কিছুক্ষণের মধ্যেই খালেদার মুক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 2:47 pm | March 25, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে যে নির্দেশনা এসেছে, তা কিছুক্ষণের মধ্যেই কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, জিও তৈরি হয়েছে। সচিব (সুরক্ষা সেবা) সই করেছেন। আইজি প্রিজন বাকি কাজটুকু করবেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত যে কাজ ছিল তা সম্পন্ন হয়েছে। আইজি প্রিজন আমার পাশে আছেন, তিনি তার কাজটা করবেন, তারপরেই তার আদেশ কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, ‘দুই বছর দুই মাস ধরে খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। দু’টি মামলায় দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাগারে আছেন। তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দাদের ব্যক্তিগত অনুরোধ ও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মুক্তি দেওয়া যায় কিনা সেজন্য আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং হয়ে আমাদের কাছে যখন আসে তখন আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নির্দেশনা চেয়ে পাঠিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই, তার বোন ও বোনের স্বামী ব্যক্তিগতভাবে মুক্তি চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী যে মানবতার নেতা, তাকে যে মাদার অব হিউম্যনিটি বলা হয় সেটা তিনি আবারও প্রমাণ করলেন।

আজ (বুধবার) তার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশনা কিছুক্ষণ আগে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। আপনার এও জানেন,যেদিন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে মারা গিয়েছিল সেদিন তারা বাড়ির গেটটি খোলার প্রয়োজন মনে করেনিনি। এও আপনারা দেখেছেন, ১৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারপারসন তার জন্মদিন পালন করেছেন। এগুলো সব উপেক্ষা করে তাদের আবেদন নিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের সেই আদেশটি আমাদের হাতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেটি কিছুক্ষণের মধ্যে কারর্যকর হতে যাচ্ছে। সচিব এখানে আছেন, আইজি প্রিজন এখানে আছেন। দুইটি শর্ত দিয়ে তার ছোট ভাইয়ের জিম্মায় তার সাজা ছয় মাসের স্থগিত করে মুক্তি দেওয়া হলো।’

মুক্তির শর্ত উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শর্ত দুটি হলো—ঢাকায় তার নিজ বাসায় থাবকেন, আর এসময় তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।’

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি রাজনীতি করবেন কেন? তিনি এখন সাজাপ্রাপ্ত দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত। তার ছয় মাসের দণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।’

শর্ত ভঙ্গ করলে তার মক্তি বাতিল হবে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বলার অপেক্ষা রাখে না।’

করোনা সংক্রমণ রোধে প্রায় লকডাউন হয়ে যাওয়া নগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসে নিজের অজান্তে আক্রান্ত হওয়ার ব্যবস্থা করবেন না। ফলে বাসার বাইরে যাবেন না।

তিনি বলেন, ‘আপনি অন্যদের ক্ষতি বা আক্রান্ত করবেন কিনা— এটা নিজের হৃদয় দিয়ে বুঝতে হবে। এটা মানবিক বিষয়, প্রত্যেককে বুঝতে হবে।’

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। সেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন গৃহকর্মী ফাতেমা। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে পাঠানো হয় খালেদা জিয়াকে। ওই বছরের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড কারাগারে গিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। এরপর ৭ এপ্রিল বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। ওইদিন কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন খালেদা জিয়া। ফের ফিরিয়ে নেওয়া কারাগারে। এরপর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করতে ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুইদিন পর ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর বিকাল পৌনে চারটার দিকে বিএসএমএমইউতে আনা হয় তাকে।

কালের আলো/এনএল

Print Friendly, PDF & Email