রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পর সেনাপ্রধানের সফর; বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

প্রকাশিতঃ 11:07 pm | February 11, 2020

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল ‘হিমালয় কন্যা’ নেপাল। ৫ বছর আগে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নেপাল মৃত্যুপুরীতে রূপ নেওয়ার পর প্রতিবেশী এই দেশটির জন্য উদার হাত বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সময় তাদের দেওয়া হয়েছিল নানামাত্রিক সহায়তা।

আরও পড়ুনঃ সামরিক সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-নেপাল, দুই সেনাপ্রধানের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে মহান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে নতুন লড়াই শুরু করেন তখন খাদ্য সংকটে বাংলাদেশের সহায়তায় এগিয়ে আসে বন্ধুপ্রতীম এই দেশটি।

৪৮ বছরের ধারাবাহিকতায় বন্ধুত্বপূর্ণ দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন নেপাল সফরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারী এবং প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তারা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

এসবের পাশাপাশি বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ বিনিময়, শুভেচ্ছা সফর ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র কালের আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গত শুক্রবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) ৫ দিনের সরকারি সফরে নেপাল পৌঁছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে কুশল বিনিময়কালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ

তিনি নেপালের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বর পোখরেল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাম বাহাদুর থাপা ও নেপালের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল পুর্না চন্দ্র থাপা’র সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ করেন।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সেনাপ্রধান নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারী এবং প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে নেপাল সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটও পরিদর্শন করেন। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র কালের আলোকে জানায়, নেপালের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সময় নেপালের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নানামুখী সহায়তার জন্য সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এই বিষয়ে তারা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে বলেন, ‘২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নেপাল। ওই ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা আট হাজার ছাড়ায়। আহত হয় ১৪ হাজারের বেশি মানুষ।

গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও নেপালের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল পুর্না চন্দ্র থাপা

সেই সময় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রথমে ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পাঠানো হয় বাংলাদেশ থেকে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও নানা সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁবু, ত্রিপল, পলিথিন, মাদুর, ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামসহ বিভিন্ন জিনিস পাঠানো হয় দেশটিতে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩০ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ১৩দিন নেপালে থেকে ভূমিকম্পে আহত হাজার হাজার ব্যক্তিকে সহায়তা প্রদান করে।

নেপালের প্রভাবশালী দৈনিক সমূহে বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সফরটি। দ্যা হিমালায়ান নিউজ পেপারের অংশ বিশেষ

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেপালের জন্য উদার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান এবং সেই সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

একই সূত্র জানায়, নেপাল ১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় নেপাল সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সূত্র মতে, নেপালের সর্বোচ্চ দুই নেতৃত্বকে সেনাপ্রধান বলেন, ‘নেপালের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। উভয় দেশের জন্য দুই প্রতিবেশীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ খাদ্য সংকটে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করে সেনাপ্রধান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ও মুজিব বর্ষ উদযাপন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

একই সঙ্গে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেপাল সফর এবং ২০১৯ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নেপাল সফরের মধ্যে দিয়ে সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী উল্লেখ করে নেপালের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ‘বাংলদেশের উন্নয়ন অনুসরণযোগ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্থিতিশীল রাজনীতির জন্যই অভূতপূর্ব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।’

নেপালের প্রভাবশালী দৈনিক সমূহে বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সফরটি।

কালের আলো/এমএএএমকে

Print Friendly, PDF & Email