ফেরিঘাটে হাহাকার: লঞ্চ আছে যাত্রী নেই

প্রকাশিতঃ 2:03 pm | June 26, 2022

কালের আলো প্রতিবেদক:

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরের দিন রোববার (২৬ জুন) দিনেই উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আর ২১টি জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট। এই ঘাট দিয়েই ওই অঞ্চলের যাত্রীরা লঞ্চ, সী-বোট বা ফেরি করে পাড়ি দেয় উত্তাল পদ্মা।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর রোববার ভোর ৫টা ৪০ মিনিট থেকে যান চলাচলের জন্য তা খুলে দেয়া হয়। এর প্রভাব পড়েছে ফেরি ঘাটগুলোতে। বর্তমানে শিমুলিয়া ঘাট এলাকা অনেকটাই যানবাহন শূন্য। ফেরি এবং লঞ্চ আছে কিন্তু যাত্রী নেই।

রোববার (২৬ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের কোনো সারি নেই। আগে যেখানে প্রতিদিনই ৪-৫ কিলোমিটার যানজট থাকত, সেখানে আজ ঘাট ফাঁকা। যাত্রীবাহী বাস খুবই কম আসছে। যেগু‌লো আসছে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করেই ফেরি পার হ‌য়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, রাজধানী থেকে সেতুর প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী মাওয়া ঘাটের চিরচেনা চিত্রও পাল্টেছে। ঘাটে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরি থাকলেও নেই পারাপারের যাত্রী। বাহারি খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট থাকলেও নেই আগের মতো হাকডাক। নেই কোন ব্যস্ততা নেই সেই কোলাহল।

পদ্মা সেতুর কারণে মাওয়া ঘাটে যে পরিবর্তন তা নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভোগান্তির কথা জানিয়ে এক যাত্রী বলন, বৈরী আবহাওয়া ও যানজটের কারণে সময়মতো লঞ্চ-ফেরি না পেয়ে কত সময় যে ঘাটে নষ্ট হয়েছে আমাদের। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এ ঝামেলা থাকছে না।

অন্যদিকে স্বপ্ন পূরণ খুশির কথা জানালেও অনেকের আয়ের উৎস কমেছে বলে আফসোস অনেকের।

তারা জানান, সেতু চালু হওয়ার পর ঘাট এলাকার চিরচেনা ব্যস্ততা আর নেই। গাড়ি চলাচল না হওয়ায় ঘাট সংলগ্ন রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী ও হকারদের আয় কমে যাবে। এ চিন্তা করে অনেকেই ভিন্ন পেশায় যাওয়ার চিন্তা করছেন।

শিমুলিয়ার ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে ১২টি স্পিডবোট ও ৮টি লঞ্চ শিমুলিয়া থেকে মাঝিরকান্দি ও বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে ঘাট ছেড়েছে। প্রতিটি স্পিডবোট ও লঞ্চ তুলনামূলক কমযাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়েছে।

ফরিদপুরের যাত্রী রাসেল বলেন, তাড়াতাড়ি যেতে হবে তাই স্পিডবোটে নদী পাড়ি দিচ্ছি। আজ সকাল থেকেই পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে। পুরো ফেরি ফাঁকা। তেমন কোনো যাত্রী নেই।

তরিকুল বলেন, যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি ঘাটে আসা মাত্রই ফেরির দেখা পাচ্ছে। বর্তমানে ফেরি যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছে। ঘাটে যাত্রী ও যান চালকদেরও কোনো ভোগান্তি নেই।

পদ্মাসেতুকে ঘিরে মাওয়া ঘাট এলাকায় তৈরি হতে যাচ্ছে ইকোপার্ক। ঘাটের বাস-ট্রাকের টার্মিনালকে ইকোপার্কের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) শিমুলিয়া বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, সকাল থেকেই ঘাট থেকে লঞ্চ, স্পিডবোট যথানিয়মে চলাচল করছে, তবে যাত্রীসংখ্যা অনেকটাই কম।

কালের আলো/এমএইচ/এসবি

Print Friendly, PDF & Email