আধুনিক-দুর্নীতিমুক্ত সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী গড়তে চান মেজর মফিজুল

প্রকাশিতঃ 7:00 pm | February 14, 2020

আশিকুল পাঠান সেতু, কালের আলো :

আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলা গড়তে চান গাইবান্ধা-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব:) মফিজুল হক সরকার। সৎ, কর্মঠ ও নিরহংকারী হিসেবে পরিচিত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন তার রাজনীতিতে আসার পেছনের গল্প।

কালের আলোর সাথে আলাপচারিতায় বলেছেন, দল তাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে এই দুই উপজেলাকে দেশের মধ্যে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবেন। তার সঙ্গে আলাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশেষ কালের আলো’র পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো।

ছাত্র রাজনীতির যাত্রা শুরু যেভাবে
কৈশোর থেকে আওয়ামী রাজনীতির সংস্পর্শে থাকা এই মানুষটি ছাত্র জীবন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। বলছিলেন, ‘রাজনীতিতে আসা একদিনের ঘটনা না। আমি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করা এই রাজনৈতিককে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদও প্রলোভন দেখিয়েছিলেন ক্ষমতার। তবে তিনি সেই লোভে পা মাড়াননি। স্মৃতি থেকে তিনি বলছিলেন, ১৯৮৭ সালে এরশাদ সাহেব আমাকে ডাকেন বলেন আর্মিতে থেকে কি করবা আমার সাথে যোগদান কর।

‘আমি লিডার হিসেবে তাকে পছন্দ করিনা কারণ তার হাত ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে রঞ্জিত। বুকে মুজিব আদর্শ ধারণ করি, আওয়ামীলীগের বাইরে যাবার কোন কারণই নেই।। যদি সেটা করতাম তাহলে ১৯৮৭ সালেই করতে পারতাম।’

আনতে চান বৈপ্লবিক পরিবর্তন
নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে মেজর (অব:) মফিজুল হক সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে তাই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারবেন বলে বিশ্বাস রাখেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর চলমান মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করা। যুবকদের কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এজন্যেই তিনি যুবকদের জন্য গ্রহণ করেছেন বিশেষ পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যুবকদের ভালোভাবে গড়ে তুলতে হবে। ভালোভাবে গড়ে তোলা বলতে বোঝাতে চেয়েছি এই যে একটা লোক পড়াশুনা করে মাষ্টার ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পন্ন করে ফেলে তখন তো আর আর গড়ে তোলার কিছু থাকে না।

‘এজন্য আমি যেটা করি সেটা হচ্ছে আমি হাই স্কুল, প্রাইমারি স্কুলগুলোতে যাই শিক্ষকদের বলি যে দেখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাদেরকে কত মর্যাদা দিয়েছেন। কেন দিয়েছেন কারণ আপনাদের যে গুরু দায়িত্ব আছে সেটা পালন করা। আপনারা কিন্তু মানুষ গড়ার কারিগর। আপনার যদি ভালভাবে মানুষ গড়তে পারেন তাহলে এই দেশ একদিন না একদিন উন্নয়ন করবেই।’

শুদ্ধভাবে কথা বলার প্র্যাকটিস থাকতে হবে
উত্তরবঙ্গের যুব সমাজ যাতে শুদ্ধভাবে কথা বলতে পারেন এজন্যেও তিনি কাজ করছেন। বলছিলেন, নর্থ বেঙ্গলের ছেলেরা যাতে ভালভাবে কথা বলতে পারে বাংলায়, ইংরেজিতে। তাদেরকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের চারিত্রিক উন্নয়ন সাধনের জন্য আমি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছি।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই জিনিসটা খুবই প্রয়োজন। কারণ এই তরুন সমাজকে কয়েকটি জিনিসের মাধ্যমে যেমন সৃজনশীল চিন্তা, অর্থাৎ এই যুবকের মনে সর্বদা চিন্তা করে কিভাবে কি করা যায়, কিভাবে ভাল কিছু করা যায়। আর একটি হল উদ্দেশ্য, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ, মূলধন। এই চারটি জিনিসের সমন্বয় যদি আমরা ঘটাতে পারি তাহলে যুবকদের জন্য ভাল কিছু করতে পারব।

এসব ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার কথা বলছেন। বাল্য বিয়ে থেকে শুরু করে বিদেশগামী দক্ষ শ্রমিকদের গড়ে তোলার কথাও বলছেন।

