সঙ্কটে দায়িত্বশীল ভূমিকায় মন্ত্রীরা

প্রকাশিতঃ 11:10 pm | July 23, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

জ্বালানি সঙ্কটে হিমশিম খাচ্ছে বহু দেশ। এই সঙ্কট মোকাবেলার জন্য প্রধানমন্ত্রী বারবার মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। জনগণকে কৃচ্ছতা সাধনের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন। জ্বালানি সাশ্রয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ব্যবহারে সরকার একগুচ্ছ কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে।

এছাড়া সরকারি অফিস-আদালতগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, অনলাইনে মিটিংসহ বিভিন্ন রকম সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকার রুটিন করে লোডশেডিংয়ের সময়সূচি ঘোষণা করছে। গত মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

আপাতত এসব সমাধান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে স্বস্তি দিচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা চলমান সঙ্কট নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করছেন। দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাস্তবতা তুলে ধরছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি নিজেও বলেছেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উন্নত দেশ হিমশিম খাচ্ছে। ডলারের দাম বাড়ছে, কমছে। জ্বালানির দাম বাড়ছে। উন্নত দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বাড়ছে। এমন দুর্যোগের সময়ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই বাংলাদেশ এখনো সচল রয়েছে।’

সঙ্কট সমাধানে সক্রিয় থেকে সরব ভূমিকা পালন করে চলেছেন তার সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা: দীপু মনি এমপি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ। এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। শনিবারও (২৩ জুলাই) তিনি জানিয়েছেন, চলমান বিদ্যুৎ সঙ্কট খুব বেশিদিন থাকবে না। এই সঙ্কট সাময়িক সময়ের জন্য।

মূলত সঙ্কট সমাধানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে চলেছেন। দেশের সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত সতর্ক করছেন। গুজবে কান না দিয়ে প্রকৃত সত্য জানতে উৎসাহিত করছেন। তারা বর্তমান বৈশ্বিক সঙ্কট এবং সেই বৈশ্বিক সঙ্কটের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সঙ্কট নিয়ে যাতে কেউ নষ্ট রাজনীতি করতে না পারে সেজন্য সজাগ ও সক্রিয় রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সঙ্কটে অনেকেই হাত-পা গুটিয়ে থাকেন। কম কথাবার্তা বলেন। কিন্তু ওবায়দুল কাদের, দীপু মনিরা বুদ্ধি এবং কৌশলেই সঙ্কট উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। এতে করে গুজব ডালপালা বিস্তার করতে পারছে না।

ওবায়দুল কাদের
দল ও সরকারের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ওবায়দুল কাদের। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যেই লোডশেডিং সঙ্কট থেকে উত্তরণ মিলবে বলে বারবার তিনি আশ্বস্ত করছেন। সাময়িক এই অসুবিধায় ধৈর্য ধারণ এবং সহযোগিতা করতে দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিনিয়ত। দৃঢ়ভাবে তিনি উচ্চারণ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি সঙ্কটকে সম্ভাবনায় রূপ দেন। তার ওপর অতীতে যেমন আস্থা রেখেছেন, এখনও রাখুন। একই সঙ্গে ‘লোডশেডিংয়ের কারণে সরকারের পতন হবে- বিএনপি নেতাদের এমন রঙিন খোয়াব অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে’- বলেও সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

ডা: দীপু মনি
দলে এবং সরকারে সমানতালেই সক্রিয় শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। আওয়ামী লীগের টানা চারবারের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সব সময়ই সঙ্কটে হাল ধরতে পারেন।চলমান সঙ্কটেও নীরব না থেকে প্রতিনিয়ত সরব থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক-সচেতন করছেন। নিজের ভাষ্যে মানুষের মনে সঞ্চারিত করেছেন স্বপ্ন আর আশা।

সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দলীয় এবং সরকারি কর্মসূচিতে লোডশেডিং নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মায়ের মমতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন এই বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই উপস্থাপন করছেন। অকাট্য যুক্তি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, প্রয়াত ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদের এই কন্যা বলছেন, ‘মায়ের মমতা দিয়েই প্রধানমন্ত্রী হিসাব করেছেন, সারাবিশ্বে সামনে যদি দিন আরও খারাপ হয় তাহলে আমাদের দেশের মানুষের যেন কষ্ট না হয়। এজন্যই আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে। সেই কারণেই সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সারাদেশে পালাক্রমে লোডশেডিং হবে। কাজেই এটা নিয়ে যারা গুজব ছড়ায়, তাদের কথা শোনবেন না।’

দীপু মনির বক্তব্যে পরিস্কার গোটা বিশ্বেই এই সঙ্কট চলছে। এই কথাগুলো তিনি মানুষের কানে পৌঁছে দিতেই প্রাণান্তকর প্রয়াস নিয়েছেন একদিন-প্রতিদিন। ফলত ভেস্তে যাচ্ছে সরকারবিরোধী সব ষড়যন্ত্র।

ড.হাছান মাহমুদ
প্রজ্ঞাবান ও বাগ্মী রাজনীতিক ড.হাছান মাহমুদও দল ও সরকারে সমান গতিতেই কাজ করছেন। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করছেন। সমালোচকদের বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অষ্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদাহরণ টানছেন। এর মধ্যে অষ্ট্রেলিয়ায় ১৫ থেকে ১৮ ঘন্টা লোডশেডিং হবার চিত্রও উপস্থাপন করেছেন। দেশের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরছেন। বিএনপির সময়ে বিদ্যুতের দাবিতে মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল বলেও পেছনের ইতিহাস নিজের জবানীতে তুলে এনেছেন। এই সঙ্কটটি সরকারের সৃষ্ট সঙ্কট না, বৈশ্বিক সঙ্কটের একটি অংশ পুরো বিষয়টি খোলাসা করতে সক্ষম হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আপত্য স্নেহের অধিকারী এই মন্ত্রী।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email