তীক্ষ্ণতর চোখ শিক্ষামন্ত্রীর; কিংবদন্তি তোফায়েল আহমেদকে শ্রদ্ধা-সম্মানের অনন্য নজির

প্রকাশিতঃ 5:20 am | August 18, 2022

পলিটিক্যাল এডিটর, কালের আলো:

সরকার প্রধান হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (১৫ আগস্ট) ঘড়ির কাঁটায় তখন ৬ টা ৪০ মিনিট। প্রস্তুতি হিসেবে পুষ্পস্তবক ঠিকঠাক করলেন দলটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

প্রধানমন্ত্রী যোগ দেওয়ার আগে প্রতিকৃতির সন্নিকটে এগিয়ে এসেছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। পেছন থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সামনের সারিতে এগিয়ে দিলেন ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের নায়ক, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য তোফায়েল আহমেদকে। হুইল চেয়ার ছেড়ে সামনে এসে দাঁড়াতেই অসুস্থ শরীরে হঠাৎ পড়ে গেলেন।

একজন বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিকের অসুস্থতা ঠিক পাশেই থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনির পর্যবেক্ষণের তীক্ষ্ণতর চোখ এড়ায়নি মোটেও। মুহুর্তেই হাত ধরে টেনে তুললেন কিংবদন্তি তারকা রাজনীতিককে। ডান পাশে দাঁড়ানো সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীও এ সময় তাকে সাহায্য করলেন উঠে দাঁড়াতে।

জাতির পিতার প্রতি সম্মান জানানোর পুরোটা সময় তোফায়েল আহমেদকে শক্ত হাতেই ধরে রাখলেন দীপু মনি; ঠিক যেন ছোট বোনের মতো। বাংলাদেশ টেলিভিশন পুরো অনুষ্ঠানটি লাইভ সম্প্রচার করায় রাজনীতিতে সিনিয়রের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর সম্মান, উদারচিত্ততা ও পরম সৌজন্যবোধ সবারই নজর কেড়েছে।

উদার গণতন্ত্রী, দেশপ্রেমিক, গণমুখী কর্মীবান্ধব রাজনীতিক হিসেবে এমনিতেই স্বনামে খ্যাত বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদের কন্যা দীপু মনি। রাজনীতিতে তার বাগ্মিতা, কথার জাদু, সহজ সরল ভাষাশৈলী জনতাকে চুম্বকের মতোই টানে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে হ্যান্ডেল এখন ঘুরছে বিনয়াবনত মন্ত্রীর এই ভিডিওটি। অনেকেই তাঁর মুগ্ধতা ছড়ানো ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। নেটিজেনদের মতে, শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বয়োজ্যেষ্ঠদের সব সময়ই শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখেই দেখেন। এটিই তাঁর পারিবারিক শিক্ষা এবং মন্ত্রীর গণমুখী রাজনীতির সৌন্দর্য।

ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ থেকে চলে যাওয়ার পরও হুইল চেয়ার আসার আগ পর্যন্ত তোফায়েল আহমেদকে ধরে রাখেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদও এগিয়ে আসেন। দ্রুতই হুইল চেয়ার নিয়ে আসেন ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। পরে ওবায়দুল কাদের, দীপু মনিসহ অন্যরা তোফায়েল আহমেদকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত এই ভিডিওটি নিয়ে অনেকেই বলছেন, রাজনীতির চিরচেনা শাশ্বত যে রূপ, তা অনেকটাই এখন ভেঙেচুরে একাকার। সভ্যতা, ভব্যতা বা বিনয়ও উধাও। কিন্তু জীবনের পড়ন্ত বেলায় থাকা বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী প্রবীণ জননেতা ও পার্লামেন্টারিয়ান তোফায়েল আহমেদ’র প্রতি মন্ত্রী দীপু মনির এমন সম্মান প্রদর্শন রাজনীতি নিরাসক্ত মানুষকেও গভীরভাবেই স্পর্শ করেছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনির সংসদীয় আসন চাঁদপুর সদরের একজন ভিডিওটি শেয়ার করে আবেগমথিত স্টাইলে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সবার প্রিয় দীপু মনি এমনই। রাজনীতিকে তিনি ‘পাবলিক সার্ভিস’ বা জনসেবা ভাবেন। তাঁর কাছে রাজনীতি মানেই জনগণের সেবা করার সুযোগ। মানুষের জন্য তিনি নিজেকে বিলিয়ে দেন। আপনার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি আরও বেড়ে গেলো মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী।’

দলীয় সূত্র জানায়, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের উজ্জল নক্ষত্র ৭৮ বছর বয়সী তোফায়েল আহমেদ ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই অসুস্থ। একবার স্ট্রোকও করেছিলেন। অসুস্থতার কারণে গত রোজার ঈদের আগে তাকে ব্যাংকক নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে ঈদের কয়েকদিন আগে দেশে ফেরেন তিনি। পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পুনরায় সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন এবং ধীরে হলেও চলাফেরা করতে পারছেন। বয়স ও অসুস্থতার কারণে সশরীরে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেও যান না। সাক্ষাৎকার দেন বাসায়। তবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এখনও নিজেকে পুরোমাত্রায় সক্রিয় রেখেছেন রাজনীতির এই জীবন্ত কিংবদন্তি।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email