কেন গণপূর্ত থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে শ ম রেজাউলকে?

প্রকাশিতঃ 9:28 pm | February 14, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

মাত্র দুই মাস আগে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক পদ হারিয়েছিলেন। এরপর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। এবার তাকে করা হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।

তাকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে পূর্ণমন্ত্রী হারিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আবার পূর্ণ মন্ত্রীর অভাবে থাকা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় পেয়েছে পূর্ণ মন্ত্রী। যাকে নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত আলোচনায় চায়ের টেবিল তুঙ্গে উঠেছে তিনি শ ম রেজাউল করিম।

বিষয়টিকে অনেকেই পদাবনতি বললেও তা মানতে নারাজ শ ম রেজাউল করিম। কালের আলোকে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি বলেছেন, ‘এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যখন যাকে সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিবেন আমাদের উচিত সেই কাজ বাস্তবায়ন করা।’

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রেজাউল করিমসহ তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর রদবদলের কথা জানানো হয়েছে। সেই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

আলোচনা চলছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে সফল বা পারদর্শীতা দেখাতে পারেননি শ ম রেজাউল করিম। উল্টো এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও বিস্তর সমালোচনা হয়।

এসব কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার ওপর কিছুটা ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে তাকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোন অভিযোগ উঠেনি।

প্রধানমন্ত্রীর অসন্তুষ্ট হওয়ার পেছনে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ‘বালিশ কেলেঙ্কারি’র বিষয়টি সর্বাগ্রে আলোচিত হচ্ছে। সেই ঘটনায় গোটা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠে। এ ঘটনা সঠিকভাবে মোকাবিলাসহ যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি শ ম রেজাউল করিম।

সূত্র মতে, ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত শ ম রেজাউল করিম বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যার মতো গুরুত্বপুর্ন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন। ওয়ান ইলেভেন নামের রাজনৈতিক সিডরের সময়ে আওয়ামী ঘরনার অনেক প্রভাবশালী আইনজীবী কারাগারে থাকা শেখ হাসিনার মামলায় না লড়ে বিদেশে পাড়ি জমান।

ওই সময় অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম সেনা সমর্থিত সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শেখ হাসিনার অন্যতম আইনজীবী হিসেবে আইনি সহায়তা প্রদান করেন। এরপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলে দলীয় সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মূল্যায়ন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করেন। বিষয়টিকে সেই সময় অনেকেই চমক হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন।

তবে প্রথমবার মন্ত্রী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি শ ম রেজাউল। ফলে দপ্তর রদবদল করা হয়েছে বলেই আলোচনা চলছে। এই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতি আনতে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসন থেকে টানা দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

শরীফের বাবা প্রয়াত ভাষা সৈনিক শামসুল হক ৫ বার একই আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন। শরীফ সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হয়েই দায়িত্ব পালনে দক্ষতার পরিচয় দিয়েই প্রধানমন্ত্রীর মনজয় করেছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী তার কাঁধে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বৃহস্পতিবার (১৩ ফ্রেব্রুয়ারি) তৃতীয়বারের মতো মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হয়। গত বছরের ১৯ মে মন্ত্রিসভায় প্রথম রদবদলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ছাড়াও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বরত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়।

একই বছরের ১৩ জুলাই প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদকে পদোন্নতি দিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের গত কমিটির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরাকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে দ্বিতীয় দফায় মন্ত্রিসভায় সামান্য রদবদল আনা হয়েছিল।

কালের আলো/এসএইচএ/এমএ

Print Friendly, PDF & Email