‘দোষারোপের’ বৃত্তে সিএমএসডি, ‘সরবরাহ’ বন্ধ হলে ‘দায়’ কার?

প্রকাশিতঃ 10:19 am | April 28, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল, কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য ল্যাব ও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিত মান অনুযায়ী পিপিই-মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এরপরেও ফুটপাথ থেকে শুরু করে নানা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীতে (পিপিই) বাজার সয়লাব হয়ে গেছে।

এসব পিপিই বা মাস্কের অধিকাংশই মানহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ। কোন না কোনভাবে এসব পিপিই বা মাস্ক অনুদান হিসেবে নিচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আবার সেটিই তুলে দেওয়া হচ্ছে দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে।

আর এখানে তৈরি হচ্ছে বিপত্তি। নিজেদের হাতে পাওয়া মানহীন সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে যারপরেনাই তারা প্রশ্ন তুলেছেন এবং যাচাই-বাছাই না করেই ঢালাওভাবে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারকে (সিএমএসডি) দায়ী করছেন।

আবার, একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের গাফিলতিতে ‘এন-৯৫’ মাস্কের একটি বক্সের ভুলকে পুঁজি করে সিএমএসডি’র দিকেই বারবার অভিযোগের আঙুল এবং চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহকারী স্বনামধন্য সব প্রতিষ্ঠানকেই একই সুরে আক্রমণ ও হেনস্থায় অতি উৎসাহী মহলের লম্ফঝম্ফ নিয়েও সন্দেহ-সংশয় তৈরি হয়েছে।

চরম সঙ্কটময় মুহুর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুরক্ষা সামগ্রী তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাগ্যে সাধুবাদের বদলে যেন রীতিমতো ‘তিরস্কার’ জুটেছে। শেষ পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানও যদি সব রকমের সামগ্রী তৈরিই বন্ধ করে দেয় সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হবে বলেও মনে করছেন অনেকেই।

জেএমআই’র ভুল; সিএমএসডি’র অ্যাকশন
সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্কের গায়ে ‘ভুল’ করে ‘এন-৯৫’ মাস্ক লিখেছিল দেশের স্বাস্থ্যসেবা অঙ্গণে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান জেএমআই। চলমান সঙ্কটে নিজেদের কর্মীদের ভুলের খেসারত গুণতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের।

মাস খানেক আগের এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহিদ উল্লাহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক ব্রিফিংয়ে স্বীকার করেন, ‘ওই মাস্ক সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক ছিল। প্যাকেটের গায়ে ‘এন-৯৫’ লেখা হয়েছিল ‘ভুল করে’।

পাশাপাশি সিএমএসডি কর্তৃপক্ষ ওই মাস্ক ফেরত দিয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই’র কাছে লিখিত জবাব চায়। নিজেদের ‘অনিচ্ছাকৃত’ এই ভুল স্বীকার করে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমসমূহেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ক্ষমা চায় জেএমআই কর্তৃপক্ষ।

ফেরত নেওয়া হয় নিজেদের সরবরাহ করা প্রায় সব পণ্যই। যা ব্যবহার হয়নি তা ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেয়া হয় সিএমএসডি।

সপ্তাহখানেক আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালককে।

প্রধানমন্ত্রীর সামনে দৃঢ়তার সঙ্গেই সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরেজ ডিপোর (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহিদ উল্লাহ নিজেদের বিতরণ করা পিপিই-মাস্ক সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেন।

কোন লুকোছাপা না করেই সাহস করে তিনি সত্য উপস্থাপন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন এবং সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের সময় নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহিদ উল্লাহ বলেছিলেন, ‘দেশের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে হয়তো আমাদের ভুল হয়ে থাকতে পারে।

এখন আমরা চাচ্ছি, এই ভুলগুলো যেন আর না হয়। সঠিকভাবে আমরা যাতে বিতরণ করতে পারি সেই উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। এজন্য আমরা সর্বাত্নক চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

মান পরীক্ষা করেই সুরক্ষা সামগ্রী গ্রহণ
গোটা বিশ্বেই ‘এন-৯৫’ মাস্কের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এই মাস্কের সঙ্কট প্রকট হয়ে উঠেছে।

