বেশি যক্ষ্মারোগী ঢাকায়, কম ময়মনসিংহে

প্রকাশিতঃ 9:34 pm | March 24, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

দেশে গত এক বছরে সর্বোচ্চ যক্ষ্মা রোগী ৮০ হাজার ১৩৭ জন শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং সর্বনিম্ন ১৯ হাজার ৪৭ জন শনাক্ত হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে নতুন ৩ লাখ ৭ হাজার ৪৪৪ জন যক্ষ্মারোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এই রোগের নিরাময়ের হার গত ১০ বছর ৯৫ শতাংশের বেশি। ২০২১ সালে ছিল ৯৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। যক্ষ্মায় ২০১০ সালে প্রতি লাখে মৃত্যু ছিল ৫৪ জন। বর্তমানে তা কমে ২৭ জনে এসে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেশের বিভাগীয় শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ঢাকায় ৮০ হাজার ১৩৭ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৬০ হাজার ২২ জন, খুলনায় ৩৯ হাজার ৭৯৬, রংপুরে ৩১ হাজার ৭০৮, রাজশাহীতে ২৯ হাজার ৩৩৫, সিলেটে ২৫ হাজার ৯১৮, বরিশালে ২১ হাজার ৪৮১ এবং ময়মনসিংহে ১৯ হাজার ৪৭ জন।

জানা গেছে, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ উন্নত ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দেশব্যাপী সরবরাহ করেছে। এসব যন্ত্রের মধ্যে রয়েছে- জিন এক্সপার্ট মেশিন, এলইডি মাইক্রোস্কোপ, লিকুইড কালচার, এলপিএ ও ডিজিটাল এক্স-রে। এসব আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে ড্রাগ সেনসিটিভ ও ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট উভয় প্রকার যক্ষ্মার প্রায় ৮৩ শতাংশ রোগী শনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া একটি ন্যাশনাল রেফারেন্স ল্যাবরেটরি ও পাঁচটি রিজিওনাল রেফারেন্স ল্যাবরেটরির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগ শনাক্ত করা হয়।

দেশের সরকারি ৪৪টি বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, সাতটি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতল, সদর হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তর্বিভাগ, বহির্বিভাগ ও এনজিও ক্লিনিকে যক্ষ্মার চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের ৩০টি সর্বাধিক যক্ষ্মায় আক্রান্ত দেশের একটি। ১৯৯৩ সালে এই রোগের ভয়াবহতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যক্ষ্মাকে গ্লোবাল ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে।

চিকিৎসকদের মতে, জন্মগতভাবেই দেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ যক্ষ্মার জীবাণু বহন করে। তবে বাহক এই রোগে আক্রান্ত হবে বিষয়টি এমন নয়। জীবাণুর ধারক নিজে আক্রান্ত না হলেও তার মাধ্যমে অন্যের শরীরে যক্ষ্মা ছড়াতে পারে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের এই জীবাণুতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদেরই এই রোগ বেশি হয়। এছাড়া পরিবেশ দূষণ, দরিদ্রতা, মাদকাসক্তি, অপুষ্টি যক্ষ্মার হার বাড়ার অন্যতম কারণ।

কালের আলো/এমএইচ/কেআর

Print Friendly, PDF & Email