হোঁচট খেয়েছে ১০০ পুরনো মিটারগেজ কোচ মেরামতের পরিকল্পনা!

প্রকাশিতঃ 11:12 am | March 24, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

মোট ৯০৭ টি মিটারগেজ কোচ রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে। ৫০০ যাত্রীবাহী কোচ ৩৫ পেরিয়েছে আরও আগেই। সুবিধার নয় বাদ বাকী ৪০৭ টি কোচও, যেগুলো রেলওয়ের চোখে রীতিমতো ‘ঝুঁকিপূর্ণ’। যাত্রীসেবার সন্তোষজনক করার পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়ানোসহ তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এমন ১০০ পুরনো মিটারগেজ কোচ মেরামতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়। এজন্য ব্যয় নির্ধারণ হয়েছিল ৭৬ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা।

কিন্তু বাজারে মেরামত যন্ত্রাংশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ওই উদ্যোগ বাস্তবায়নে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি সংশোধনের কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি পুরনো কোচ মেরামতের চেয়ে নতুন কোচ কেনা হলে এতো বাড়তি অর্থ যেমন গুণতে হতো না তেমনি বর্তমান অচলাবস্থাও তৈরি হতো না। এখন উল্টো মেরামত যন্ত্রণাংশের দামের উর্ধ্বগতি নতুন এক বিড়ম্বনায় ফেলেছে রেল কর্তৃপক্ষকে।

যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, যাত্রী চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক কোচ ওভার-সিডিউল চলাচল করছে। কোচগুলোর অবস্থাও বেহাল হয়ে পড়েছে। এটি নিরাপদ ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুঁকি কাটানোর পাশাপাশি যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি ও রেলের সক্ষমতা বাড়াতেই কোচ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী মিটারগেজ ১০০ কোচ মেরামতের একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিটি কোচ মেরামতে ব্যয় নির্ধারণ হয় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এসব কোচ মেরামত করা সম্ভব হলে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতো। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ও করা হলেও মেরামত যন্ত্রাংশের উর্ধ্বগতিতে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, ওই উদ্যোগ নেওয়ার সময় ২০১৮ সালের বাজার দরের ভিত্তিতে কোচ মেরামতের প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। দুই বছর আগের মূল্য ধরার পর আবার শুরু করা হয় ২০২০ সালে। যথাসময়ে মেরামতের উপকরণ সরবরাহ না করার কারণে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যে কারণে নির্ধারিত দামে যন্ত্রাংশের উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে না।

সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক বিভাগের মালামালের স্পেসিফিকেশনে পরিবর্তন। এই পরিস্থিতিতে বাজার দর পর্যালোচনা করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে সংশোধনী আনার সম্ভাবনাও জোরালো হয়ে উঠছে।

মেরামত সামগ্রীর মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রীতিমতো জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) মো. মঞ্জুর-উল আলম চৌধুরী। তিনি জানান, কোচগুলো ৩০ থেকে ৩৫ বছরের পুরনো। আবার এই পুরনো কোচ মেরামতও অনেক ব্যয়বহুল। বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণেই এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে প্রতিটি পুরনো কোচ মেরামতে যে পরিমাণ ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে সহজেই নতুন কোচই মিলতো। নতুন কোচ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলে অহেতুক এমন জটিলতার মুখে পড়তে হতো না।

সূত্র জানায়, এখন বাজার দর পর্যালোচনা কমিটির মাধ্যমে বর্তমান বাজার মূল্যের ওপর ভিত্তি করে দাফতরিক প্রাক্কলন পুনঃনির্ধারণ ও ক্রয় প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদনক্রমে ডিপিপিতে প্যাকেজের ক্রয় পদ্ধতি, পরিমাণ, প্যাকেজ, লট ও প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email