে চলতি বছরে র‌্যাব দুইবার গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের হাতেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছে। সে ১৫ মামলার আসামি। যতবারই ধরা পড়েছে ততবারই জামিনে বেরিয়ে এসেছে। লুন্ঠন করা অর্থের একটা অংশ তিনি জামিন সংক্রান্ত আইনী প্রক্রিয়ায় লগ্নি করেছেন আমির হোসেন।’

কালের আলো/আরএসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email