সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 2:32 pm | November 01, 2018

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

সুন্দরবনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দস্যুমুক্ত এলাকা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৫৬টি জেলায় ৩২১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের এক লাখ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন থেকে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত। আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছে। আমরা তাদের এক লাখ করে টাকা দিচ্ছি। তারা নিজ নিজ গ্রামে কাজ করে খেতে পারবে। পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে পারবে।’

দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী র‍্যাব, পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

পরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সুন্দরবনের ছয়টি দস্যু বাহিনী বাগেরহাটের শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। সেখানে স্বারষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণ করা সাবেক জলদস্যুদের পুর্নবাসনের আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। সর্বশেষ ছয়টি জলদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ৫৪ সক্রিয় সদস্য ৫৮টি অস্ত্র ও ৩ হাজার ৩৫১টি গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

র‌্যাব জানায়, ইতোপূর্বে মোট ২৬টি বাহিনীর সর্বমোট ২৭৪ জন জলদস্যু, বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা ৪০৪টি অস্ত্র এবং ১৯ হাজার ১৫৩ রাউন্ড গুলি জমা দেয়।

এর আগে নবনির্মিত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ১০২টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিতকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বিদ্যুৎ সম্পর্কিত দু’টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সর্বমোট ২০টি মন্ত্রণালয়ের ৫৬টি জেলায় ৩২১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

নতুন সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো

বড়পুকুরিয়া ২৭৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, ব্রাহ্মণগাঁও ১০০ মেগাওয়াট এইচএসডিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, আওরাহাটি ১০০ মেগাওয়াট এইচএসডিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কড্ডা ১৪৯ মেগাওয়াট এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানগাঁও ৩০০ মেগাওয়াট এইচএসডিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিরাজগঞ্জ ১৪১ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং টেকনাফ ২০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র।

শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা উপজেলাগুলো হলো

নবাবগঞ্জ, দোহার, কাশিয়ানী, মুকসেদপুর, গোপালগঞ্জ সদর, মিঠামইন, তাড়াইল, ইটনা, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ সদর, বাজিতপুর, শ্রীমঙ্গল, নাটোর সদর, নলডাঙ্গা, গুরুদাসপুর, পুঠিয়া, চারঘাট, বাঘা, তানোর, চিতলমারী, চৌগাছা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিকরগাছা, কেশবপুর, জীবননগর, দামুরহুদা, পিরোজপুর সদর, হরিরামপুর, সাটুরিয়া, ঘিওর, আত্রাই, মহাদেবপুর, রাণীনগর, নিয়ামতপুর, ঝালকাঠি সদর, রাজাপুর, পাবনা সদর।

বিশ্বনাথ, গোলাপগঞ্জ, জৈন্তাপুর, বালাগঞ্জ, ডুমুরিয়া, ফেনী সদর, কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, ফুলবাড়ী, কাহারুল, রামগঞ্জ, রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, বিজয়নগর, কসবা, বাঞ্চারামপুর, চান্দিনা, ব্রাহ্মণপাড়া, লালমাই, তিতাস, মেঘনা, হোমনা, দাউদকান্দি, নাঙ্গলকোট, বুড়িচং, লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম, চাটখিল, সোনাইমুড়ি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, তারাগঞ্জ, রংপুর সদর, তালা।

কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, গাংনী, দৌলতখান, তজুমুদ্দিন, সিরাজগঞ্জ সদর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, চৌহালী, মাদারীপুর সদর, নীলফামারী সদর, কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর, শরীয়তপুর সদর, ডামুড্যা, চাঁদপুর সদর, শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ, হাইমচর, সোনারগাঁ, নন্দীগ্রাম, সোনাতলা, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া সদর, কাহালু, আদমদীঘি, শাহজাহানপুর, চরভদ্রাসন, আলফাডাঙ্গা, মাগুরা সদর ও শ্রীপুর।

কালের আলো/এনএম

Print Friendly, PDF & Email