মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়া

প্রকাশিতঃ 4:15 pm | March 25, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

দুই বছর দেড় মাস (৭৭৫ দিন) কারাভোগের পর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৪টার পর কারান্তরীণ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হয়। তাকে এখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য়।

জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে প্রশাসনিক আদেশে তাকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। সাজা স্থগিত হওয়া এই ছয় মাস খালেদা জিয়া তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের জিম্মায় থাকবেন।

এ সময় খালেদা জিয়াকে গ্রহণ করতে তার ছোট ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হাসপাতালের গেটে বুধবার দুপুর থেকে সমবেত হন।

কারামুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসনকে তার গুলশানের বাসা ফিরোজায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানের বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে দুই শর্তে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে তার পরিবার সরকারের কাছে নির্বাহী আদেশে মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছিল। এরপর খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার, তার বোন সেলিমা ইসলাম এবং তার বোনের স্বামী রফিকুল ইসলামও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে আবেদন জানিয়েছিলেন।

এ প্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকার নেয় বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালত ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। সেদিনই তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। তখন থেকেই খালেদা জিয়া কারাবন্দী ছিলেন।

এ মামলায় হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর এক রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া, যা আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করেন খালেদা জিয়া, সেই আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

কালের আলো/এনএল

Print Friendly, PDF & Email