সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূলেও আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 12:48 pm | February 13, 2020

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ও নিরাপত্তায় আনসার ভিডিপি সহযোগীতা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় অবহেলার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসছে আনসার বাহিনী

তিনি বলেছেন, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সহযোগিতার পাশাপাশি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বৃহস্পতিবার(১৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপির ৪০তম জাতীয় সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় জননিরাপত্তা রক্ষায় অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের কাজ করার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন: নিখাদ আনন্দে প্রধানমন্ত্রী, ‘সাহসের বাতিঘর’ উজ্জীবিত করলেন আনসার বাহিনীকে

তিনি বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হিসেবে আনসার বাহিনীকে দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকরি ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থ সামাজিক উন্নয়নে এ বাহিনীর উন্নতি করেছে বর্তমান সরকার। তাদের উন্নয়নে পদন্নতি থেকে শুরু করে আলাদা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও ঝুঁকি ভাতা চালু করা হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে আনসার বাহিনীর উন্নতি নিয়ে চিন্তা করে। ৯৮’ সালে ক্ষমতাসীন সরকারই সর্বপ্রথম গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসেবে সম্মান দেয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ৬৮ লাখ আনসার সদস্য রয়েছে। তারা দেশের অর্থনীতির চাকা সমুন্নত রাখতে ভূমিকা রাখছে।

‘এ বাহিনীর উন্নতিতে সরকার সবসময় গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ লক্ষ্যে ২টি মহিলা ব্যাটালিয়নসহ সারাদেশে ৪২টি ব্যাটালিয়ন টিম গঠন করা হয়েছে। যারা কূটনীতি থেকে শুরু করে প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদেরও নিরাপত্তায় কাজ করছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের আনসার বাহিনী শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তারা সুনাম বয়ে আনছে। সম্প্রতি বিভিন্ন খেলাধুলায় ১৪২টি পদকের মধ্যে ৫৮টি পদক তারা ছিনিয়ে এনেছে। তাই তাদের সেবা ও সাহসিকতার পদকও প্রবর্তন করা হয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। এই স্বাধীনতার সুফল বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ পাবে।

তিনি বলেন, শহরে সাধারণ মানুষ যেমন নাগরিক সুবিধা পায়, গ্রামের মানুষও সেই নাগরিক সুবিধা পাবে। প্রতিটি গ্রাম হবে শহরের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নগর।

পাশাপাশি একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

এর আগে সকাল ১০টার পর ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থে‌কে হেলিকপ্টারযোগে সফিপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। পরে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ৪০তম জাতীয় সমাবেশের কুচকাওয়াজসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪৩ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে পদক দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

১৯৮০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনসার বাহিনী গঠন করা হয়।

কালের আও/বিআর/এমএম

Print Friendly, PDF & Email