বাংলাদেশে করোনার চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ প্রয়োগে ভালো ফল

প্রকাশিতঃ 4:05 pm | March 25, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

চীনের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সারাবিশ্বে প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ক্রমেই মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মতো সমস্যা দেখা দেয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় সাফল্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশও ইতোমধ্যে ৩৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন। এমন পরিস্থিতি কারও দিকে কারও তাকানোর সুযোগ নেই। নিজেদের যা কিছু আছে তা-ই নিয়ে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী ওষুধ ক্লোরোকুইন ফসফেট ব্যবহার করে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় সাফল্য পাওয়া গেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী ওষুধ বারবার ব্যবহারে সুস্থ হয়েছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের গাইডলাইন অনুসারে বাংলাদেশও কভিড-১৯-এর চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক ওষুধ প্রয়োগ করেছে। তাতে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এমন ব্যক্তির চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ায় ব্যবহৃত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিন গ্রুপের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে।

আমেরিকার সরকারি রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের গবেষণার তথ্য দিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিন গ্রুপের ওষুধ করোনার চিকিৎসায় কাজ করেছে। দেশে এ গ্রুপের ওষুধ মজুত আছে। প্রায় ২০ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে। ওষুধগুলো করোনার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও সিএমএইচে দেয়া হবে। তবে কেউ এটি বাজারজাত করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন যে কেউ যত্রতত্র ব্যবহারের দরকার নেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিন জাতীয় ওষুধ করোনা সংক্রমিত ব্যক্তিদের ওপর প্রয়োগ করে পরীক্ষা-নীরিক্ষা চালাচ্ছে। এতে ভালো ফল পাওয়া গেছে। এছাড়াও সম্প্রতি জাপানও ইবোলার ওষুধ রেমডেসিভির করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করে ভালো ফল পেয়েছে।

কালের আলো/এনআর/এমএইচএ

Print Friendly, PDF & Email