জাপানি শিশু: স্বামীর বিরুদ্ধে জাপানি নারীর অবমাননার আবেদন খারিজ

প্রকাশিতঃ 12:16 pm | June 02, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনার বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফের বিরুদ্ধে শিশুদের মা নাকানো এরিকোর করা আদালত অবমাননার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

এ সময় আপিল বিভাগের বিচারপতি নুরুজ্জামান বলেন, ‘এসব আবেদন করে সময় নষ্ট করবেন না।’

পরে আদালত এরিকো নাকানোর করা দুটি আবেদন খারিজ করে দেয়।

এর আগে গত ১৬ মে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে জাপানি দুই শিশুর মা নাকানো এরিকো বাংলাদেশি নাগরিক ইমরান শরীফের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন। আদালত ২৩ মে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে দুই শিশু মায়ের সঙ্গে বারিধারায় থাকবেন। বাবা শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এ নির্দেশনা অমান্য করে ইমরান শরীফ জোর করে মাঝে মাঝেই শিশুদের নিয়ে বাইরে যান। এ কারণে আমরা আদালত অবমাননার আবেদন করেছি।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জাপানি বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি দুই কন্যাশিশু আপাতত তাদের মা জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোর হেফাজতেই থাকবে বলে আদেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

ওই আদেশে বলা হয়- শিশু দুটির বিষয়ে ঢাকার পারিবারিক (সহকারী জজ) আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা মায়ের কাছেই থাকবে। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে পারিবারিক আদালতকে মামলাটি নিষ্পত্তিরও নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগের আদেশে গত বছর ১২ ডিসেম্বর থেকে মায়ের হেফাজতেই রয়েছে শিশু দুটি। তবে, তাদের বাবা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

গত বছর ২১ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের হেফাজতে থাকবে বলে রায় দেন। এতে বলা হয়, যেহেতু মা জাপানি নাগরিক, সেখানে থাকেন এবং কাজ করেন, তাই তিনি নিজের সুবিধামতো সময়ে বাংলাদেশে এসে বছরে তিন বার ১০ দিন করে দুই সন্তানের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। হাইকোর্ট বিভাগের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন মা। এ আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতবছর ১২ ডিসেম্বর মায়ের কাছে শিশু দুটিকে দিতে তাদের বাবাকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email