যারা অস্ত্র তৈরি করে, তারাই লাভবান হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 2:03 pm | July 28, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ যুদ্ধ অর্থহীন। কারণ, এ যুদ্ধে আমি দেখতে পাচ্ছি, শুধু যারা অস্ত্র তৈরি করে, তারাই লাভবান হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। এ যুদ্ধ শুধু যুদ্ধই নয়, তার সঙ্গে আবার নিষেধাজ্ঞা। এ নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞার ফলে আজ সারা বিশ্বই অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) উপজেলা পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শতবর্ষ টিটিসিসহ ২৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, শুধু রেমিটেন্সের ওপর নির্ভর না করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য আমাদের রপ্তানির দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিদেশে নতুন বাজার খুঁজতে আমাদের স্থানীয় পণ্যে বহুমাত্রিক বৈচিত্র্য এনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশকে খাদ্যদ্রব্যের জন্য অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জনগণ এবং উর্বর জমিগুলোকে আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি। আমাদের খাদ্য সংরক্ষণের প্রক্রিয়াকে আধুনিকীকরণ করতে হবে এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন করতে হবে। এতে করে স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ হবে এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ। সেখানে ৩৮ শতাংশ যুব সমাজ। এই যুব সমাজকে আমরা শুধু বিদেশে পাঠাব এটা ভাবলে চলবে না। আমরা দেশে যে অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি সেখানেও দক্ষ জনশক্তি লাগবে। কাজেই আমরা প্রশিক্ষণ দেব, বিদেশের পাশাপাশি দেশেও কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গৃহকর্মী পাঠাই, তাদেরকে আমরা প্রশিক্ষণ দেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো আমরা যে প্রশিক্ষণটা দেই সেটা তারা যথাযথভাবে নেয় না। প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় যে টাকাটা দেওয়া হয় সেটা নেয়। কিন্তু প্রশিক্ষণটা নেয় না। পরে বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়ে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ, সংসদীয় বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সচিব ড. আহমেদ মুনিরুস সালেহীন এবং বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শহিদুল আলম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে টিটিসির ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email