ফেরি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষ, আহত ১০
প্রকাশিতঃ 6:12 pm | January 30, 2026
নোয়াখালী প্রতিবেদক, কালের আলো:
বহুবছরের প্রতীক্ষিত হাতিয়ার স্বপ্নের ফেরি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিএনপি ও এনসিপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো মানুষ দিকভ্রান্ত হয়ে ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাট নৌপথে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নৌ-উপদেষ্টার অনুপস্থিতিতে উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী। সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে নলচিরা ঘাটের এক প্রান্ত উদ্বোধন শেষে বিকেল চারটায় সচিব অপরপ্রান্ত চেয়ারম্যান ঘাটে চলে যান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, চীপ ইঞ্জিনিয়ার ও বিআইডব্লিউটিসির কমার্শিয়াল ডিরেক্টর। এছাড়া হাতিয়া দ্বীপ সমিতির একটি প্রতিনিধি দল, সম্মিলিত সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফেরি উদ্বোধনের ফলে দ্বীপবাসীর বহু দিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। একটি নিরাপদ নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে, এবং বাস, মিনি বাস, প্রাইভেট কার ও লরিসহ সকল ধরণের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষের কারণে অনুষ্ঠানের আনন্দ নষ্ট হয়েছে।
জিহান নামের এক স্কুলছাত্র বলেন, ফেরির প্রত্যাশা আমাদের দীর্ঘদিনের। হিমেল নামের আরেক কলেজছাত্র বলেন, ফেরি চলাচল শুরু হলে দ্বীপবাসীর অনেক সুবিধা হবে। এক হোন্ডা চালক জানান, জীবনে প্রথম হোন্ডা নিয়ে ফেরিতে চলাচল করছেন। যাদের অবদানে এই কাজটি সম্পন্ন হয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তিনি।
হাতিয়া দ্বীপ সমিতির সভাপতি ডা. জাহেদুল আলম বলেন, ফেরি সার্ভিস হাতিয়ার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। পারস্পরিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে আমাদের অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফেরির চালক মাস্টার মোজাম্মেল হক বলেন, ফেরি জোয়ার-ভাটায় চলবে। নদীর নাব্যতা ভালো আছে এবং সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। ফেরির ধারনক্ষমতা ২৫০ টন।
উল্লেখ্য, দেশের মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দ্বীপবাসী বিভিন্ন সময় আন্দোলন করেছে নদীভাঙন রোধ, ফেরি সার্ভিস এবং জরুরি সেবার দাবিতে। স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়গুলো লিখিতভাবে তুলে এনেছেন।
এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ঢাকাস্থ হাতিয়া দ্বীপ সমিতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ঢাকা-হাতিয়া নলচিরা ঘাট রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ, ফেরি এবং সিট্রাক বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। বিষয়টির গুরুত্ব তুলে তৎকালীন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ ১২ মার্চ সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর ‘হাতিয়ায় উপকূলীয় নদী বন্দর স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ’ সুপারিশ পাঠান।
কালের আলো/এসআর/এএএন