সংক্রমণের হার ২০.৮৮ শতাংশ, পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার শঙ্কা ডিজির

প্রকাশিতঃ 4:53 pm | January 17, 2022

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালের আলো:

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

তিনি বলেছেন, বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রমণের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আজ শনাক্তের হার আমরা দেখতে পেয়েছি ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশে চলে এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই ডেল্টায় আক্রান্ত। তবে ওমিক্রনও ছড়িয়েছে।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কোভিড-১৯ এর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আায়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডিজি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে ওমিক্রনের সংক্রমণ আগের তুলনায় বাড়লেও এখনো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি। আইইডিসিআর (সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান) এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে করোনা আক্রান্ত রোগীদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীই ৮০ শতাংশ।

স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, রাজধানী ঢাকায় ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। সে তুলনায় অন্যান্য বিভাগে কম। ফলে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ সরকারি ১১ দফা নির্দেশনা মেনে না চললে পরিস্থিত আরও খারাপ হতে পারে।

তিনি বলেন, এখন যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের অধিকাংশই টিকা নেননি। এছাড়া কো-মরবিডিটির (ক্যান্সার, হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপজনিত) কারণেও মারা যাচ্ছে। দেশে এ পর্যন্ত ওমিক্রনে মোট কতজন মারা গেছে, এ সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

খুরশিদ আলম বলেন, চলতি বছরে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ টিকা নেননি এবং বাকিদের ক্যানসার ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়েবেটিকস ছিল। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকায় ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। সে তুলনায় অন্যান্য বিভাগে কম। ফলে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ সরকারি ১১ দফা নির্দেশনা মেনে না চললে পরিস্থিত আরও খারাপ হতে পারে।

এ সময় গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী, স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও করোনার সংক্রমণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১২-১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এরপর যেসব স্থানে জনসমাগমের আশঙ্কা আছে, সেখানে কর্মরতদের টিকার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও টিকা কেন্দ্রে এলে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, শুধু পরীক্ষা ও শনাক্ত করলেই চলবে না। রাজধানীসহ সারাদেশে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে বহু মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করছে। এতে করোনার সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কালের আলো/এসবি/এমএম

Print Friendly, PDF & Email