করোনাকালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং উপকূল ভাবনা

প্রকাশিতঃ 10:25 am | May 20, 2020

এম. আমীরুল হক পারভেজ চৌধুরী:

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ধেয়ে আসার খবরে উপকূলজুড়ে নানা ধরনের শঙ্কা তৈরি করছে। কোয়ারেন্টাইন, লকডাউন, স্বাস্থ্যসুরক্ষা, সামাজিক দূরত্ব, শারীরিক দূরত্ব, আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা, যাতায়াত, চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয় জরুরি হয়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান একই সাথে অমাবস্যার প্রভাবের ফলে উপকূলীয় জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার-পাঁচ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাসও রয়েছে। দুর্যোগকালীন উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে যেমন রয়েছে; তেমনি করোনা আতঙ্কে নিরাপদ স্বাস্ব্যবিধি উপকূলের অধিকাংশ মানুষই জানে না। আবার কেউ কেউ পালন করতেও চান না। ফলে করোনাকালের ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় অধিকতর সুরক্ষার বিষয়ে নজর দিতে হবে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দুর্যোগের প্রতিনিয়ত আঘাতে উপকূলের কোটি কোটি মানুষের জীবন, সম্পদ, অধিকার, মর্যাদা তথা বেঁচে থাকার মানবিক অধিকারটুকু বিপন্ন হয়ে পড়ে। ১৭৯৭ থেকে শুরু করে ২০২০ সালের মে মাসের ‘আম্ফান’ পর্যন্ত সময়ের শুমার-পর্যালোচনায় মোট ৪৮৩ বার মাঝারি ও মোটা দাগের জলোচ্ছ্বাস, গোর্কি, হারিকেন, সিডর, নার্গিস, বুলবুল প্রভৃতি দুর্যোগ বাংলাদেশের উপকূলকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ১৭৩ বছরে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে ৩২৯ বার। এসেছে গড়ে ৫-১০ বছর পরপর। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের বিগত ৪৯ বছরে ১৫৪টি ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস ঘটেছে ঘন ঘন। সিডর, আইলা, রিজভি, লাইলা, মোরা, তিতলি, ফণী, নার্গিসের আঘাতে সুন্দরবন পর্যুদস্ত হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল প্রকৃতির বিরূপ আচরণের প্রথম ও প্রত্যক্ষ শিকার সবসময়।

তথ্যমতে, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দৈর্ঘ্য ৭১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে সুন্দরবন ১২৫ কিলোমিটার, নদীর মোহনা ও ছোট-বড় দ্বীপমালা ২৭৫ কিলোমিটার, সমতল ও সমুদ্রসৈকত ৩১০ কিলোমিটার। টেকনাফের নাফ নদের মোহনা থেকে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত নদী রায়মঙ্গল-কালিন্দী পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিস্তৃত বাংলাদেশের উপকূলেই দেশের প্রধান তিনটি সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দর (কাজ চলমান)। দেশের ২৫ শতাংশ জনগণ যেমন এই উপকূল অঞ্চলে বসবাস করে, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতে জিডিপির কমবেশি প্রায় ২৫ শতাংশ অবদানও এ অঞ্চলের। প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের এক-দশমাংশ এলাকা উপকূল। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাস করে গড়ে ৭৪৩ জন।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০ বছরে অন্তত ৬৫ বার হৃদয়ে দাগ কাটার মতো বড় ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। ভারত ও বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় ফণী ও সিডরের মতো শক্তি সঞ্চয় করে এগিয়ে আসছে আম্ফান। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৪ কিলোমিটার এবং ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের সর্বোচ্চ গতিবেগ ২২৩ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনায় আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ক্রমে শক্তি সঞ্চয় করে আম্ফান যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, তাতে ফণীর মতো লণ্ডভণ্ড করতে পারে দেশের উপকূল। আম্ফান যখন বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানবে, তখন বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে। তথ্য মতে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে মঙ্গলবার শেষরাত থেকে বুধবার বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি।

স্বাধীনতা লাভের পাঁচ দশকের মাথায় এসে দেশের সমাজ ও অর্থনীতিতে যত পরিবর্তন তথা সাফল্যজনিত সূচক শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, তার মধ্যে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন অন্যতম। ১৯৭১ সালে চাষাবাদযোগ্য ২৫৫ লাখ একর জমিতে ১০০ লাখ টন ধান উৎপাদিত হতো। এখন জনসংখ্যা দ্বিগুণের অধিক; প্রায় ১৮ কোটি। কিন্তু উৎপাদিত ফসল তিনগুণ। বর্ধিত খাদ্যশস্য উৎপাদন নিঃসন্দেহে খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি বা সাফল্য। এই পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিতে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষির অবদান তুলনামূলক নিম্নমুখী।

এ অঞ্চলের কৃষিখাত প্রধানত শস্য ও অশস্য (নন ক্রপ) দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথমত, বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত হওয়ার কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদন তুলনামূলক এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়নি। উজান থেকে পানি প্রবাহ কমে যাওয়া ও পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে চাষাবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেলেও চাষাবাদ পদ্ধতি-প্রক্রিয়ায় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল ততটা আসেনি, যতটা অশস্য অর্থকরী খাতে অর্থাৎ মৎস্য চাষসহ প্রাণিসম্পদ চাষ ও বিকল্প পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে এসেছে। অশস্য খাতে আপাত ব্যাপক সাফল্যের ফলে কৃষি থেকে গড়পড়তায় জিডিপিতে এখনও সমানুপাতিক হারে অবদান (২৫ থেকে ২৩ শতাংশ) রেখে চলেছে এ অঞ্চল। অশস্য খাতের এই সাফল্যকে টেকসই করা যেমন প্রয়োজন, একই সঙ্গে শস্য উৎপাদন, জমির সঠিক ব্যবহার, উপায়-উপাদান সরবরাহ, চাষ পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তির সমাবেশ, এমনকি ভূমি প্রশাসনেও সংস্কার আবশ্যক।

