উন্নত দেশের উপযোগী আধুনিক পুলিশ; স্বপ্নপূরণে ৫ নীতিতে অবিচল আইজিপি

প্রকাশিতঃ 9:23 pm | March 23, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

স্বপ্ন উন্নত দেশের উপযোগী আধুনিক পুলিশ। ২০৪১ সালের আগেই স্বপ্নপূরণে নিজেদের পরিবর্তনের ওপরই জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার)। ৫ নীতির পুরোপুরি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গুটিকয়েক সদস্যের অপকীর্তির অন্ধকার ছায়ামুক্ত করতে চান, বদলে দিতে চান পুলিশকে। নিজের স্বপ্নের পূর্ণতার লক্ষ্যেই অবিচল থেকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ব্যপ্ত করেছেন বিজয়ী হওয়ার মানসিকতাকেই।

‘ক্রিমিনালের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী, নিজেরা ক্রাইম করার জন্য নয়’-সুস্পষ্ট উচ্চারণের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন অপরাধ করে পুলিশে থাকার দিন শেষ। সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশের কোন সদস্য ক্রাইমের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে বাহিনী থেকে বের করে দেওয়া হবে। দৃঢ়তার সঙ্গেই বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা নিজে ক্রাইম করবো না, সিনিয়র, জুনিয়র কোন সহকর্মীকে ক্রাইম করতে দিবো না।’

বুধবার (২৩ মার্চ) সকালে যশোর পুলিশ লাইন্সে খুলনা রেঞ্জের সকল পুলিশ ইউনিটের বিভিন্ন পদবির অফিসার ও ফোর্সের সাথে এক বিশেষ কল্যাণ সভায় আবারও ২০৪১ সালের উন্নত দেশের আধুনিক পুলিশ হওয়ার স্বপ্নই দীপ্যমান করেছেন প্রতিটি সদস্যের চোখের তারায়। বলেছেন- ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ পুলিশকেও উন্নত দেশের উপযোগী আধুনিক পুলিশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।’

আবার, বদলে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় করোনাকালে পুলিশ বাহিনীর মহাকাব্যিক অবদানকে তিনি প্রস্ফুটিত করেছেন মোটা দাগে। আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখা অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলার মাধ্যমে নিজ বাহিনীর সম্মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধে পাকিদের প্রথম প্রতিরোধ গড়া পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতেই কঠিন এক সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছেন ড.বেনজীর আহমেদ। প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের মস্তিষ্কে গেঁথে দিচ্ছেন ‘চেঞ্জ এজেন্ট’ হওয়ার বার্তা। সব অপবাদ ঘুচিয়ে ভালো কাজে ‘বেস্ট অব দি বেস্ট’ হতে বলেছেন। যেমনটি তিনি করে দেখিয়েছিলেন র‌্যাব ডিজি এবং ডিএমপি কমিশনার হিসেবেও।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুমাত্রিক প্রাজ্ঞময় দিকনির্দেশনায় ২০৪১ সালের উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতেই নিজের লক্ষ্য স্থির করে বাস্তবিক অর্থেই কঠিন এক চ্যালেঞ্জকেই হাসিমুখে আলিঙ্গণ করেছেন আইজিপি। বারবার নিজেদের পরিবর্তন হতে বলছেন দেশ, সমাজ ও পরিবারের জন্য।

জঞ্জাল পরিস্কারের মাধ্যমে জনগণের পুলিশ গড়ে তুলতে আলোকবর্তিকার মতোই প্রতিনিয়ত প্রত্যয়দীপ্ত অঙ্গীকারে উদ্বেলিত করে চলেছেন নিজ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে। দুর্নীতি রুখতে পুলিশের সব সদস্যকে হুইসেল ব্লোয়ার (বাঁশিওয়ালা) হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক। আলোকবর্তিকার মতোই নিজেকে জ্বলজ্বল করছেন প্রতিটি সদস্যের চিত্তে।

পুলিশের আধুনিকায়নের ধারার সূত্রপাত
পুলিশের আধুনিকায়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে যশোর পুলিশ লাইন্সে খুলনা রেঞ্জের সকল পুলিশ ইউনিটের বিভিন্ন পদবির অফিসার ও ফোর্সের সাথে এক বিশেষ কল্যাণ সভায় আইজিপি বলেন, ‘ইতোমধ্যে পুলিশে সর্বাধুনিক টেকটিক্যাল বেল্ট, বডি ওর্ণ ক্যামেরা ইত্যাদি যুক্ত হয়েছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে এবং জনগণকে উন্নত সেবা দেযার লক্ষ্যে আগামীতে পুলিশের আধুনিকায়নে যা যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে।’ খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খ. মহিদ উদ্দিন সভায় সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন যশোর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) প্রলয় কুমার জোয়ারদার।

পুলিশের নিয়োগ পদ্ধতির সংস্কারের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর পর পুলিশের কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট পদে বিদ্যমান নিয়োগ বিধি সংস্কার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কনস্টেবল পদে জব মার্কেট থেকে ‘বেস্ট অব দি বেস্ট’ প্রার্থী নিয়োগ করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

মানুষের সাথে অমানবিক ও অপেশাদার আচরণ না করার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়ে ড.বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘মানুষের সাথে অপেশাদার আচরণ করা যাবে না।’

বাংলাদেশ পুলিশ এখন ‘ফ্রন্টলাইন হিরো’
করোনাকালে পুলিশের মহাকাব্যিক অবদানের কথা উল্লেখ করে পুলিশপ্রধান বলেন, করোনা মোকাবেলায় পুলিশ কখনও এক মুহূর্তের জন্যও দায়িত্ব পালনে পিছপা হয়নি। প্রথমদিকে পুলিশের সুরক্ষা সামগ্রী ছিল না, পিপিই ছিল না, তবুও পুলিশ দেশ ও জনগণের সেবায় প্রথম দিন থেকেই আত্মনিয়োগ করেছে।

করোনাকালে দেশমাতৃকার সেবায়, দেশ ও জনগণের জন্য আমাদের ১০৬ জন সহকর্মী আত্মোৎসর্গ করেছেন। ২৭ হাজার পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। নিজেদের দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে পুলিশ মানুষকে সেবা দিয়েছে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ পুলিশকে ফ্রন্টলাইন ফাইটার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ এখন ‘ফ্রন্টলাইন হিরো’।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে প্রথম বুলেট নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে পুলিশ জনগণের আস্থা, ভালবাসা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। আবার করোনাকালে পুলিশ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। জনগণের এ বিশ্বাস, আস্থা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমাদের সকলকে এ কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সবাই মিলে পুলিশ বাহিনীর সম্মান বাড়াতে হবে। পুলিশ বাহিনীর সম্মান বাড়লে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মান বাড়বে।

পরে আইজিপি যশোর পুলিশ হাসপাতাল, ইন্সপেক্টর কোয়ার্টার, চৌগাছা, যশোর এবং পুলিশ অফিসার্স মেস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। তিনি যশোর জেলা পুলিশের মাল্টিপারপাস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email