‘যারা দেশের বাইরে যেতে চায়, রান্না বা গাড়ি চালক হিসেবে এদেরকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। মাদকবিরোধী কর্মসূচি গ্রহণ, বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে ফের সংগ্রাম। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে তাদেরকে সতর্ক করি, বিয়ে এবং গর্ভধারনের বয়স সম্পর্কে সচেতন করি।’

‘বছরে যতবার গ্রামে যাই সবার খোঁজ নিয়ে সবার সুবিধা-অসুবিধা দেখার চেষ্টা করি। যতটুকু সম্ভব আর্থিক সহযোগীতা করি। রুয়েট এর এক ছাত্র ভর্তি হবার পর তার ল্যাপটপ কেনার জন্য টাকা প্রদান করেছি। এমন আরো অনেক গরিব শিক্ষার্থীদের অর্থ সহযোগিতা করার সামর্থ্য মহান আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে যাদের বন্যায় ঘর ডুবে গেছে বা ভেঙে গেছে তাদের জনবল ও অর্থ-সহযোগিতার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, সামাজিক রাজনৈতিক কাজের পাশাপাশি ধর্মীয় কাজেও আমি আমি আমার সামর্থ্যানুযায়ী চেষ্টা। প্রতিষ্ঠা করেছি ইসলামিয়া জামিয়া দারুল মাদ্রাসা। আমার মাদ্রাসায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মসজিদ তৈরি করছি। এটা শুধু আল্লাহর ভয়ে, *কারণ আমাদের মৃত্যুর পরে আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে। তাছাড়াও, আমাদের দেশে আলেম ও ধর্মজ্ঞানী লোকের অভাব। গ্রামে এমন মানুষ খুবই কম। মানুষ যাতে ধর্মীয় সঠিক জ্ঞান নিতে পারে এজন্যই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছি।’

যে কোন মূল্যে নেত্রীর পাশে থাকার ঘোষণা
‘আমি আমৃত্যু যা কিছুই করি না কেনো সেটা আওয়ামীলীগের সাথে থেকেই করবো। এটা আমার জন্যে বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার হবে যদি আমি আমার নেত্রীর সঙ্গে আমি দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে থাকতে পারি। মাদক নিয়ন্ত্রণ কাজে থাকতে পারি, নেত্রীর সকল স্বপ্নের সাথে থাকতে পারি সেটা আমার সৌভাগ্য যেটা আমি এমপি হলেও থাকবো না হলেও থাকবো।’

আওয়ামী রাজনীতিতে বিশ্বাস করায় হয়নি প্রমোশন
মেজর (অব:) মফিজুল হক সরকার বলেন, ‘১৯৯১ যারা ক্ষমতায় আসল তখন দুই পক্ষ সৃষ্টি হয়। অনেকেই বিএনপিতে যোগদান করে প্রফেশনের জন্য। আমাকে বলে কিন্তু আমি কোন কিছুতেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ত্যাগ করে প্রমোশনের জন্য তাদের সাথে যোগদান করিনি। তখন অনেকেরই প্রমোশন হয় শুধুমাত্র আমরই হয়নি।’

আরও যেসব পরিকল্পনা রয়েছে
‘শিশুরা যাতে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে সেজন্য খেলাধুলার ও পড়াশুনার ব্যবস্থা করতে চাই, বলছিলেন মেজর (অব:) মফিজুল হক সরকার। তিনি বলেন, ‘জনসাধারণের সাথে আমার ব্যক্তিগত এটাচমেন্ট আছে যা অন্য কোন প্রার্থীর নেই। আমি সব ধরনের মানুষকে স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে গ্রহণ করি।

কারণ আমি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম গ্রহণ করিনি। আমি আমার সীমিত অর্থনৈতিক অবস্থার ভিতরেও জনসাধারণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করেছি। আর এটা আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি আমি যেভাবে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি তার ধারেকাছেও অন্য কারো দৃশ্যমান চেষ্টা ছিলো না।

সবার জন্য সুন্দর, আধুনিক, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত এলাকা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘মত পার্থক্য আমাদের থাকবেই কিন্তু প্রত্যেকের জন্য প্রত্যেকের স্থান হৃদয়ে থাকবে।

অন্য যারা আছেন যারা আওয়ামী লীগ এর নয় বা অন্য যেকোন মানুষ তাদের জন্য ও আমার হৃদয়ে স্থান থাকবে। কারণ আমরা হিংসাত্নক রাজনীতির বাইরে হাঁটতে চাই। আমাদের নেত্রী এটা করছেন তাই আমি ও এটা করতে চাই।’

কালের আলো/এপিএস/এসএইচএ

Print Friendly, PDF & Email