বারবার ‘চ্যালেঞ্জ’ জিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান

প্রকাশিতঃ 5:40 am | July 22, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

নেতৃত্ব আর কর্মের দ্যুতিতেই উচ্চারিত উজ্জ্বল তাঁর নাম। দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের অন্যতম অগ্রনায়ক। ব্যক্তিত্বে ও পরিচিতিতে ঋদ্ধতর৷ দীর্ঘ ৩১ বছরের বর্ণাঢ্য সামরিক চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। দেশের অনেক সঙ্কটেই কার্যকর সমাধানের পথনকশা প্রস্তুত করেছেন। দৃঢ়চেতা থেকে অনবদ্য দেশপ্রেমের নজির গড়েছেন প্রতিনিয়ত।

র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক থেকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (এনএসআই) পরিচালক হিসেবেও দক্ষতার সঙ্গে নিখুঁতভাবেই পালন করেছেন অর্পিত দায়িত্ব।

টানা ৫ বছর ৪ মাস সাফল্যের সঙ্গে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে একটি চিঠিতে মহাপরিচালক হিসেবে তাঁর চাকরি পুনরায় প্রেষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বিভাগে ন্যস্ত করতে বলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে এই আদেশ জারি করা হয়। এখন কেবলই প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা।

মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান হবেন এনটিএমসি’র ইতিহাসে প্রথম মহাপরিচালক।

মূলত জিয়াউল হাসানের হাত ধরেই দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনটিএমসি সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কাছে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে। একনিষ্ঠভাবে, বেশ সফলতার সঙ্গেই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জে তিনি জিতেছেন।

নিরাপদ ও সুরক্ষিত করেছেন দেশকে। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও তার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, এনটিএমসির মহাপরিচালক করতে যাচ্ছেন। এবারই প্রথম পদটি সৃষ্টি হয়েছে।

জিয়াউল আহসান বর্তমানে এনটিএমসির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল থেকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার ওপর আস্থা রাখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ভবিষ্যতেও আমি অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবো।’

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির দ্রুত উৎকর্ষতার ফলে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০৬ (সংশোধিত)-এর অনুচ্ছেদ ৯৭-ক ক্ষমতা বলে টেলিযোগাযোগ সেবাদানকারী সকল মাধ্যমকে নিরবছিন্নভাবে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)।

এনটিএমসির প্রতিটি কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের এক বা একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং তদন্তকারী সংস্থা জড়িত।

এই এনটিএমসিকে দেশ ও মানুষের নিরাপত্তায় অগ্রণী ভূমিকায় উপস্থাপন করেছেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। নিষ্ঠা, একাগ্রতা, সততা, সাহস ও কঠোর পরিশ্রমই তার কর্মজীবনের সাফল্যের মূল উপজীব্য। একজন অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এই উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তার সময়ানুবর্তিতার ব্যাপারেও তীক্ষ্ণ নজর।

নানা ধরনের চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির টার্গেট হয়েছেন।এসেছে নানা বাধা ও বিপত্তি। কিন্তু নিজের কাজ থেকে দূরে থাকেননি। বরং নতুন নতুন উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। এনটিএমসিকে সমৃদ্ধ করেছেন, সক্ষমতা বাড়িয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রগতি, ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে আধুনিক-অগ্রসর চিন্তার মেলবন্ধন ঘটিয়ে এগিয়ে চলেছেন দুর্বার গতিতেই।

এক নজরে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান
বরিশালের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুসন্তান মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ১৯৯১ সালের ২১ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। ২০০৯ সালে ৫ মার্চ তিনি র‌্যাব-২’র উপ-অধিনায়ক পদে নিযুক্ত হন। পরের বছর ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

২০১৩ সালের ৭ ডিসেম্বর র‌্যাব সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (অপারেশনস) দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। র‌্যাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় জিয়াউল আহসান দক্ষতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তার নেতৃত্বে র‌্যাব জাতীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করে। র‌্যাবে দায়িত্ব পালনের সময় জেএমবি, হুজি ও আনসারুল্লাহসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতা, সাভারের রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা ও মাদক সম্রাট আমিন হুদাসহ অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এছাড়া তিনি র‌্যাবকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকার সময় তাকে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) ডিডিজি হিসেবে বদলি করা হয়। পরে তাকে সেখান থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে সংযুক্ত করা হয় ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল। ২০১৭ সালের ২ মার্চ থেকে এনটিএমসি’র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্যাটালিয়নের এক চৌকষ প্যারাকমান্ডো হিসেবে সুখ্যাতি রয়েছে জিয়াউল আহ্সানের।

বঙ্গবন্ধুর আত্মসীকৃত খুনিদের গ্রেফতার এবং তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করার স্বীকৃতি স্বরূপ বছর দুয়েক আগে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদকে ভূষিত করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email