বাণিজ্যমন্ত্রী পদের প্রতি আমার লোভ নেই : টিপু মুনশি

প্রকাশিতঃ 12:06 am | June 01, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ভোগ্যপণ্যের দাম ‘অস্বাভাবিক’ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, তেলের দাম বাড়ার পর বাম দল আমার পদত্যাগ দাবি করেছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী পদের প্রতি আমার লোভ নেই।

মঙ্গলবার (৩১ মে) বিকেলে নগরের পলো গ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত মাসব্যাপী চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (সিআইটিএফ) উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন টিপু মুনশি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, কেউ যদি আমাকে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলে তেলের দামটা কমিয়ে দিতে পারে, মালয়েশিয়া আর ইন্দোনেশিয়ার পাম ওয়েলের দাম কমিয়ে দিতে পারে। সেখানে দাম কমলে তো আমরা কমেই পেতাম। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি তারা (সিপিবি) আমার পদত্যাগ চাইছে, পদত্যাগ করব কি না? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা পদত্যাগ চেয়েছেন তাদের জিজ্ঞেস করো তারা দাম কমাতে পারবে কি না, কমাতে পারলে মন্ত্রী করবো। পদত্যাগ করতে হবে, এসব কথা শুধু বলার জন্য বলা, কাউকে ছোট করার জন্য বলা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার অ্যাডভান্সড (আগাম) চিন্তা করেছিল। তেলের দাম ভারতে ১৫ টাকা, পাকিস্তানে ৩৬ টাকা বেশি। ১০ শতাংশ তেল হয় দেশে। গম, ডাল আমদানি করতে হয়। আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এক কোটি মানুষকে তেল, চিনি, ছোলা দিয়েছি সাশ্রয়ী মূল্যে। ৫ কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছে। যত দিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় ততদিন এটি চলবে। ভর্তুকি দিতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার যেটা পারে, ভ্যাটটা উইথড্র করতে পারে এবং সরকার সেটা করেছে। ডাল, গম আমাদের আমদানি করতে হয়। যেসব দেশ থেকে আমদানি করা হয়, সেখানে দাম বাড়ছে। এরপরও আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। মানুষকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি, সেই চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য আমরা দিয়েছি

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমার ৫৬ বছর রাজনীতি করার ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধ করেছি। ব্যবসায়ী হয়েছি স্বাধীনতার পরে এসে। এক সময় বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন যে, সরকার ব্যবসা করবে না, ব্যবসায়ীদের সাহায্য করবে। আমাদের ব্যবসায়ীদের যা প্রয়োজন, সরকার সেটা পূরণ করবে। সে কারণেই তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে আমাকে বেছে নিয়েছিলেন কি না আমি জানি না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেষে ভোগ্যপণ্যের দাম, আমদানির বিকল্প বাজার— এসব নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে যদি দাম বাড়ে আমরা কমাতে পারব না। আন্তর্জাতিক বাজারে যদি দাম কমে, দেশেও কমে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটা করছেন, ভর্তুকি মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া, সেটা আমরা করছি। আমরা আশাবাদী যে, তেলের দাম কমতে শুরু করবে। পামঅয়েলের দাম এখন নিম্নমুখী, কিন্তু সয়াবিন তেলের দামটা এখনও কমেনি। তবে বিপদ যখন আসে গ্লোবালি আসে। আমরাও তো মেম্বার অব দ্য গ্লোবাল ফ্যামিলি। সেটা আমাদের সইতেই হবে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা একটু সাশ্রয়ী হই।’

তেলের বিকল্প বাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিকল্প বাজার কোথায় পাব? আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ছাড়া অন্যদের তো এত সারপ্লাস নাই যে, আমাদের দেবে। আমরা যেটা করছি, রাইস বান অয়েল উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এটা আমাদের দেশে মাত্র ১০ শতাংশ হয়, এটা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাবার প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা আগামী বাজেটে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিলশের (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।

এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম। উপস্থিত ছিলেন সিআইটিএফ চেয়ারম্যান, চেম্বার পরিচালক একেএম আকতার হোসেন, চেম্বারের সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর প্রমুখ।

কালের আলো/বিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email