অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে বিজিবিকে

প্রকাশিতঃ 8:08 pm | September 29, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিজিবি) অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সাংগঠনিক কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন এনে বিজিবি আজ একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে জল, স্থল ও আকাশপথে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, এছাড়াও স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে সীমান্তে নতুন বিওপি, বিএসপি নির্মাণসহ অত্যাধুনিক সার্ভেইলেন্স ইকুইপমেন্ট স্থাপন, আধুনিক অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন, এটিভি ও অত্যাধুনিক এপিসি, ভেহিক্যাল স্ক্যানার ও দ্রুতগামী জলযান সংযোজন করা হয়েছে। বিজিবির এ অগ্রযাত্রায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিজিবির ৯৮তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার প্রতিফলন ঘটিয়ে বিজিবি সদস্যরা বাহিনীর ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সীমান্তে কাউকে ঢুকতে দেব না। আরাকান আর্মি, বিজিপি, বিচ্ছিন্নতাবাদী কিংবা যারাই হোক, তাদের আমাদের সীমান্তে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এটা আমাদের ক্লিয়ার মেসেজ।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। মিয়ানমার তাদের দেশের মধ্যেই বিভিন্ন সময় সংকটের মধ্যে পড়েছে। আরাকান আর্মিসহ সেখানে বিভিন্ন বিছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যুদ্ধ করছে। একবার আমরা শুনেছি, আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের দেশের কোনো সম্পর্ক নেই।

‘আমরা মনে করি, মিয়ানমার তাদের এলাকায় যুদ্ধ করবে, আমাদের দেশে তারা অনুপ্রবেশ ঘটাবে না, কিংবা অনুপ্রবেশ করবে না।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের বিজিবি অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে বর্ডার অঞ্চল রক্ষা করে চলেছে। সেই জায়গায় আমরা আরও জনবল (সৈনিক) বৃদ্ধি করেছি। যাতে করে সারাক্ষণ সীমান্তে বিজিবির চৌকিগুলোতে পর্যবেক্ষণ করেন।

বিজিবিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনোক্রমেই আরাকান আর্মি, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) কিংবা অন্য কোনো বাহিনীর সদস্য যেন আমাদের সীমানায় না ঢুকতে পারে। সেই লক্ষ্যে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি রাতদিন কাজ করছে।

নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা নতুন করে কাউকে আহ্বান করছি না। তাদের সীমানায় তারা যুদ্ধ করুক, কিন্তু আমাদের সীমানায় তাদের ঢুকতে দেব না, এটা আমাদের ক্লিয়ার মেসেজ।

এদিন দীর্ঘ ২৪ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে শপথগ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে আজ দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করছেন বিজিবির ৮৪৯ সৈনিক। সকাল সাড়ে ১০টার পর শুরু হয় এর আনুষ্ঠানিকতা।

অনুষ্ঠানে নবীন সৈনিকদের চৌকস দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সশস্ত্র সালাম জানায়। এছাড়া বিজিবির সুসজ্জিত বাদক দল ব্যান্ড ডিসপ্লে, থিম ডিসপ্লে এবং বিজিবির সদস্যদের অংশগ্রহণে ট্রিক ড্রিল প্রদর্শিত হয়।

৯৮তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার আ্যন্ড কলেজ (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) ও চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নে (৬ বিজিবি) শুরু হয়। দুই ভেন্যুতে ৮০৩ জন পুরুষ এবং ৪৬ জন নারী সৈনিকের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email