সশরীরে সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের সভায় প্রধানমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিতঃ 10:10 pm | May 30, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো

করোনা মহামারির প্রকোপ কমে আসায় দু’বছর পর এবার সশরীরে সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (৩০ মে) সেনাবাহিনী সদর দপ্তরের সেনাসদর কনফারেন্স হল হেলমেট’এ উপস্থিত হয়ে সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের সভার উদ্বোধন করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: পছন্দ-অপছন্দের উর্ধ্বে উঠে সৎ-দক্ষদের সেনা নেতৃত্বে আনার গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ৬ দিনব্যাপী এই পদোন্নতি পর্ষদে সেনাবাহিনীর কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবীর যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী সেনাসদরে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ তাকে স্বাগত জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনাবাহিনীর জেনারেল পদবীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশরীরে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব গোলাম মো: হাসিবুল আলম, সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলম, এনডিসি কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো.আকবর হোসেন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, আর্টডকের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমানসহ সেনাবাহিনীর জেনারেল পদবীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং সেনাসদর হেলমেট’এ রক্ষিত ভিজিটরস বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপের সারসংক্ষেপ
সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা গত একযুগে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করেছেন। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাবাহিনীতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, সেনা বিমান ও হেলিকপ্টারসহ আধুনিক ইনফ্যান্ট্রি গেজেট, ইঞ্জিনিয়ারিং সরমঞ্জামাদি সংযোজন করেছেন। বঙ্গবন্ধু প্রণিত প্রতিরক্ষা নীতির ভিত্তিতে নতুন করে ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি, ২০১৮’ প্রণয়ন করেছে, যা মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

দেশের শীর্ষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) এবং ১৯৯৮ সালে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ পিস্ সাপোর্ট অপারেশন ট্রেইনিং (বিপসট) এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ (এএফএমসি) প্রতিষ্ঠা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর সরকার সে সময় নতুন নতুন ব্রিগেড, ইউনিট ও ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করে। সেনাবাহিনীতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্মার্ড পার্সোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি), আর্মার্ড রিকভারি ভেহিকেল (এআরভি), ব্যাটল ট্যাংক, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র এবং সরঞ্জামাদি কিনে দিয়েছেন।

২০০০ সালে আর্মি মেডিক্যাল কোরসহ অন্যান্য কোরে নারী অফিসার নিয়োগ শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়েই। ২০০০ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে গৃহীত ১৩২৫ নম্বর সিদ্ধান্তের আওতায় নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর।

তাঁর সরকার ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এর সাংগঠনিক কাঠামোতে ৩টি নতুন ফর্মেশনসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইউনিট ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত করেছেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পিস বিল্ডিং সেন্টার (বিপিসি) প্রতিষ্ঠা করেছেন।

বিগত ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন ফরমেশনের অধীনে তিনটি ডিভিশন সদর দপ্তর, ১৪টি ব্রিগেড সদর দপ্তর এবং ছোট বড় ১৫৪টি ইউনিট প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এছাড়াও ৫৬ টি ছোট বড় ইউনিট এডহক হিসেবে গঠন করা হয়েছে। এতে করে সেনাবাহিনীর সামরিক শক্তি ও দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

গত বছরের সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘সেনাবাহিনীতে অটোমেটিক গ্রেনেড লঞ্চার, সারফেস টু এয়ার মিসাইল, অ্যাসল্ট রাইফেল, নাইট ভিশন ডিভাইস, ট্যাংকের জন্য সিমোলেটর, অত্যাধুনিক অরলিকন রাডার কন্ট্রোল গান সিস্টেম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য সরঞ্জামাদি ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসবই সম্ভব হয়েছে আপনার (প্রধানমন্ত্রী) সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের বদৌলতে।’

কালের আলো/এসবি/এম

Print Friendly, PDF & Email