গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা-সংঘর্ষ, আহত ১৫

প্রকাশিতঃ 9:35 pm | November 04, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

ঢাকার উপকন্ঠে সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্থানীয় একপক্ষের সঙ্গে গণস্বাস্থ্য কর্মীদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। তাদের সাভারে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনের সামনে এ সংঘর্ষ-ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি নিজেদের দাবি করে রোববার বিকেলে পিএইচএ ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন মোহাম্মদ আলী ও নাছির উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জমির দাবিদার নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ফিরে যাচ্ছিলাম। এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে লোকজন এসে হামলা করে।’

তবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ কবির আহমদ বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে মোহাম্মদ আলী ও নাছির উদ্দিনসহ কয়েকজন ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তারা ডা. জাফরুল্লাহকে গ্রেফতারের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা লাঠিসোটা নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভাঙচুর চালায়।’

‘সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেন কবির আহমদ।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডা. নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘নিজের ঘর রক্ষা করার জন্য তাদের প্রতিহত করা হয়েছে। কেউ হামলা করতে এলে তো বসে থাকা যায় না।’

এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আশুলিয়া থানা পুলিশ।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, ‘কাদের দোষ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত ২৬ অকেটাবর প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালিয়ে তা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার দুই বাদী মোহাম্মদ আলী ও নাছির উদ্দিনের লোকজন।

তবে গণস্বাস্থ্যের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের ধাওয়ার মুখে তারা পিছু হটে। হামলাকারীদের হামলায় হাত ভেঙে যায় র্যা বের গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেনের। ছাত্রী হোস্টেলে হামলা ও ছাত্রীদের সঙ্গে হামলাকারীদের অশালীন আচরণের প্রতিবাদ ও মুঠোফোনে ছবি তোলার সময় লাঠি দিয়ে পিটিয়ে লিমনের ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়।

নানা ঘটনার ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী ও তার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাছ ছুরি, ফল চুরিসহ ছয়টি মামলা দারের করা হয়েছে।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে সেনাপ্রধান সম্পর্কে অসত্য বক্তব্য দেওয়ায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। গত ১২ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মেজর এম রাকিবুল আলম একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই সাধারণ ডায়েরিটি পরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণ করে ডিবিকে তদন্তের নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দাবি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এনএম

Print Friendly, PDF & Email