মোদ্দাকথা, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে, তার গতি-প্রকৃতি বিচার-বিশ্লেষণ জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উষ্ণায়নের প্রভাবক ক্ষয়ক্ষতিকে যথানিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলা করা সম্ভব না হলে সমূহ সম্ভাবনাময় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের অবদান থেকে অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতি শুধু বঞ্চিতই হবে না; সময়ের অবসরে জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এটি গোটা দেশ ও অর্থনীতির জন্য দুর্ভাবনা-দুর্গতির কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে। দেশের বিশেষ তিনটি সামুদ্রিক বন্দর, প্রাকৃতিক সম্পদের স্বর্গ সুন্দরবন, পর্যটন সম্ভাবনাসমৃদ্ধ কক্সবাজার ও কুয়াকাটাকে কার্যকর অবস্থায় পাওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন অভিযাত্রার জন্য যে কত জরুরি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সিডর ও আইলায় সুন্দরবন ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার মানুষ ও অন্যান্য প্রাণিসম্পদের ওপর যে দুর্বিষহ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়, তাতে উপকূলীয় কৃষি অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ দেখা দিয়েছে।

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু হটস্পট, জীবনমানের ওপর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা এক থেকে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। এ সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২০ কোটি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উপকূল অঞ্চলের একজন গবেষক হিসেবে ঘনঘন ভূমিকম্প, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের প্রবণতা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে ওঠা, জোয়ারের দীর্ঘস্থায়িত্ব, নদীভাঙন, মাটি ও পানিতে লবণাক্ততা, সুন্দরী গাছের মড়ক চোখে পড়ে। বাংলাদেশের ২৫ শতাংশ নাগরিক উপকূলে বসবাস করে যেমন, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতে জিডিপির কমবেশি ২৫ শতাংশ অবদান উপকূলের। জীবন-জীবিকার সাথে প্রকৃতির মেলবন্ধন উপকূলকে আরও ভাবিয়ে তোলে। উপকূলের এমন কিছু বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল রয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ বা সৌরবিদ্যুৎ নেই। এ রকম প্রান্তিক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ বা চরগুলোর মানুষের কল্যাণে বিদ্যুতের ব্যবস্থা জরুরি। নদ-নদীর ভাঙন উপকূলীয় জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। নদ-নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ শাসন প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক রাখতে পারলে উপকূল অঞ্চল জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রখতে সক্ষম হতো। উপকূলীয় নদ-নদীর ভাঙনপ্রবণ অঞ্চল চিহ্নিত করে বাঁধ নির্মাণ এবং পুরোনো বাঁধ সংস্কার জরুরি। ক্ষেত্রবিশেষ ছয় থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিটার পর্যন্ত বাঁধ উঁচু করতে হবে। উপকূলীয় বাঁধগুলো টেকসই এবং নির্মাণকাজে যথাযথ তদারকি করলে আগামী ১০০ বছরেও এ বাঁধের কোনো ক্ষতি হবে না। টেকসই বাঁধ নির্মাণে উপকূল ও উপকূলের চরাঞ্চলের জীবন ও জীবিকার গতিপথ ত্বরান্বিত হবে।

তিন মাস ধরে নভেল করোনাভাইরাসের সাথে লড়াই করে আসছে দেশের মানুষ। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আরও উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে নিঃসন্দেহে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড় শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল সুপার সাইক্লোনে পরিণত হওয়ার আভাস দিচ্ছে আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়া অফিসের সূত্রে, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদসংকেতসহ ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে। সেই সাথে ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার ঈঙ্গিত দিয়েছে। এসব জেলাসমূহে এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার-পাঁচ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আম্ফান মোকাবিলায় সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে। উপকূলীয় মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য (এক.) আশ্রয়ের জন্য নির্দিষ্ট আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি উপকূলের সকল মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সাইক্লোন সেন্টার হিসেবে ঘোষণা করে প্রস্তুত করতে হবে। (দুই.) আশ্রিতদের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও হাত ধৌত করার সাবান বা সুফি ওয়াটারের ব্যবস্থা নিতে হবে। (তিন.) প্রতিবন্ধী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পৃথক ব্যবস্থা করে তদারকি করতে হবে, (চার.) প্রতিটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডভিক্তিক হটলাইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, (পাঁচ.) প্রতিটি সাইক্লোন সেন্টারে সুরক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখতে হবে, (ছয়.) দুর্যোগ পরবর্তীতে জরুরি চিকিৎসা, যোগাযোগ ও দ্রুত বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে। (সাত.) পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় নজরদারি রাখা এবং প্রয়োজনে আশ্রিতদের স্থানান্তরে ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বুলবুলসহ বর্তমান সময়ে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ক্ষয়ক্ষতি কমে আসলেও করোনাকালীন আম্ফানকে আমাদের ভিন্নভাবেই ভাবতে হবে। ছয় মাস আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের সবুজ বেষ্টনী যেভাবে রক্ষা করেছে উপকূলের মানুষকে, এবারও তেমনটি হোক আশা করি। উপকূলের অফুরন্ত সম্ভাবনা যথাযথ কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ উপকূল গড়ে উঠুক। করোনা এবং আম্ফানমুক্ত হোক আমাদের প্রিয় দেশ।

লেখক : পিএইচডি গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চেয়ারম্যান, উপকূল ফাউন্ডেশন।

Print Friendly, PDF & Email