বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য ও মুজিব কর্নারে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, এসএসএফ’র জন্য দোয়া-আশীর্বাদ

প্রকাশিতঃ 10:06 pm | March 27, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

শিল্পীত রং-রেখার ছবি নয় মোটেও। মুক্তির অগ্নিপুরুষের অভিব্যক্তিই আলো ছড়াচ্ছে আবক্ষ ভাস্কর্যটিতে। বাঙালি জাতির চির আরাধ্য পুরুষের চোখজোড়ায় যেন আধুনিক সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন। বাঙালির প্রাণপ্রিয় মহান নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অসাধারণ এমন এক প্রতিকৃতিতে।

বিখ্যাত একজন ভাস্কর্য শিল্পীর সৃজনে এভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে বাঙালি জাতির এই অবিসংবাদিত নেতাকে। শুধু কী তাই? স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করার মধ্যে দিয়ে বাঙালি জাতিকে উন্নত করার স্বপ্ন টুঁটি চেপে ধরা হয়েছিল।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আগুয়ান সতের কোটির বাংলাদেশ। উদ্দীপ্ত কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও আনুগত্যের মাপকাঠিতে বারবার কঠিন সব চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ আধুনিক ও সুসজ্জিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। ফলে বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করে শ্রদ্ধা-ভালোবাসার এমনই এক আবক্ষ ভাস্কর্য ঠাঁই করে নিয়েছে এসএসএফ কার্যালয়ের মুজিব কর্নারে।

শুধু কী তাই? স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে তৈরি করা হয়েছে ‘মুজিব কর্নার’। ৫১ তম মহান স্বাধীনতা দিবসের ঠিক পরের দিন রবিবার (২৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়স্থ এসএসএফ সদর দপ্তরে সশরীরে হাজির হয়ে কর্নারটির উদ্বোধন করেছেন চতুর্থ মেয়াদে সরকারপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকন্যা এসএসএফ সদস্যদের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ জানিয়েছেন।

ইতিহাসের অনেক তথ্য মুজিব কর্নারে স্থান পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। এসএসএফ’র দায়িত্ব পালন করতে আসা সদস্যরা এর মাধ্যমে একদিকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবেন অন্যদিকে বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলার প্রেরণা পাবেন, বলেও মনে করেন সরকারপ্রধান। ইতিহাসের শিক্ষা থেকেই আমরা আগামী দিনের ভবিষ্যতটা আরো উজ্জ্বল করতেও তিনি প্রেরণার দ্বীপশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছেন নব আলোয় উদ্ভাসিত প্রতিটি সদস্যের মন-মননেও।

দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনের নানা সময়ের আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে এসএসএফ’র মুজিব কর্নারে। রয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লেও। জাতির পিতার রচিত বইয়ের পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর রচিত নানা ধরনের বই আলোকময় দ্যুতি ছড়াচ্ছে এই কর্নারটিতে।

স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো.মজিবুর রহমান বহুমাত্রিক তাৎপর্যবহ নান্দনিক মুজিব কর্নারটির স্বাপ্নিক। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন ‘বাঙালি জাতির ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রয়ে গেছেন অফুরান প্রেরণার উৎস হয়ে। বাঙালী জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখানো ও তা বাস্তবে রূপদানের দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা অমর হয়ে রয়েছেন।’ এর আগে এসএসএফ ডিজি মেজর জেনারেল মজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এসএসএফ’র ৩৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও অনিন্দ্য সুন্দর একটি আলোকচিত্র উপহার দিয়েছিলেন।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিব কর্নারটি ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিলো, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। আসলেই ইতিহাস সব সময় প্রতিশোধ নেয়। সত্যকে মুছে ফেলা যায় না, আজকেই সেটাই প্রমাণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও জয় বাংলা নিষিদ্ধ ছিল। মুক্তিযুদ্ধের কয়েকটি গান ছিল, যে গানগুলো আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিত, সেগুলো ছিল নিষিদ্ধ। কোথাও বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকলে, সেটা হয় কাগজ দিয়ে বন্ধ করা হতো, না হয় আঙুল দিয়ে ঢেকে রাখা হতো। দেশের মূল ইতিহাসটাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর প্রবাসে ছিলাম রিফিউজি হিসেবে, কিন্তু নাম-পরিচয়টা দিতে পারেনি। কারণ, নিরাপত্তার স্বার্থে যে দেশে আশ্রয় নিয়েছিলাম, তাদের এটাই ছিল নির্দেশ। এই শোক-কষ্ট সহ্য করা কতো কঠিন। তারপরও আমার জীবনের একটা প্রতিজ্ঞা ছিল। জীবনে একদিন না একদিন সময় আসবে। কারণ এতো আত্মত্যাগ কোনো দিন বৃথা যেতে পারে না।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আজকে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কেননা ২১ বছর আমাদের বিজয়গাঁথা মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, নতুন প্রজন্মের অনেকে সে ইতিহাস জানতেই পারেনি। আজকে তা আবার ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন সরকারে থাকার ফলে বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সমগ্র বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে মর্যাদার চোখে দেখে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বেও অনেক দেশ এখন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদ্যের ভূমিকার প্রশংসা করে। বিদেশি অতিথিরা দেশে এলে তাঁদের নিরাপত্তায় থাকা এসএসএফ সদস্যদেরও ভূয়সি প্রশংসা করে থাকেন।’

প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের জন্য তাঁর দোয়া ও আশির্বাদ জানিয়ে বলেন, তিনি যখন দোয়া করেন শুধু নিজ পরিবারের জন্যই নয়, সহকর্মী এবং দেশবাসীর জন্যও দোয়া করেন। বিশেষ করে যাঁরা তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন তাদেরও মঙ্গল কামনা করেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের দেশ অনেক রক্তপাত ও ত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে তা যেন বৃথা না যায় সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

কালের আলো/পিএম/এনএল

Print Friendly, PDF & Email