সংসদ নির্বাচনে নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই : স্পিকার

প্রকাশিতঃ 9:15 pm | September 13, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ১৯৭২ এর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণে কোন বাধা নেই।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাব অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘‘বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারী সংসদ সদস্যদের ভূমিকা বিষয়ক’’ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর সংবিধান ১৯৭২, যেটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের দিয়ে গেছেন, সেটার মধ্যেই বলা আছে জাতীয় সংসদের গঠন কিভাবে হবে এবং এখানে নারী পুরুষ সংসদ সদস্যরা কিভাবে আসবে। এতে বলা আছে যে, জাতীয় সংসদের নির্বাচনে সারা বাংলাদেশে ৩০০ আসন থাকবে। সেখানে সারাদেশ থেকে প্রত্যেক আসনে একজন করে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসবেন। তিনি পুরুষও হতে পারেন। তিনি নারীও হতে পারেন। অর্থ্যাৎ সংবিধান অনুযায়ী নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, এটা তো কেবলমাত্র কোটা বা সংরক্ষিত আসনে নারীর কথা বলা হয়নি। নারী আসতে পারবে, আর কেউ আসতে পারবে না, এমনটা ও নয়। এটা আমাদের এ্যাপ্রিশিয়েট করতে হবে। ১৯৭২ সালের এই সংবিধানে জাতির পিতা যদি এই প্রবিশনটা না দিতেন তাহলে এটাকে সংবিধানে আনার জন্যই আমাদের দীর্ঘ আন্দোলন করতে হতো এবং আদৌ আমরা পারতাম কিনা সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

ড. শিরীন বলেন, আজকের সংসদে যে ৭৩ জন নারী, ৫০ জন সংরক্ষিত আসনে এবং ২৩ জন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। অর্থ্যাৎ প্রায় ২১ শতাংশ নারী আছে, এটাও আমরা অর্জন করতে পারতাম না। কাজেই আমরা সংরক্ষিত নয়, সরাসরি নির্বাচন করেই সংসদে আসবো।

তিনি নারীদের সরাসরি নির্বাচনে আসতে করণীয় নির্ধারণের দিকে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের প্ল্যানেট ফিফটি ফিফটি কমিটমেন্ট অর্জনের জন্য সংসদেও ৩০ পার্সেন্ট নয়, ৫০ পার্সেন্ট নারী সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মেহের আফরোজ চুমকি এম.পি সিডও সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সম্পত্তিতে নারীর অধিকার আদায়ের বিষয়টি আজো আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। এমনকি ধর্মীয় বিবেচনায়ও নারীরা সম্পত্তিতে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। কাজেই এটি আগে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে নারীরা আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন। তারা অনেক স্বাধীন। কাজেই তাদের আরো দক্ষ হতে হবে। কেননা, পুরুষরা ও দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এসে সমাজে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তারা তো এমনি এমনি যায়গা ছেড়ে দেবেন না। নারীদের নিজের যোগ্যতা দিয়েই সেটি অর্জন করতে হবে।

মহিলা পরিষদ সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন গুরুত্বপূর্ণ। এর সাথে নারী আন্দোলনের একটা সম্পর্ক আছে। নারী জনপ্রতিনিধিদের কাছে নারী সমাজের প্রত্যাশা রয়েছে। এই প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে, পুরুষ নির্মিত সমাজে নারীদের প্রত্যেককে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করার মনোভাব থাকতে হবে।

সকল নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে নারী জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীদের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ধর্মীয় আইনের প্রসঙ্গ উত্থাপন না করে সংবিধানের ভিত্তিতে নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি এম.পি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য লুৎফুনন্নেছা খান এমপি, শামসুন্নাহার এম পি, জাকিয়া পারভীন খানম এমপি, সৈয়দা রুবিনা আক্তার এম পি, অ্যাডভোকেট. জাকিয়া তাবাসসুম এমপি, রওশন জাহান সাথী এমপি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

সভার শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সদ্য প্রয়াত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রয়াণে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email