গার্ডার দুর্ঘটনায় ১২ কারণ চিহ্নিত : আমিন উল্লাহ নুরী

প্রকাশিতঃ 5:47 pm | September 04, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ঢাকা বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার দুর্ঘটনার ১২ কারণ চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, রাজধানীর উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার দুর্ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার দুর্ঘটনার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সচিব।

কারণগুলো হলো- সরকারি ছুটির দিনে কাউকে না জানিয়ে কাজ করেছে। প্রথমবার দিনের বেলায় গার্ডার স্থাপনের কাজ করা, অন্যদিন তারা রাতে কাজটি করতো। ক্রেনটি সহকারী দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, ড্রাইভার থাকলে সেটি হতো না। ক্রেনটির লাইসেন্স ছিল না। ক্রেনটি যেখানে চালানো হচ্ছিল সে জায়গা অসমতল ছিল। ক্রেনটির ডিজিটাল মনিটর ছিল না। কাজের পূর্বানুমতি ছিল না। ট্রাফিক ব্যবস্থা ছিল না, মূলত ট্রাফিককে জানাতে হয়।

ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে যোগ্য লোক ছিল না, নিজেরা এসব লোক রেখেছিল। সেফটি ইঞ্জিনিয়ারের যথাযথ যোগ্যতা ছিল না। ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান ছিল না। সেজন্য গার্ডার সরাতেও সময় লেগেছে। ঠিকাদার হিসেবে যাদের দিয়ে কাজ করানো হয়েছিল তাদের কোনও অনুমোদন ছিল না।

আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেন ছিঁড়ে প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনার পর প্রথমে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। পরে সেটি বাড়িয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়। ওই কমিটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দেয়। এরপর বুয়েটের বিশেষজ্ঞকেও কমিটিতে যুক্ত করা হয়। তদন্ত করতে গিয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গ্রেফতার ব্যক্তিসহ তারা সবার বক্তব্য নিয়েছেন।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে। ভিডিও ফুটেজে তার বিবরণ আছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বলছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৩৪টি পত্র প্রেরণ করেছে। কিন্তু পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সেটি মন্ত্রণালয়ে জানায়নি। তারা সেটি জানালে আমরা চাইনিজ কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতাম।

কী ধরনের শাস্তি হতে পারে জানতে চাইলে সচিব বলেন, তদন্ত কমিটি নির্দিষ্ট করে শাস্তির সুপারিশ করে না। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী তাদের শাস্তি হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘নো সেফটি নো ওয়ার্ক’— এই নীতিতে আমরা এগোচ্ছি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ আগস্ট বিকেলে উত্তরা জসীম উদ্দীন রোডের মাথায় প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে বিআরটি প্রকল্পের একটি বক্সগার্ডার ট্রেইলারে তোলার সময় ভারসাম্য হারায় ক্রেন। বিপুল ওজনের কংক্রিটের গার্ডারটি টঙ্গীমুখী সড়কে চলমান একটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে। ভারী গার্ডারের চাপে চ্যাপ্টা হয়ে যায় প্রাইভেট কারটি। এতে প্রাইভেট কারের ভেতরেই মৃত্যু হয় পাঁচজনের। দুজনকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় হাসপাতালে। হাতহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email