শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দ্যুতিতে ‘মুগ্ধ’ বিশ্বনেতারা

প্রকাশিতঃ 10:46 pm | September 24, 2022

শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দ্যুতিতে 'মুগ্ধ' বিশ্বনেতারা

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :

জাতিসংঘের ৭৭ তম অধিবেশনে রাষ্ট্রনায়কোচিত বার্তায় রীতিমতো নেতৃত্বের দ্যুতি ছড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈশ্বিক সঙ্কটের সন্ধিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন, মতবিনিময় করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া সংবর্ধনায় তিনি যোগ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা ও বাইডেন উভয়েই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বরাবরের মতো এবারও জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়ে দৃষ্টি কেড়েছেন চার মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক ধীশক্তি ও দূরদর্শিতার এই যোগ্য উত্তরাধিকার আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নব উচ্চতায় আসীন করেছেন। ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- জাতির পিতা প্রণীত বৈদেশিক নীতির এই মূলমন্ত্রকে পাথেয় করে ছুটেছেন দুর্বার। সাহসী, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, প্রজ্ঞাবান একজন বিশ্বনেতার মতোই যুদ্ধ নয় শান্তির পক্ষে বিশ্বসভায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। দুর্যোগের সঙ্কটময় সময়ে সমাধানের ফর্মুলাও দিয়েছেন।

মানবিক গুণাবলীতে অনন্য এই সরকারপ্রধান মানবকল্যাণের প্রত্যাশা করেছেন। নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে সরব থেকেছেন। বলেছেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য শান্তিময় বিশ্ব, উন্নত-সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করতে চাই। তাই বিশ্ব নেতাদের প্রতি আমার আকুল আবেদন- যুদ্ধ, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করুন।’ কার্যত প্রধানমন্ত্রী বৈরীপন্থা বাদ দিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট ও বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ ও টেকসই বিশ্ব গড়তে জোর দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্যে-‘জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্চারণ বিশ্বশান্তি ও মানবমুক্তির দিকদর্শন।’

বিশ্বসভায় বাংলাদেশের মর্যাদা বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাধা-বিপত্তির মধ্যেও মানবিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্দান্ত গতিতে ধাবিত করেছেন। উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথ সুগম করেছেন। তাঁর জাদুকরী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রযাত্রাকে সম্মানের চোখেই দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। প্রমাণিত হয়েছে তিনিই একমাত্র নেতা যিনি স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান ও স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন। ফলে বিশ্বনেতারা ভিশনারি লিডার শেখ হাসিনার প্রশংসায় মেতেছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। বাংলাদেশের অগ্রগতি যে গোটা বিশ্বের জন্যই অনুকরণীয় তাদের ভাষ্যে মোটা দাগে সেটি প্রতীয়মানও হয়েছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে তার সরকারের বিশাল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ উপস্থাপন করেছেন সুনিপুণ দক্ষতায়। বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন।

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুম নিয়ে নানান কথা বলছে। তাদের দৌড়ঝাঁপ কারও চোখ এড়ায়নি। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ঠিক এমন সময়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর পুরো প্রেক্ষাপটই যেন পাল্টে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর দুর্দান্ত নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। এরই মধ্যে দিয়ে পশ্চিমাদের মোড়ল দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক একটি ইতিবাচক বাঁক নিয়েছে। মূলত শেখ হাসিনার সম্মোহনী ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েই পরাক্রমশালীরাও সুর বদলেছেন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসোপানের নির্মাতা শেখ হাসিনা বিশ্বকে শান্তি আর সমৃদ্ধির পথেই এগিয়ে নিতে চান। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করে গোটা বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি সংগ্রামের তিনিই অসীম সাহসী কাণ্ডারি। বিশ্বসভাতেও নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তার সরকারের আমলে দ্রুতগতিতে দেশ এগিয়ে যাওয়ার বাস্তবচিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম। জিডিপির হিসাবে আমাদের অবস্থান ৪১তম। বিগত এক দশকে আমরা দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।

আমাদের মাথাপিছু আয় মাত্র এক দশকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের পূর্বে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক এক পাঁচ শতাংশ। এর আগে, আমরা টানা তিন বছর ৭ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। মহামারী চলাকালেও ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬ দশমিক নয় চার শতাংশ হারে প্রসারিত হয়েছে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বনেতারা অকপটে স্বীকার করছেন রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও সুদূরপ্রসারি চিন্তা-চেতনার ফলেই বাংলাদেশে সবদিক থেকে অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ সাধিত হয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে শেখ হাসিনা আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মানবাধিকারকে সুরক্ষিত করেছেন। বৈশ্বিক সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তাঁর সরকারের বহুমাত্রিক পদক্ষেপ এক অত্যুজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশে কোন অবস্থাতে উগ্রবাদ, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের মত দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক ধারার উত্থান চায় না যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্ব। এখানে উগ্রবাদ বা মৌলবাদীগোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে উঠলে এটি তাদের বড় মাথাব্যথার কারণ হবে। এক্ষেত্রে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বিশ্ব পরিমন্ডলেই প্রশংসিত হয়েছে। এক্ষেত্রেও সম্ভবত তাদের একমাত্র ভরসা বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক বঙ্গবন্ধুকন্যা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সাইবার-অপরাধ এবং সাইবার সহিংসতা মোকাবেলার লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক বাধ্যতামূলক চুক্তি প্রণয়নে একসঙ্গে কাজ করার জন্য জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রপন্থার বিষয়ে আমরা ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশের ভূখন্ডে কোনোরূপ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোন কর্মকান্ড সংঘটিত হতে দেই না।’

বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্জনে বিশ্বসভায় নিজ দেশকে বিশেষ মর্যাদায় মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়েছেন ‘মানবতার মা’ শেখ হাসিনা। গভীর দেশপ্রেম, সততা, সাহস, দক্ষতা ও পরিশ্রম এই দেশে তার সমতুল্য একজন নেতাও নেই। তিনি নিজের ক্যারিশমার দৌলতে, মেধার দ্যুতিতে আলো ছড়িয়েছেন। আলোকিত করেছেন বিশ্বমঞ্চকেও। সক্ষম হয়েছেন বিশ্বনেতাদের সমীহ আদায়েও। হয়েও উঠেছেন হিমাদ্রি শেখর সফলতার মূর্ত স্মারক। এমন নেতার প্রশংসায় সত্যিই কার্পণ্য নেই বিশ্বময় বিশ্বনেতাদের। যেমনটি ইতোমধ্যেই করে দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। দ্বিধাহীনচিত্তেই তার সরল স্বীকারোক্তি-‘ শেখ হাসিনা একজন ‘টেরিফিক লিডার।’

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email