রামপুরায় ৯ বাসে আগুন, ইন্ধনদাতা কারা?

প্রকাশিতঃ 4:32 am | November 30, 2021

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালের আলো :

রাজধানীর রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. মাইনুদ্দীন ইসলাম দুর্জয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আগুন দেওয়া হয়েছে ৯ টি বাসে। সোমবার (২৯ নভেম্বর) রাত ১০ টার দিকে ঘটে এসব ঘটনা।

নিহতের সহোদর ভাই নিজেও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জানিয়েছেন ইন্ধনদাতারাই আগুন দেওয়ার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। তার এই সরল স্বীকারোক্তিতে রামপুরার বাসে আগুন সন্ত্রাসের ঘটনা নিয়েছে নতুন মোড়।

দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে ২০১৩-২০১৪ স্টাইলে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি এই ঘটনা ঘটিয়েছে কীনা এমন প্রশ্নও সামনে এসে চলেছে। বিশেষ করে নিহতের সহোদর ভাইয়ের বক্তব্য এই বিষয়টিকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

নিহতের ভাই পুলিশের তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে সন্তোষ প্রকাশ করে গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই ঘটনা কিভাবে ঘটলো, কেন ঘটলো তা আমরা তদন্ত করে দেখছি।

তিনি জানান, চাপা দেওয়া সেই অনাবিল পরিবহনের চালক ও হেলপারকে আমরা আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

বাস চাপায় নিহত মাইনুদ্দিন স্থানীয় একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার বাবার নাম মো. আব্দুর রহমান। পূর্ব রামপুরার তিতাস রোডে ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো সে।

এর আগে রাত সোয়া ১০টার দিকে রামপুরা ব্রিজের কাছে সড়কে রেইস করছিলো রাইদা ও অনাবিল পরিবহন নামের দুই বাস। রাইদা পরিবহনের একটি বাসে উঠতে চায় মাইনুদ্দিন। এ সময় হেলপার তাকে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেলে দিলে পেছন থেকে অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় একরামুন্নেসা স্কুলের এই শিক্ষার্থী মারা যায়। খবর ছড়িয়ে পরলে অন্তত আটটি বাসে আগুন দেয়। আরও ৮/৯ টা গাড়িতে ভাংচুর তান্ডব চালায়।

পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে অপারেটর জিয়াউর রহমান জানান, বাসচাপায় ছাত্র নিহতের এ ঘটনায় অন্তত ১০টি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।

গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজ শিক্ষার্থী নাঈম হাসান মারা যায় রাজধানীর গুলিস্তানে। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে ৯ দফা ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন করছে।

এর আগে থেকে এ মাসের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি হয়। এতে শিক্ষার্থীরা বাসে হাফ পাশের দাবিতে গত ১৫ দিন ধরে আন্দোলন করছে। এই আন্দোলনের সুযোগে বিএনপি-জামায়াত সহিংসু ঘটনা ঘটাচ্ছে, রামপুরায় রাতের তান্ডব এটিই প্রমাণ করেছে।

নিহত শিক্ষার্থী দুর্জয়ের সহপাঠী গণমাধ্যমকে বলেছেন, এতোগুলো বাসে আগুন বা উত্তেজনার ঘটনা ছাত্ররা ঘটায়নি। কোন একটি পক্ষ এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ছাত্ররা সন্ত্রাস নয়, তারা নিরাপদ সড়ক চায়।

কালের আলো/বিএসসি/এনএল

Print Friendly, PDF & Email