পদ্মা সেতু অপমানের প্রতিশোধ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 10:32 am | June 09, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু আমাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। পদ্মা সেতু সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এবং অপমানের প্রতিশোধ। এই সেতু শুধু সেতু নয়, এটি প্রকৌশলজগতে এক বিস্ময়।

বুধবার (০৮ জুন) প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে পদ্মা সেতু নির্মাণ ও দেশের বৃহৎ এ অবকাঠামোর উদ্বোধনের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে আনিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় একথা বলেন।

তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে ‘বাংলাদেশ করতে পারে’ এমন ধারণা তৈরি হয়েছে, যা সারা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ যে নিজেরাও পারে সে ধারণা প্রতিষ্ঠিত করে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদাকে উজ্জ্বল করেছে। আর এটা আমরা করতে পেরেছি আত্মবিশ্বাসের জন্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি পদ্মা সেতু আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। টেকনোলজি সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষের জ্ঞান বেড়েছে। আমরা ভবিষ্যতে আরো অনেক উন্নত কাজ করতে পারবো।

পৃথিবীতে এই ধরনের বিশাল ষ্ট্রাকচারের সেতু আজ পর্যন্ত তৈরী হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। লাখো শহীদেও রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। এত রক্ত কোনদিন বৃথা যেতে পারেনা।

’৭৫ থেকে ’৯৬ এবং পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আমাদের একটা খারাপ সময় গেছে। কিন্তু ধরাবাহিকভাবে ২০০৮ সালের পর থেকে ক্ষমতায় আছি বলেই আজকে উন্নয়নও করতে পারছি এবং পদ্মা সেতুও করতে পেরেছি।

তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে শোকরিয়া জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি যখন বলেছি নিজেদের অর্থায়নে করবো (পদ্মা সেতু) মানুষ এগিয়ে এসেছে।

এ সময় অনেক ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল যার অনেকগুলো চেক তিনি স্মৃতি স্বরুপ তাঁর কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন, ভাঙ্গানোর প্রয়োজন পড়েনি বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সেতুর মূল নকশা থেকে নদীর নাব্যতা এবং নদীর তলদেশের বৈচিত্র, প্রখরস্রোত, পুরো সেতুর নেভিগেশণ ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করা, রিক্টার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকল্প প্রতিরোধক এবং দ্বিতল এই সেতুর ভারবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি, ভুমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্থদের তিনগুণ অর্থ প্রদান এবং বছর বছর নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির বিভিন্ন উদাহারণ টেনে এর ব্যয় নিয়ে ঢালাও ভাবে সমালোচনাকারিদের মনমানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

একে এক ধরণের হীনমন্যতা আখ্যায়িত করে ব্যক্তি স্বার্থে তাদের এধরনের সমালোচনা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাহাড়ের ওপর ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতুর নির্মাণ ব্যয় নিয়ে সংসদে বিএনপি’র সংসদ সদস্যদের তুলনার উত্তর দেন তিনি।

তিনি বলেন, ড. ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদটি রক্ষার লোভে হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে বিশ^ ব্যাংকের মাধ্যমে এই পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করায়। তারা ভেবেছিল যে আমরা এখানে সারেন্ডার করবো। কিন্তু আমি শেখ মুজিবের মেয়ে এটা মনে রাখা উচিত। অন্যায়র কাছে মাথা নত করিনি,করবোনা। আর এই দেশ এবং দেশের মানুষকে আমি ভালবাসি। কাজেই এদেশের মানুণের মাথা হেঁট হোক সে কাজ কোনদিনও করবোনা।

ক্ষমতা তাঁর কাছে বড় বিষয় নয় বরং দেশের মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং ইনশাল্লাহ এদেশের কোন মানুষ আর ভূমিহীন-গৃহহীণ থাকবেনা, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তাঁর প্রতি দেশবাসীর যে সমর্থন সেটাকেই তিনি তাঁর মূল শক্তি হিসেবেও অভিহিত করেন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মুদ্রাস্ফীতি এবং খাদ্য সংকটের প্রসংগ টেনে প্রধানমন্ত্রী সকলকে সাশ্রয়ী এবং মিতব্যয়ী হবারও পরামর্শ দেন। পাশপাশি দেশের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখায় তাঁর আহবান পূণর্ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email