দেশের কোন প্রতিষ্ঠানকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ‘এন-৯৫ মাস্ক’ তৈরির অনুমোদন দেয়নি। এমনকি সিএমএসডি কর্তৃপক্ষও কাউকে এ মাস্ক তৈরির কার্যাদেশ দেয়নি।

‘দুর্লভ’ এই মাস্কের পরিবর্তে সমমানের কেএন-৯৫, এফএফপি ২ বা পি ২ মাস্ক সংগ্রহের দিকেই বিশেষ নজর দেয় কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি)। কমপক্ষে ২০ থেকে ২২ টি গ্রুপ এসব মাস্কের পাশাপাশি পিপিই’র মতো সুরক্ষা সামগ্রীও সরবরাহ করছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত মেডিকেল ডিভাইস ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত রপ্তানিরও রেকর্ড রয়েছে।

সূত্র জানায়, সিএমএসডি কোন মানহীন গ্লাভস, মাস্ক বা পিপিই গ্রহণ করে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিএমএসডি নিজেদের কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটি দিয়ে পরীক্ষাকৃত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই), গ্লাভস ও মাস্কের মান পরীক্ষা করে।

এরপর মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই এসব উপকরণ রাজধানীসহ কোভিড-১৯ চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, ল্যাব ও মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

একই সূত্র মতে, সিএমএসডি’র বিতরণ করা সার্জিক্যাল গ্লাভস লেটেস্ট পারটিক্যালে তৈরি।

আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে ভালোভাবে তৈরি পিপিই এবং মাস্ক ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি হচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই মান যাচাই করেই বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমেই গ্রহণ করা হচ্ছে।

এসব ক্ষেত্রে কোন পক্ষপাতিত্বের সুযোগ রাখেনি সিএমএসডি। মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং মান নিয়ন্ত্রণ কমিটির মাধ্যমেই যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারসহ একটি কমিটি করা আছে।

যে কমিটি যখন যে সরবরাহটা আসে সেটা পরীক্ষা করে দেখে। ইতোমধ্যে আমরা অনেক পিপিই নিম্নমানের হওয়ার কারণে ফেরত দিয়েছি। যার পরিমাণ ১ লাখ ৭০ হাজার।’

কারা ‘খিস্তিখেউর’ করছেন?
লবিইং-দৌড়ঝাঁপ করেও কাজ না পাওয়া বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সিএমএসডি’র গ্রহণ করা সুরক্ষা সামগ্রীসমূহকে ‘মানহীন’ আখ্যা দিয়ে নানামুখী প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে।

তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন একশ্রেণির নেতা। সুবিধা করতে না পেরে তারাও ‘খিস্তিখেউর’ করে বেড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সরকারের গঠিত ‘জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি’র এক সদস্য কালের আলোকে বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিত মান অনুযায়ী পিপিই সিএমএসডি গ্রহণ করছে।

এখানে নিম্নমানের পিপিই বা মাস্ক সরবাহের কোন সুযোগ নেই। তবে দ্রুত পিপিই সংগ্রহ করতে গিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘পিপিই মান দেখতে একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটি গঠনের পর থেকে ডব্লিউএইচওর নির্দেশিত মান অনুযায়ী পিপিই সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও আরও কঠোর হয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ক্রয় বা অনুদানের পিপিইর মান পরীক্ষা করে সিএমএসডিকে অনুমোদিত তালিকার নমুনা দেওয়া হয়।

‘সিএমএসডি শুধু সেই নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রহণ করতে পারে। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সেবার ধরন অনুযায়ী সেগুলো বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া আছে। মজুদ পণ্য যাচাইয়ের জন্য তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিএমএসডি’র নির্দেশনাকে ‘গা’ করছে না
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) আহ্বানেও ‘গা’ করছে না অনেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বেশিরভাগ কর্তৃপক্ষ অসাধু প্রতিষ্ঠানের তৈরি নিম্নমানের পিপিই, মাস্কসহ অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী গ্রহণ করছেন।

এসব সুরক্ষা সামগ্রীতে সুরক্ষা না হওয়ায় চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীরা দোষ দিচ্ছেন সিএমএসডিকে। বিষয়টি ৫ দিন আগে স্পষ্ট করে সিএমএসডি।

অনলাইনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরেজ ডিপোর (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘সিএমএসডির বাইরে অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বা অন্য কারও কাছ থেকে সংগ্রহ করে তা স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে বিতরণ করছে। এসব চিকিৎসা সামগ্রী ঘিরে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।’

সিএমএসডি পরিচালক দেশের সব হাসপাতালের পরিচালকদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘উদ্বেগের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, সিএমএসডির বাইরে হাসপাতালের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়করা বিভিন্ন সামগ্রী গ্রহণ করে থাকেন।

এ ব্যাপারে অধীনস্থ চিকিৎসকরা অবহিত না। আমি অনুরোধ জানাবো, সিএমএসডি’র বাইরে যেসব সামগ্রী আসছে সেগুলোর মান যাচাই করে ব্যবহার উপযোগী কিনা, সেটি চিকিৎসকদের অবহিত করার জন্য।’

একই রকম তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানাও।

তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি, বেশ কিছু স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান অনুদান হিসেবে অন্যান্য সূত্র থেকে পিপিই গ্রহণ করেছে এবং করছে। এই ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে মানসম্মত পিপিই গ্রহণের ও যথাযথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

পিপিই-মাস্ক উৎপাদনে স্বনির্ভরতায় জোর দেওয়া জরুরি
দেশের ওষুধ শিল্পের ৯৯ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে তৈরি হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে মেডিকেল ডিভাইসের ২০ শতাংশও স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় না। বৈশ্বিক সঙ্কটের বিষয়টি মাথায় রেখেই যদি স্থানীয়ভাবে মেডিকেল ডিভাইস উৎপাদনে জোর দেওয়া যায় তাহলে আখেরে দেশেরই লাভ হবে।

এক্ষেত্রে উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করেন অভিজ্ঞ মহল। তারা বলছেন, মহামারির সময়ে হাজার কোটি টাকা খরচা করলেও পিপিই, এন-৯৫ মাস্কসহ অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী বিদেশ থেকে আমদানি করা সম্ভব নয়। চীনসহ বিশ্বের নামিসব দেশের সব ইন্ডাষ্ট্রিতেই উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

চারিদিকে সুরক্ষা সামগ্রীর জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে। ফলে নিজস্ব উৎপাদনে বাংলাদেশ জোর দিলে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে অনুপ্রেরণা জোগালে মেডিকেল ডিভাইস নিয়ে অন্য কোন দেশের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হবে না।

উদাহরণ টেনে তারা বলেন, চীন থেকে মাস্ক আনতে গেলে ব্যয় হয় ৪ থেকে ৫ টাকা। আর আনুসাঙ্গিক সব মিলিয়ে একেকটি মাস্কে খরচা পড়বে ২০ থেকে ২৫ টাকা। আর দেশেই এই মাস্ক তৈরি করা সম্ভব হলে অনেক স্বল্প মূল্যেই হাতের নাগালে মিলবে এসব মাস্ক।

কঠিন সঙ্কটে সরবরাহ বন্ধ হলে ‘দায়’ কার?
সূত্র মতে, ‘এন-৯৫’ মাস্ক নিয়ে সৃষ্ট ভুলের প্রেক্ষাপটে দেশের অনেক গণমাধ্যমেই ঢালাওভাবে পিপিই, গ্লাভস বা মাস্ক তৈরির সব প্রতিষ্ঠানেরই কঠোর সমালোচনা করা হচ্ছে।

দেশের এই ক্রান্তিকালে কোভিড-১৯’র ‘কর্মবীর’ হিসেবে সুরক্ষা সামগ্রী প্রস্তুত করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমালোচনায় নিজেদের কর্মযজ্ঞে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

ইতোমধ্যেই অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। করোনা মহামারি দীর্ঘমেয়াদী হলে একে একে সব প্রতিষ্ঠানই যদি সরবরাহ বন্ধ করে দেয় সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সঙ্কট তৈরি হলে এর ‘দায়’ কে নিবেন এ বিষয়টিও এখন ‘মিলিয়ন ডলার’ সমমানের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কালের আলো/এসএকে/এমএন

Print Friendly, PDF & Email