বাজার নয়, পর্যটন আর উপভোগের শহর হবে ঢাকা : তাপস

প্রকাশিতঃ 8:39 pm | May 23, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ঢাকা শহরকে পর্যটন আর উপভোগের শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফলজে নূর তাপস।

তিনি বলেছেন, যেভাবে ঢাকায় জায়গাগুলোকে দখল করা হয়েছে, চারদিকে শুধু বাজার আর বাজার। আমরা চাই, ঢাকা হবে পর্যটন নগরী। ঢাকা হবে ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নগরী। এজন্য আমরা পথনকশা শুরু করেছি।

সোমবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সদরঘাটে লালকুঠি ৪৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে ‘DCNUP’ প্রকল্পের আওতাধীন প্রকল্প কার্যাবলি সংক্রান্ত প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে মেয়র এসব কথা বলেন।

তাপস বলেন, আমি অনেক ভেবেছি কীভাবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ যায়। আমাদের মূল লক্ষ্য ঢাকাকে সংরক্ষণ করা, শুধু লালকুঠিকে সংরক্ষণ করা নয়। আমাদের প্রাণের ঢাকা, যে ঢাকাকে আমরা খুব ভালোবাসি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকাকে সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ জানাই ঢাকাকে সংরক্ষণ করতে এ প্রকল্পে সহযোগিতা করার জন্য। সচেতন নাগরিকসহ সবাইকে আহ্বান জানাবো ঢাকাকে সংরক্ষণ করতে আমাদের সহযোগিতার জন্য।

তিনি বলেন, নদীর পাড়ে ঢাকাকে অবস্থিত করা হয়েছিল। নদী হলো আমাদের মূল সম্মুখ। এই সম্মুখকে যদি আমরা জীবিত না রাখতে পারি, পরিশীলিত না করতে পারি তাহলে ভেতরে কেউ ঢাকাকে খুঁজে পাবে না। ভেতরে শুধু থাকবে ইট-বালু আর সিমেন্টের কিছু দালান আর ভবন।

মেয়র বলেন, ঢাকাকে যদি উপভোগ করতে হয় তাহলে নদীকে উপভোগ করতে হবে। ঢাকাকে যদি উপভোগ করতে হয় তাহলে লালকুঠি, রূপলাল হাউস, আহসান মঞ্জিলসহ ছোট কাটরা, বড় কাটরা, লালবাগের কেল্লা একে উপভোগ করতে হবে যেটা আমাদের পরিচিতি দেবে ঢাকার।

তিনি বলেন, আমরা বহির্বিশ্বে গিয়ে কিন্তু পুরোনো শহরটা উপভোগ করি। নতুন শহরকে উপভোগ করতে যায় না। তাই আমাদেরও ঢাকাকে সংরক্ষণ করতে হবে।

ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদী ঘেঁষে গড়ে ওঠেছে আমাদের ঢাকা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাথেকে এখন আর বুড়িগঙ্গা দেখতে পাই না। কারণ, সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি দখলদারিত্বের ছোবলে নদী আজ দখল হয়ে গেছে। তাই, আমি বিআইডব্লিউটিএ-কে অনুরোধ করবো— অতিসত্বর আপনারা লালকুঠি হতে রূপলাল হাউজ পর্যন্ত অংশে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সরিয়ে ফেলুন। ঢাকার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে টার্মিনালের এই অংশটি দ্রুত সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিন।’

ঢাকার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও ফিরিয়ে আনতে এটাই সর্বোত্তম সময় উল্লেখ করে শেখ তাপস বলেন, ‘ঢাকার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর দুঃখজনকভাবে দেখলাম, লালকুঠি আর ঢাকা গেটই শুধু করপোরেশনের আওতাধীন। রূপলাল হাউজসহ যেসব স্থাপনা ঢাকার অস্তিত্ব সৃষ্টি করেছে, ঢাকাকে পরিচিতি দিয়েছে— সেগুলো করপোরেশনের আওতাধীন নয়। তাই রূপলাল হাউজ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় হস্তান্তর করতে আজকের অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্টদের যে দাবি, সেই দাবির সঙ্গে আমিও একাত্মতা পোষণ করছি। রূপলাল হাউজ আমাদেরকে হস্তান্তর করলে আমরা এর পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করবো। আমরা ঢাকার সব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও স্মৃতিস্তম্ভের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই।’

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মারসি টেমবন বলেন, সবার পর্যবেক্ষণগুলো শুনছিলাম এটা খুবই ভালো লাগছিল। পরিদর্শন করে যখন দেখছিলাম তখন সবাই যে বিষয়টি বলছিল তা হলো জনসম্পৃক্ততা জরুরি। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর সংরক্ষণে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। আমরা এই উদ্যোগের পাশে থেকে এটাই বলতে চাই, উদ্যোগগুলোর যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়।

ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বলেন, গত ৫০ বছরে যেসব মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সবাই ঢাকা নগরীর ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষায় কিছুটা উদাসীনতা দেখিয়েছেন। আমরা এখন একজন মেয়র পেয়েছি যার কাছে ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব পেয়েছে। পুরান ঢাকার মানুষের অধিকার আছে ধানমন্ডি গুলশান এলাকার মানুষের মতো বসবাস করার। বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে সেই পরিবেশ পাবে বলে আশা করি।

আইএবি’র সভাপতি প্রকৌশলী মোবাশ্বের হোসেন বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে কাজ করলে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। বর্তমান মেয়রের সেভাবেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে উদ্যোগ নিয়েছেন এটা খুবই প্রশংসনীয়। উন্মুক্ত জলাশয় ও খেলার মাঠ সংরক্ষণ আইন হয়েছে। পুরান ঢাকার মানুষ অনেক পুরোনো বিল্ডিং রাতের বেলায় না ভেঙেই সেটিকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য দৌড়াদৌড়ি করবে এমনটাই চাই আমরা।

রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সবধরনের সহযোগিতা করেছেন। মেয়রকে বলবো, কাজ যখন শুরু হবে তা একদিন শেষ হবেই। আমরা জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে নগরীর জন্য ভালো কিছু কাজ করে যেতে পারলেই অন্তত গর্ব অনুভব করতে পারবো। সেজন্য আপনাদের পাশে সবসময় থাকবো আমরা।

এর আগে প্রকল্পের বিভিন্ন চিত্রপ্রদর্শনী ঘুরে দেখেন অতিথিরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন আইইবি, আইএবি ও বিআইপি’র সভাপতিসহ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা।

কালের আলো/ডিএস/এমএম

Print Friendly, PDF & Email