শহীদ মিনার অভিমুখে মানুষের ঢল

প্রকাশিতঃ 11:40 am | February 21, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলোঃ

যথাযথ মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় দেশব্যাপী মহান ভাষা সৈনিকদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে জাতি। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরের সূর্য পূব আকাশে উঁকি দেওয়ার আগেই রাজধানীর নীলক্ষেত, আজিমপুর ও পলাশী মোড় হয়ে শহীদ মিনারের দিকে মানুষের ঢল নামে। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে লাখো মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীর সব পথ যেন মিশেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ভিড়ও বাড়ছে।

একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা এক মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পরই পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁরা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি সম্মান জানান।

এ সময় বেজে ওঠে অমর একুশের গানের করুণ সুর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। এরপর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর পর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

চিফ হুইপ ও ১৪ দলের নেতাদের পর রাত ১২টা ছয় মিনিটে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া করেন।

এরপর একে একে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিকেরা, তিন বাহিনীর প্রধান, অ্যাটর্নি জেনারেল, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও ডিন, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।

এর পরই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সাধারণের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দল ও সংগঠন ছাড়াও ছাত্র, যুব, নারী, শ্রমিক, শিশু-কিশোর সংগঠনগুলো এবং শত শত মানুষ সারিবদ্ধভাবে একে একে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা জানান ভাষাশহীদদের প্রতি।

এ সময় মাইকে অমর-করুণ সুর বাজানো ছাড়াও ধারাভাষ্যকারেরা অবিরাম কবিতার পঙিক্তমালা আবৃত্তি করেন। একুশের প্রভাত ফেরিতে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষ ও শিশুদের অনেকেরই পরনে বাংলা বর্ণমালা দিয়ে আঁকা পোশাক।

কালের আলো/বিআর/এমএম

Print Friendly, PDF & Email