বিকল্পহীন শেখ হাসিনা

প্রকাশিতঃ 11:56 pm | September 28, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

অত্যুজ্জ্বল, বর্ণাঢ্য তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস। চারবারের প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবনে পদার্পণ করেছেন ৭৬ বসন্তে। বাংলার দু:খী মানুষের মুখে ফুটানোর রাজনীতি করেন। বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার একমাত্র বাতিঘর। একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় বাঙালি জাতির কাণ্ডারি। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস আর ইচ্ছাশক্তিতে বলীয়ান হয়েই আলোর পথে নিয়ে এসেছেন দেশকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পরিণত করেছেন বিশ্বনেতৃত্বে।

দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য নিজের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। নিশ্চিত করেছেন অর্থনৈতিক মুক্তি। অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন দেশকে।আর্থ-সামাজিক খাতেও অগ্রগতি অভূতপূর্ব। অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছেন, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকেও করেছেন উন্নয়নের রোল মডেল। জাতিসংঘে ৭৭ তম অধিবেশনে অংশ নিতে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু ঠিকই বর্ণিল আয়োজনে, উৎসব-আনন্দের দেশজুড়ে পালিত হয়েছে মহিয়সী আলোকবর্তিকা শেখ হাসিনার ৭৬ তম জন্মদিন। সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, কুতুবদিয়া থেকে তেতুলিয়ায় সম্মিলিত কন্ঠেই ছিল অভিন্ন এক উচ্চারণ ‘বিকল্পহীন শেখ হাসিনা।’ আজও তিনি এই দেশের মানুষের আশা, ভরসা আর আস্থার শেষ ঠিকানা। তিনি ইতিহাসের স্বাক্ষী তো বটেই নিজেও একটি ইতিহাস। মুকুট ধণ্য হয় যে মণিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা হচ্ছেন সেই মণি।

পঁচাত্তরের অন্ধকার রাতে বাঙালি জাতির চির আরাধ্য পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর প্রায় ৬ বছর বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরেই শুরু করেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। বারংবার শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েছেন, কারান্তরীণ হয়েছেন। হত্যার জন্য কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলা করা হয় তাঁকে। প্রতিবারই মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় মহান আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন শেখ হাসিনা। ৭৫ পেরিয়ে ৭৬ এ পা রাখলেন। টানা তিন মেয়াদে ১৩ বছরসহ একযুগ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বর্ষীয়ান নন্দিত রাজনীতিকদের মধ্যে তিনি একজন। বিরোধী দলে থাকার সময়ও কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, একুশে আগস্টের নৃশংস, বর্বরোচিত ঘটনা মোকাবেলা করেছেন। কোনো কিছু তাঁকে থামাতে পারেনি। মাঠের রাজনীতিতে কখনো আবেগের উচ্ছ্বলতা, আবার কখনো কঠোরতার মাঝে আওয়ামী লীগকে বারবার ক্ষমতায় এনেছেন। সাংগঠনিক বিশাল ভিত্তি গড়ে তুলেছেন।

শত বাধা-বিপত্তি এবং হত্যার হুমকিসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ভাত-ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দিয়েছেন দেশকে। তাঁর অপরিসীম আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করে নিজস্ব অর্থায়নে দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম স্থাপনা পদ্মা সেতু নির্মাণ করে গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন আমরাই পারি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছেন, স্যাটেলাইট মালিকানার খাতায় নাম লিখিয়েছেন। সাবমেরিন যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ।

নিজের বিশ্রামহীন দায়িত্ব পালনের কথা অতীতেও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কাজকর্মেও বাস্তব প্রতিফলন দেখেছে দেশবাসী। ২০১৮ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘একটা মানুষের তো ২৪ ঘণ্টা সময়। এই ২৪ ঘণ্টা থেকে আমি মাত্র ৫ ঘণ্টা নিই। আমার ঘুমানোর সময়। এছাড়া প্রতিটি মুহূর্ত আমি কাজ করি দেশের মানুষের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য। এর বাইরে আমার আর কোনও কাজ নেই। আমি কোনও উৎসবে যাই না। আমি কোথাও যাই না, কিচ্ছু করি না। সারাক্ষণ আমার একটাই চিন্তা—আমার দেশের উন্নয়ন, দেশের মানুষের উন্নয়ন। সারাক্ষণ চেষ্টা করি, কোথায় কোন মানুষটা কী অবস্থায় আছে, তার খোঁজ-খবর রাখতে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্জন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় আলাপ হচ্ছিল স্থানীয় জিকো কর্পোরেশনের ম্যানেজার জুলহাস ইসলামের সঙ্গে। রাজনীতি সচেতন এই ব্যবসায়ী প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলছিলেন, ‘পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল সবই উপহার দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। পত্রিকায় দেখেছি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত সবই হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে। সবচেয়ে বড় কথা আমরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারছি। প্রধানমন্ত্রী শতায়ু হোন, জন্মদিনে এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্লেষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপার্য আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পিতা-মাতা ও ভাইদের হারিয়ে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তা রক্ষায় শত বাধা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে বাংলাদেশকে আজকের অবস্থায় নিয়ে এসেছেন। তিনি মানবকল্যাণে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনে প্রভাবিত শেখ হাসিনা জাতির পিতার অসম্পূর্ণ কাজগুলোই সম্পূর্ণ করছেন।’

শেখ হাসিনার বিকল্প কে? এমন প্রশ্ন রেখে ‘চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়’ কবি নজরুলের কন্ঠে কোন একজন এমনটি বলেছিলেন কেউ। কিন্তু সেই দুর্মুখের মন্তব্যের বিপরীতে কন্ঠে কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছে, আওয়ামী লীগ তো নয়ই, দেশের রাজনীতিতেই শেখ হাসিনার বিকল্প কেউই নেই। উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথচলা অব্যাহত রাখতেই তিনি অপরিহার্য, অপ্রতিরোধ্য। তাকে ভীষণ দরকার। আওয়ামী লীগের সভানেত্রীকে যেমন দরকার আওয়ামী লীগের তেমনি দেশবাসীর। তার মতো রুচিশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব আর কখনও পাবে না বাংলাদেশ।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email